ব্যাঙ্ক এটিএম জালিয়াতি
বাসুদেব দাশ
সভ্যতা সামনের দিকে এগোচ্ছে না পিছনের দিকে এগোচ্ছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। যে সভ্যতা এক দিন অরণ্য থেকে জন্ম নিয়ে আস্তে আস্তে নগর সভ্যতার রূপ নিয়েছিল। আজ সেই সভ্যতা আবার অরণ্যের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। অরণ্যে মিশে বাঁচতে চাইছে যান্ত্রিকতা থেকে হাঁফ ছেড়ে। বাঁচতে চাইছে টেকনোলজির কৃত্রিমতা থেকে। যেহেতু পৃথিবীর সব কিছু সাইকেলিং সিস্টেমে ঘোরে তাই হয়তো আজ মানুষের ইতিহাস ঘুরতে ঘুরতে অরণ্যে এসে পড়তে চাইছে । টেকনোলজির ডেভেলপমেন্টের ফলে এক ধারণের কৃত্রিমতা মানুষকে গ্রাস করে ফেলছে। এমন একটা পর্যায় এসে পড়েছে তাতে মানুষে মানুষে বিভেদ, বৈষম্য বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে। বিভেদের তীব্রতা, রেষারেষি, হিংসা,দ্বেষ, মারামারি, কাটাকাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ধনী দরিদ্রের ব্যবধান বেড়ে গেছে ব্যাপক হারে। এগুলো অবশ্য ধনতন্ত্রের কুফলও হতে পারে। যন্ত্র তো মানুষের খারাপ চায় না। তবে যে সব মানুষ যন্ত্রকে বুঝতে পারবে না তাদের মধ্যে কিছু বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হতে পারে। কৃত্রিম যন্ত্রকে তারা ভয় পেতে পারে। মানুষ নিজেকে সুস্থ রাখার চিন্তার চাইতে বেশি চিন্তা করে প্রতারণা করে অধিক ধন সম্পত্তি অর্জন করার বিষয়টা নিয়ে ।
টেকনোলজির ডেভেলপমেন্ট হতে হতে আজ আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্সিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এতো দিন টেকনোলজির দ্বারা আবিষ্কৃত উন্নত হাতিয়ার মানুষ নিজের হাতে ব্যবহার করে সুবিধা ভোগ করেছে। উৎপাদন বাড়াতে কাজে লাগিয়েছে। অনেক অনেক দুঃসাধ্য কাজে টেকনোলজিকে ব্যবহার করে মানুষ সফলতা পেয়েছে। অফিস আদালত থেকে শুরু করে ঘর গৃহস্তালীর সমস্ত কাজে টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে এবং দ্রুততার সঙ্গে অল্প সময়ে অধিক কাজ করতে পেরেছে। যুদ্ধের অস্র এবং অস্র চালানো সবই সর্বরাহ করছে টেকনোলজি। কিন্তু মানুষ শুধু পরিশ্রম কমিয়ে আর উৎপাদন বাড়িয়েই সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাই মানুষ এরপর ভাবতে শুরু করেছিল যে কিভাবে পরিশ্রম একদম না করে জীবন যাপন করা যায় তার একটা ব্যবস্থা আবিষ্কার করতে । মানুষ অলসতার মধ্যে জীবনের সুখ খুঁজতে শুরু করেছিল। মানুষ খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যায় যন্ত্র মানব বা রোবটকে। প্রথম পর্যায়ে রোবটকে ব্যবহার করে মানুষ তার সুবিধা নিয়েছে। টেকনোলজি আরও কিছুটা অ্যাডভান্স হবার পর মানুষ রোবটের শরীরে হাত পা দেওয়ার পর সফল ভাবে মস্তিস্ক দিতেও পেরেছে। মস্তিস্ককে ব্যবহার করার মত হাল্কা ইন্টিলেজেন্সি দিতে পেরেছে। তারপর এই রোবট নিজের মস্তিস্কর দ্বারা চালিত হয়ে মানুষেকে সব কাজে সাহায্য করতে পেরেছে । এর পরবর্তী পর্যায়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্সি এসে রোবটকে আরও পাওয়ারফুল করে দিয়েছে। সে মানুষের মত করে নিজের মস্তিস্ককে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। এতো দিন রোবট মানুষের সাহায্য নিয়ে মানুষের কাজ করে দিতে পারতো। কিন্তু আজ সে মানুষের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে মানুষের মত করে মানুষের কাজ করে দিতে পারছে। মানুষকে তার প্রয়োজন হচ্ছে না। মানুষ আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্সির উপর ভর করে পরিশ্রম মুক্ত জীবনের সন্ধান পেয়ে যেতে পেরেছে । A I এর সাহায্যে মানুষ হাত পা গুটিয়ে শুয়ে বসে থেকে জীবন কাটানোর পরিকল্পনাকে সফল করতে পারছে । মানুষ এরপর সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখতে পারবে বিশ্রামের জীবনে। সেই সেপ্নকে সফল করার জন্য মানুষের হাতে প্রচুর সময় আছে। কেউ সাহিত্য রচনা করবে, কেউ গান গাইবে, কেউ মূর্তি বানাবে আবার কেউ বা ছবি আঁকবে, কেউ খেলবে আরও বহুজন বহু রকম ভাবে স্বপ্নকে সফল করবে। মন খারাপ হলে বা যে কোন দুঃসময়ে A I এর সাথে কথা বলে সান্ত্বনা পাবার ব্যবস্থা আছে। বিপদের সময়ে বা অসুস্থ হলে মানুষ পরামর্শ নিতে পারবে এই A I এর কাছ থেকে। যে কোন বিপদে আপদে সে বন্ধুর মত মানুষকে সাহায্য করতে সে প্রস্তুত। এই হাই পাওয়ারফুল মস্তিস্ক যুক্ত রোবটই হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স যা টেকনোলজির আজকের পরিবর্তিত রূপ। যা মানুষের বহু দিনের কাঙ্খিত। মানুষ তার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই A I এর কাছ থেকে পেয়ে যেতে পারছে। A I এর দ্বারা চালিত রোবটের কর্ম দক্ষতা যেমন সুক্ষ ও নির্ভুল হয়েছে তেমনি কাজের পরিমানও বেড়েছে বহু গুণ। A I এর সাহায্য প্রাপ্ত রোবট দিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ের যাবতীয় কাজ কর্ম করাতে পারছে অতি দ্রুততার সঙ্গে এবং প্রচুর পরিমানে। উৎপাদনের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে বহু গুণ। শ্রমিকের সাহায্য দরকার পড়ছে না। শ্রমিক অসন্তোষ এবং শ্রমিক সংঘের সঙ্গে দর কষাকষি করতে হচ্ছে না। লড়াই আন্দোলনে কারখানা বন্ধ হবার বিষয় থাকছে না। বাণিজ্য জগতে একটা বিরাট সুবিধা প্রাপ্তি। ব্যবসায়ে যেমন কর্মচারী লাগছে না তেমনি অফিস আদালতেও কর্মচারীর দরকার পড়ছে না। সমাজ জীবনে মানুষের পরিশ্রম করার জায়গা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবার ব্যবস্থা এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স এর জন্য। আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সকে পরিচালনা করার জন্য অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ হলেই চলে যায়। এ আই (A I ) পুরোপুরি আসার পর মানুষ আর তার পরিশ্রম ও বুদ্ধি খাটিয়ে যন্ত্র ব্যবহার করবে না। যন্ত্র বা হাই পাওয়ারফুল রোবট মানুষের সব কাজ নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে করে দেবে। মানুষ রোবটের কাছ থেকে শুধু সুবিধা নেবে আর হারাবে নিজের পরিশ্রম করার ক্ষমতা। হ্রাস পাবে নিজের চিন্তা শক্তি বা বুদ্ধি। পরিশ্রম না করে করে মানুষের দেহের আকার বা আকৃতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। আজকের এই আকৃতিটা হয়তো নও থাকতে পারে। খর্ব কায় হয়ে যেতে পারে মানব দেহের আকৃতি। মানুষের চিন্তা ভাবনা বা মনন শক্তিরও আমূল পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
