আধুনিক নরকে অনিরুদ্ধ
—নবকুমার চক্রবর্ত্তী
**এক মধ্যবিত্ত ট্র্যাজেডি**
ইতিহাসের ধুলোমাখা পাণ্ডুলিপিটা একটু ফুঁ দিয়ে যদি আচার্য চাণক্যের দিকে তাকান, দেখবেন লোকটার মাথায় চুল নেই, কিন্তু টিকিটি ঠিকই বহাল। কেন বলুন তো? কারণটা কি শুধুই ব্রাহ্মণ্যবাদ? উঁহু, আমার মনে হয় ওটা ছিল আসলে একটা অত্যাধুনিক অ্যান্টেনা। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক আসার হাজার বছর আগেই আচার্য ওই টিকির মাধ্যমে ভবিষ্যতের সিগন্যাল ক্যাচ করতেন। তিনি জানতেন, কলিযুগে পুরুষের কপালে দুঃখের যে শিলাবৃষ্টি নাচছে, তার ফোরকাস্ট আবহাওয়া দপ্তর—তাও আবার কলকাতার—দিতে পারবে না। তাই তিনি সেই কবেই সাবধানবাণী আউড়ে গিয়েছিলেন—চার ধরনের নারী থেকে সাবধান! কিন্তু বাঙালি কবে আর মুরুব্বিদের জ্ঞানের কথা শুনেছে? বাঙালি শোনে শুধু ‘সেল’-এর খবর আর পাড়ার রকে বসা আধপাকা চুলের ফচকে ছোকরার প্রেমের টিপস। যেমন আমাদের অনিরুদ্ধও শোনেনি।
অনিরুদ্ধ। নামটা শুনলেই মনে হয়, যে ছেলেটা চোখের পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকে। বাস্তবিক, সে এখন তাকিয়েই থাকে—শূন্যের দিকে, যেখানে তার হারানো যৌবন আর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ধরাধরি করে গড়ের মাঠে হাওয়া খাচ্ছে। আপনাদের পাড়ার মোড়ের মাথায়, যেখানে আগে সন্ধেবেলা গিটারের টুংটাং শব্দে বিপ্লবের স্লোগান আর প্রেমের লিরিকস দুটোই উথলে উঠত, সেখানে এখন অনিরুদ্ধকে দেখবেন হাতে চটের থলি আর মুখে বাংলা সিরিয়ালের নায়কের মতো একরাশ বিপন্নতা নিয়ে দাঁড়িয়ে। আগে সে গিটার বাজাত, এখন সে সংসারের ফর্দ আর ইএমআই-এর হিসেব মেলায়। জীবনানন্দের ভাষায় বলতে হয়—”সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি”, কিন্তু অনিরুদ্ধ এখন শুধুই “হিসেবনিকেশকারী এক কেরানি।”
অনিরুদ্ধ প্রেমে পড়েছিল। কার? তার নাম মলি। ওই যে গো, যে মেয়েটা আগে কোচিং ক্লাসের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পড়ার ব্যাচে না গিয়ে পার্কের বেঞ্চে ছেলেদের সাথে প্রেম করে বেড়াত! তবে ‘মলি’ নামের মধ্যে একটা নরম ভাব আছে, তাই না? কিন্তু নিউরোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব যা-ই বলুক, মলির ডিএনএ-তে আচার্য চাণক্যের সেই চারটে ‘অবগুণ’ এমনভাবে মিশে ছিল, যেমন মেলায় সস্তা বিরিয়ানিতে আলুর সঙ্গে কমলা রং মেশানো থাকে। দেখতে লোভনীয়, কিন্তু পেটে গেলেই গ্যাস্ট্রিকের সিওরিটি।
আসুন, অনিরুদ্ধের জীবনটা একটু জেনারেল লোকাল ল্যাবে জুম লেন্স লাগিয়ে দেখা যাক। স্যাটেলাইট ভিউতে সব সংসারই সুখের মনে হয়, জুম করলেই ফাটলগুলো চোখে পড়ে। অনেকটা যাত্রাদলের নায়িকার মুখের মেকাপের মতো—দূর থেকে অপ্সরা, কাছে এলেই ব্রণ আর গর্তের ভৌগোলিক মানচিত্র।
