কবির অন্তর বেদনা
শ্রী নীলকান্ত মণি
কবি৷
সে এক মানুষ৷ আমাদের জানা-চেনা৷
যদিও কেউই জানে না
তার পুরো নাম
তবুও আধখানা ভাঙ্গা চাঁদ
ঐ নাম-ই যথেষ্ট
তার
পুরো নামের যে টুকরো টা
শতাব্দী আকাশে
ভেসে রয় ভালোবেসে
সারা পৃথিবী কে
আলোকিত করে রাখে৷
সে অনির্বান৷
কিন্ত কবি পড়েছে ফাঁপরে৷
ফাঁপর টা কি!
এতো করেও কবি
কবিতার মন পারলো না ছুঁতে৷
ইচ্ছে করে
কবিতা কে জিজ্ঞাসা করে
আচ্ছা, কবিতা
শয়তান না ঈশ্বর—
সৃষ্টি করেছে কে তোমাকে!
এতে, যদি হিতে বিপরীত কিছু ঘটে
এই কথা ভেবে
সে বরাবরই পিছিয়েই আসে, সাহসে
কুলোয় নাকো তার৷
তবুও ভাবনা কি থেমে থাকে!
কবিতার মতো
তাকেও তো সামলানো দায়৷
অগত্যা, কবির অন্য যে দোসর
তার মন, মনে মনে
ডাক পড়ে তার৷ সে নিরন্তর
গড়ে ভাঙ্গে প্রশ্নের কঠিন পাথর৷
প্রশ্ন জাগে৷ তোলে ঝড়
অন্তর গভীরে৷ ভয়ঙ্কর৷
আচ্ছা, কবিতা
তোমাকে, কে দেয় যোগান অবিরত
এতো এতো কাব্যের ভাষা
শৈল্পীক স্বর!—
শয়তানের চর
নাকি ঈশ্বর প্রেরিত দেবদূত!
পাপ না পুণ্য
মঙ্গল না অমঙ্গল
আলো না অন্ধকার
স্বর্গ থেকে নেমে আসা আশীর্বাদ
নাকি নরক থেকে উঠে আসা দহন—
স্রষ্টা কে তোমার!
কবিতার মতোই কবির অন্তরও
রয় নিরুত্তর৷
কবি কি যাচ্ছে এগিয়ে ক্রমে
এই বিশ্বাসের দিকে—
কবিতা, প্রিয়তমা তার
আসক্ত সে অবৈধ প্রেমে৷
তার শরীরের লালসা, ব্যভিচার
অনাচার, বর্বর নির্মমতা
জান্তব যৌনতা পুরুষের
বিকৃত সম্পর্কের উত্তেজনা
অন্তর বুননে
বুঝি ভেতরে ভেতরে
কাজ করে৷ ঠিক বুঝতে পারে না৷
সে দেখেছে, পাপ
যতোই জটিল ও গভীর হয়েছে
উৎকৃষ্ট হয়েছে ততো-ই
কবিতার কাব্যিক অঙ্গন, অঙ্গ সুষমা৷
কবির মহাভারতের কথা মনে পড়ে৷
যেথা পাপ
যখন-ই সংকেতে কথা কয়
কবিতা যেন তখনই জন্ম লয়৷
কাব্য ও কবিতা
পাপ আর সংকেতের সংগমের ফসল৷
কবি প্রায় নিশ্চিৎ৷ তবু
তার মন বলে, ফাঁপর কাটেনি৷
সন্ধ্যা লগ্ন৷
আকাশে বাঁকা চাঁদ৷ আনন ঘিরে তার
সহাস্য অজানা বাসনা৷
কাছে সে আসে না৷ কবি নির্নিমেষ
দিগন্ত পানে চেয়ে রয়৷
অস্থির মন কবিতার
চঞ্চলতা ভরা৷ ধারা দিতে চেয়ে
বিচিত্র বয়ান, আরো চঞ্চল হয়৷
—oooXXooo—
![]()







