নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে নতুন বছর আসার আগেই বঙ্গে শীতের ‘স্পেল’ শুরু হয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসকে সত্যি করে রাজ্যজুড়ে বইছে কনকনে উত্তুরে হাওয়া। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার পারদ নিম্নমুখী, আর তার ফলেই কার্যত জবুথবু অবস্থা রাজ্যবাসীর। একদিকে সমতলে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, আর অন্যদিকে পাহাড়ে তুষারপাতের সম্ভাবনা— সব মিলিয়ে বছরের শেষে প্রকৃতির দ্বিমুখী আক্রমণে কাঁপছে বাংলা।
রেকর্ড ভাঙা পারদ পতন – এক নজরে পরিসংখ্যান
কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মরসুমের শীতলতম দিন প্রত্যক্ষ করেছে তিলোত্তমা।
-
কলকাতা: চলতি মরসুমে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ খানিকটা কম। দমদম ও সল্টলেকের মতো এলাকায় পারদ আরও কিছুটা নিচে।
-
দক্ষিণবঙ্গের জেলা: পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের দাপট সবথেকে বেশি। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। শ্রীনিকেতন ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
-
উত্তরবঙ্গ: কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও দুই দিনাজপুরে কুয়াশার দাপট বেড়েছে। দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নিচে নেমে যাওয়ায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
পাহাড়ে তুষারপাতের পূর্বাভাস
পর্যটকদের জন্য সুখবর হলেও স্থানীয়দের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া অফিসের নতুন আপডেট। বছরের শেষ ও নতুন বছরের শুরুতে দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর উঁচু এলাকাগুলোতে হাল্কা বৃষ্টি ও তুষারপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সিকিম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই বরফ জমতে শুরু করেছে, যা পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন এই অকাল শৈত্যপ্রবাহ?
আবহাওয়াবিদদের মতে, জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তুষারপাত শুরু হয়েছে। সেখান থেকেই অবাধে ঠান্ডা হাওয়া গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে। বঙ্গোপসাগরে এই মুহূর্তে কোনো বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত না থাকায় উত্তুরে হাওয়ার পথে কোনো বাধা নেই। ফলে আগামী ৪-৫ দিন এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সতর্কবার্তা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
ভোরবেলা ও রাতের দিকে ঘন কুয়াশার দাপটে দক্ষিণবঙ্গের জাতীয় সড়কগুলোতে যান চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা এই আবহাওয়াতে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বর্ষবরণের রাত কেমন কাটবে? হাওয়া অফিসের ইঙ্গিত, ৩১ ডিসেম্বর রাতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রির আশেপাশেই থাকবে। ফলে পিকনিক বা বর্ষবরণের পার্টিতে ভারী শীতের পোশাক ছাড়া বেরোনো মুশকিল হবে।
#পশ্চিমবঙ্গ #আবহাওয়া #শীতেরআমজ #কলকাতা #তুষারপাত #দার্জিলিং #আলিপুরআবহাওয়াদপ্তর #বাংলারখবর #শৈত্যপ্রবাহ #নতুনবছর২০২৬
#WestBengalWeather #KolkataWinter #ColdWave #SnowfallInDarjeeling #AliporeMetDept #WinterUpdate #BengalNews #NewYear2026 #WeatherAlert #WinterVibes
![]()