চাণক্য বলেছিলেন, “চরম রাগী নারী”—সর্বনাশ ডেকে আনে! মলির রাগটা ঠিক রাগ নয়, ওটা একটা আন্তর্জাতিক জিও-পলিটিক্যাল ক্রাইসিস। নাকের ডগায় রাগ থাকে তাদের, যাদের নাক আছে। মলির রাগ থাকত প্লাক করা আইব্রো-র ভাঁজে, ঠিক যেখানে নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে সাইক্লোনের জন্ম দেয়।
সেদিন রবিবার। মধ্যবিত্তের রবিবার মানেই হলো লুচি-আলুরদম আর দুপুরে খাসির মাংসের ঝোল খাওয়ার অলীক স্বপ্ন, যেটা শেষমেশ রুগ্ন পোলট্রির মুরগিতে গিয়ে ঠেকেছে। অনিরুদ্ধ খুব আদুরে গলায় বলেছিল, “শোনো না, চা-টা না একটু ঠান্ডা হয়ে গেছে, একটু গরম করে দেবে?”
ব্যাস! এটুকুই। হিরোশিমাতে ‘লিটল বয়’ পড়ার আগে যেটুকু নিস্তব্ধতা ছিল, অনিরুদ্ধ সেটুকুও পেল না। মলি এমনভাবে তাকাল, যেন অনিরুদ্ধ চা চায়নি, ওর কিডনি আর লিভার দুটোই ফ্রাই করে খেতে চেয়েছে।
“চা ঠান্ডা? তোমার জীবনটাই তো ঠান্ডা হয়ে গেছে অনিরুদ্ধ! বিয়ের আগে তো বলতে আমার হাতের জলও নাকি অমৃত, এখন চা ঠান্ডা লাগছে? আমি কি তোমার বাড়ির বিনা বেতনের চাকরানি? সারাদিন খাটব, তারপর আবার চা গরম করব? আমার বাপের বাড়িতে কোনোদিন কেউ আমাকে এক গ্লাস গড়িয়ে জল খেতে বলেনি, আর তুমি…” সারাদিন কাজের নাম করে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াও আর গভীর রাতে বাড়ি ফিরে ক্লান্তির অভিনয় কর!
অনিরুদ্ধের আত্মসম্মান? সেটা তো কবেই প্রেসার কুকারের তিন নম্বর সিটির সঙ্গে ভাতের ফ্যানের মতো উড়ে গেছে। যে নারী সকালবেলা বাজার আনতে দেরি হলে মহিষাসুরমর্দিনীর রূপ ধারণ করতে পারে, তার সঙ্গে সংসার করা আর পকেটে জ্যান্ত গ্রেনেড নিয়ে ভিড় বাসে লুডো খেলা—একই ব্যাপার। অনিরুদ্ধ এখন বুঝেছে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর আসল কারণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, মলির মতো নারীদের দীর্ঘশ্বাস আর তপ্ত বাক্যবাণ, যা ওজোন স্তরে পুরুষের পকেটের মতোই ফুটো করে দিচ্ছে।
চাণক্যের দ্বিতীয় ওয়ার্নিং ছিল—”কথায় কথায় সন্দেহপ্রবণ নারী।” এরা স্বামীকে মানুষ ভাবে না, ভাবে একটা চলমান ‘ক্রাইম সিন’।
অনিরুদ্ধ অফিস থেকে ফিরেছে। বিধ্বস্ত, ক্লান্ত, শার্টের কলারটা ঘামে ভেজা। সোফায় শরীরটা এলিয়ে ফোনটা পাশে রেখেছে। বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখল, মলি ফোনটা হাতে নিয়ে এমনভাবে বসে আছে, যেন সে এইমাত্র ওসামা বিন লাদেনের গোপন ডায়েরিটা খুঁজে পেয়েছে।
“পাসওয়ার্ডটা যেন কী? খোলো তো!” মলির গলার স্বরটা বরফের মতো ঠান্ডা, অথচ তাতে ছ্যাঁকা লাগে।
অনিরুদ্ধ ভয়ে ভয়ে আঙুল ছোঁয়াল। মলি গ্যালারি চেক করছে না, কল লিস্ট চেক করছে না, সে চেক করছে হোয়াটসঅ্যাপের আর্কাইভ।
“এই ‘রামু কাকা’টা কে অনিরুদ্ধ? সত্যি করে বলো? কাকার আড়ালে কোন কাকিমা লুকিয়ে আছে? প্রোফাইল পিকচারে তো হনুমানজির ছবি, কিন্তু চ্যাট ডিলিট করা কেন? হনুমানজির সঙ্গে কি তোমার লঙ্কাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছিল?”
অনিরুদ্ধের জীবনটা হয়ে গেল ‘ওপেন বুক’, কিন্তু সমস্যা হলো, পাঠক সেখানে সাহিত্যরস খুঁজছে না, খুঁজছে সাংসারিক জীবনের মানে। যে নারী স্বামীর ছায়াকেও সতীন ভাবে, তার সঙ্গে ঘর করা মানে রোজ রাত্রে থানায় গিয়ে নিজের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেটের জেরক্স জমা দেওয়া। অনিরুদ্ধ আমতা আমতা করে বলল, “আরে ওটা তো অফিসের পিওন…”
“পিওন? পিওনকে কেউ ইমোজি পাঠায়? তাও আবার বেগুনের ইমোজি? এর মানে কী অনিরুদ্ধ?”
অনিরুদ্ধ জানে না বেগুনের ইমোজির মানে কী, কিন্তু সে এটা জানে, তার কপালে আজ রাতে বেগুন পোড়াও জুটবে না, জুটবে কেবল পোড়া কপাল। শেক্সপিয়ার হয়তো ঠিকই বলেছিলেন, “To be or not to be”—কিন্তু অনিরুদ্ধের ক্ষেত্রে সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, “To be silent or to be kicked.”
চাণক্যের শেষ দুটো পয়েন্ট—”অতিরিক্ত লোভী” এবং “লাগামহীন ব্যয়ী।” আধুনিক অর্থনীতিতে একেই বলে ‘কনজিউমারিজম’ বা ভোগবাদ, আর অনিরুদ্ধের ভাষায়—‘সর্বস্বান্ত হওয়ার মর্ডান হাইওয়ে’।
মাসের এক তারিখ। অনিরুদ্ধের ফোনে স্যালারি ক্রেডিটেড হওয়ার মেসেজের টুং শব্দটা হওয়ার আগেই মলি রেডি। টেলিপ্যাথি বলে যদি কিছু থাকে, তবে সেটা একমাত্র স্বামীদের স্যালারি আর স্ত্রীদের শপিং লিস্টের মধ্যেই আছে।
“অনিরুদ্ধ, শোনো না… ওই যে পাশের ফ্ল্যাটের টুম্পা বৌদি, ওর না একটা নতুন শাড়ি দেখলাম। ঠিক বেনারসি নয়, আবার ঠিক কাঞ্জিভরমও নয়, কিন্তু কী যে গ্লেজ! আমার ওই নীল শাড়িটার পাড়টা না একটু পুরোনো হয়ে গেছে, ওটা পরলে আমাকে ঠিক কাজের মাসি মনে হয়। চলো না, সাউথ সিটি-তে একটা নতুন অফার দিয়েছে…”
অনিরুদ্ধ ঢোক গিলে বলল, “কিন্তু মলি, এই মাসে তো বাড়ির ইএমআই, বাবার ওষুধ, আর কারেন্টের বিল…”
মলি এমন একটা হাসি দিল, যে হাসিতে তাজমহলে ফাটল ধরে যেতে পারত। “ওসব ছাড়ো তো! জীবনটা এনজয় করতে হয়। কার্পণ্য করে কে কবে টাটা-বিড়লা হয়েছে? আর তাছাড়া, আমি তো নিজের জন্য কিছু চাইছি না, তোমার প্রেস্টিজের জন্যই তো সাজগোজ করি। লোকে তো বলবে, অনিরুদ্ধর বউটা কি লক্ষ্মীশ্রী!”