সমাজ জীবনে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে এই A I চালিত সমাজে । প্রচালিত রাষ্ট্র ব্যবস্থাতেও বিরাট বরিবর্তন আসতে পারে। রাষ্ট্র নীতি পাল্টে যেতে পারে। আজকের রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে অকেজো হয়ে যেতে পারে। ধনতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রয়োজিনীয়তা ফুরিয়ে যেতে পারে। সাম্রাজ্যবাদী মনো ভাব মানুষের মধ্যে থেকে উধাও হয়ে যেতে পারে। সব মানুষ একটা উনিভার্সাল লেভেলে চলে আসতে পারে। ধনতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জায়গায় একটা নতুন কোন উন্নত রাষ্ট্র ব্যবস্থা আসতে পারে । নতুন ব্যবস্থায় প্রয়োজন মত উৎপাদন বাড়তে পারে এবং উৎপাদিত সামগ্রী বন্টনের পদ্ধতিও পাল্টে যেতে পারে। এতো দিন মানুষ কাজ করতো আর তার বিনিময়ে সে অর্থ পেতো। সেই অর্জিত অর্থের বিনিময়ে তার ভরণ পোষণ চলতো। কিন্তু এখন তো মানুষ আর কাজ করবে না তাই সে হাতে অর্থও পাবে না। বিনিময় পদ্ধতির ও পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে। তাহলে তার খাওয়া পড়া চলবে কেমন করে ? প্রায় সব মানুষই অলসতার জীবন কাটাবে কিন্ত মানুষকে তো বাঁচতে হবে। বাঁচতে গেলে মানুষকে ভোগ্যপন্য পেতে হবে। শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্য সমগ্রী আর সুস্থতার জন্য ওষুধ পত্তর তার দরকার আছে। এই সব তাকে কে সর্বরাহ করবে ? সেই দায়িত্ব নেবার জন্য অবশ্যই একটা নতুন কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থা জন্ম নেবে । সারা বিশ্ব ব্যাপী একটাই ব্যবস্থা থাকবে। উনিভার্সাল রাষ্ট্র ব্যবস্থা। উতাপাদিত পণ্যের বন্টন ব্যবস্থায় সাম্যতা আসবে। মানুষ উৎপাদনে অংশ গ্রহণ না করলেও তার প্রয়োজন মত সামগ্রী সে পাবে। উনিভার্সাল রাষ্ট্র তার ব্যবস্থা করবে। অবশ্যই সাম্যবাদের উপর ভিত্তি করে সেই বন্টন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। যেহেতু সব মানুষই সমান তাই সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা পাবে এটাই স্বাভাবিক। শ্রেণী হীন শোষণ মুক্ত আদর্শ সাম্যবাদ l এখানে মানুষে মানুষে ব্যবধান আর থাকবে না। ধন উপার্জনের প্রতিযোগিতা থাকবে না। এই পরিবর্তন সম্ভব হবে টেকনোলজির রেভুলেশন আসার মধ্যে দিয়ে। যন্ত্র মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাবে। তার জন্য যন্ত্রের কোন রাগ বা হিংসা হবে না। অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্য অসহ্য লাগবে না। মানুষ তার প্রভু। আর প্রভুর সেবায় সদা নিয়োজিত থাকাই তার একমাত্র কাজ। যন্ত্র যেন কোন মহা মানব।
তবে এই ব্যবস্থা বেশি দিন ধরে চলতে থাকলে পৃথিবী থেকে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকবে ষোলো আনা। কারণ কর্ম বিমুখ হয়ে দীর্ঘ কাল চললে সেই প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। কর্ম হীনতায় দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলোর সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। তাই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো বিকল হয়ে একটু একটু করে সম্পূর্ণটা এক দিন লুপ্ত হয়ে যাবে। তখন আর হয়তো তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না বা খুঁজে পেলেও তাকে চিনতে পারা যাবে না। আর আদৰ্শ সাম্যবাদ বা সমাজ তন্ত্র কখনো অলসতার জীবন মেনে নেয় না। তাই টেকনোলজিক্যাল সিভিলাইজেশন বা যন্ত্র সভ্যতা যখন উন্নতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে এবং তার পর আর যখন নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য খুঁজে পাবে না। তখন হয়তো মানুষ নগর ছেড়ে অরণ্যে চলে যাবে সবুজের রাজ্যে নিজের হারানো সত্তাকে খুঁজে পাবার জন্য। স্বস্তিতে একটু বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবার জন্য। সভ্যতা যেখান থেকে শুরু হয়েছিল আবার সেখানে ফিরে যাবে। কারণ পৃথিবীর সব কিছু সাইকেলিং সিস্টেমে অবর্তিত হয়। সেখান থেকে নতুন ভাবে বাঁচার রসদ সংগ্রহ করে একটা সময়ের পর আবার ধীরে ধীরে তার উত্থান ঘটবে। হয়তো কোন নতুন আকৃতি নিয়ে সে ফিরে আসবে। আগের আকৃতি খোলোস পাল্টাবার মত পড়ে থাকবে অরণ্যের গভীরে। হয়তো চাপা পড়ে যাবে কোন প্রাকৃতিক ভাঙ্গনের কারণে। সেখান থেকে সাম্যবাদ ঐ মানুষেদের উন্নতি কল্পে আর একটা নতুন কোন উন্নত ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে আসবে। কারণ যন্ত্র বা A I তো মানুষেরই মস্তিস্ক প্রসূত।
টেকনোলজিকে ব্যবহার করে মানুষ যেমন প্রভূত সুবিধা পাচ্ছে তেমনি আবার এই টেকনোলজির উপর বেস করে অনেক প্রতারণা মূলক কাজ কর্মের পদ্ধতিও আবিষ্কার হয়েছে। টেকনোলজি প্রতারক চক্রের হাতে পরে মানুষের দুঃশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে । এই প্রতারক চক্র এমন সব প্রতারণা মূলক কাজ কর্ম করছে তাতে মানুষের সুখ শান্তি হারামে পরিণত হয়ে গেছে । মানুষ দু চোখের পাতা এক করতে পারছে না। নিপুন বাবু এক দিন ব্যাঙ্কের এটিএম এ যান এটিএম থেকে টাকা তুলতে। কিন্তু তিনি সঠিক ভাবে বার বার চেষ্টা করা সত্ত্বেও মেশিনে টাকা বের হয় নি। তিনি ভাবলেন যে হয়তো অটোমেডেট মেশিনে কোন গন্ডগোল হয়েছে তাই টাকা বের হলো না। পরে ব্যাঙ্ক গিয়ে ম্যানেজার বাবুকে রিপোর্ট করবেন। কিন্তু বাড়ী আসার কিছুক্ষণ পর ওনার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে যে ওনি যে পরিমান টাকা এটিএম থেকে তুলতে চেয়েছিলেন ঠিক সেই পরিমান টাকা ওনার একাউন্ট থেকে ডেবিট হয়ে গেছে। অথচ উনি হাতে টাকা পেলেন না। এটা ওনার কাছে ভীষণ অদ্ভুত লাগে। উনি তাড়াতাড়ি করে দৌড়ে ব্যাংকে গিয়ে পাশ বুক আপডেট করে দেখেন ওনার একাউন্ট থেকে সত্য সত্যিই টাকা উঠে গেছে। তিনি তখনই ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে বিষয়টা জানান এবং দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন। ওনার টাকা যাতে ফিরিয়ে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে বলেন। ম্যানেজার বাবু দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম হেল্প লাইন ১৯৩০ নাম্বারে ফোন করে এই জালিয়াতির রিপোর্ট করেন করে দেন। নিপুন বাবুও সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে একটা কমপ্লিন রেজিস্টার করে দেন ওভার ফোনে। সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ লাইন ট্রাক করে জালিয়াতদের সন্ধান পেয়ে যান এবং ওদের ধরে ফেলেন। জালিয়াতরা সংখ্যায় দু জন ছিল। দু জন্যই অন্য প্রদেশের। এক জন বিহারের আর এক জন উত্তর প্রদেশের। জালিয়াতরা জেরায় স্বীকার করে যে তারা বেশ কিছু দিন ধরে এই অঞ্চলের বিভিন্ন এটিএম এ জালিয়াতি করে বেড়াচ্ছে। নিপুন বাবুর আগে ওরা এই এটিএম টা থেকে নিজেরা নিজেদের টাকা তোলে, তারপর এটিএম মেশিনের যে জায়গা দিয়ে টাকা বের হয় সেই জায়গায় সাবধানে এক বিশেষ ধারণের প্লাস্টিক আটকে দেয় যাতে টাকা বের হয়ে বাইরে আসতে না পারে। এই কারণে নিপুন বাবু এসে সঠিক ভাবে বার বার চেষ্টা করা সত্তেও টাকা পান নি। তারপর তিনি ফিরে যেতেই ওরা এসে ঐ প্লাস্টিকটা সরিয়ে দিতেই নিপুন বাবুর টাকাটা বাইরে বেরিয়ে আসে। সেই টাকা নিয়ে ওরা পালিয়ে যায়। নিপুন বাবুর টাকা ওরা তখনো খরচ করে উঠতে পারেনি । তাই নিপুন বাবু টাকা ফেরত পেয়ে যান পুলিশের চট জলদি তল্লাশি শুরু করার জন্য।
সমাপ্ত
![]()