ব্যাস! মাসের পাঁচ তারিখেই অনিরুদ্ধের পকেটে গড়ের মাঠ। সেখানে এখন গরুও চরছে না, চরছে হতাশা নামক এক দু-পেয়ে। চাণক্য বলেছিলেন, এরা আর্থিক স্থায়িত্ব নষ্ট করে। আরে মশাই, স্থায়িত্ব তো দূরের কথা, এরা ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে ফুচকা খেয়ে ফেলতে পারে! অনিরুদ্ধ এখন বোঝে, ‘শপিং’ শব্দটার মধ্যে ‘পিং’ আছে, কারণ ওটা করার পরেই মাথার শিরা দপদপ করতে থাকে।
একদিন বিকেলে পাড়ার চায়ের দোকানে বসে অনিরুদ্ধ। হাতে ভাঁড়, কিন্তু চায়ে চুমুক দিচ্ছে না। পাশেই বসে আছে রিক্সাচালক হরিপদ। হরিপদ বিড়ি টানতে টানতে বলল, “কী গো দাদা, মুখটা অমন আষাঢ় মাসের মেঘের মতো কেন? বৌদি আবার বকেছে?”
অনিরুদ্ধ হাসল। ম্লান হাসি। বলল, “না রে হরি, বকেনি। আজ কথা বলেনি সকাল থেকে। সাইলেন্ট মোডে আছে। ভাইব্রেশনটা টের পাচ্ছি, তবে রিংটোনটা এখনো বাজেনি।”
হরিপদ দার্শনিক ভঙ্গিতে ধোঁয়া ছেড়ে বলল, “দাদা, মাইয়া মাইনষের রাগ হইল গিয়া কালবৈশাখী। বেশিক্ষণ থাকে না, কিন্তু যতক্ষণ থাকে, কাঁচা ঘর আর টিনের চাল উড়াইয়া লইয়া যায়, তখন আর পিলারে ধইরা রাইখাও লাভ হয় না।”
অনিরুদ্ধ আকাশের দিকে তাকাল। মেঘ করেছে। হয়তো বৃষ্টি হবে। কিন্তু তার মনের ভেতরের খরা কি মিটবে? চাণক্য বলেছিলেন, চার গুণের নারী থেকে সাবধান। কিন্তু চাণক্য এটা বলেননি, যদি একবার ফেঁসে যাও, তবে বেরোবে কোন পথে? এক্সিট গেট তো নেই। এ হলো এমন এক গোলকধাঁধা, যেখানে ঢুকলে অভিমন্যুর মতো চক্রব্যূহে পড়ে মরতে হবে, কিন্তু লড়াইটা হবে না কৌরবদের সঙ্গে, হবে ইএমআই, শপিং ব্যাগ আর সন্দেহের কাঁটা যুক্ত নারীর সঙ্গে।
আজ অনিরুদ্ধ একা বারান্দায় বসে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, যদিও সে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছিল বিয়ের পর। আজ আবার ধরেছে। ধোঁয়ার রিংগুলোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়, আচার্য চাণক্য যদি আজ বেঁচে থাকতেন, হয়তো অনিরুদ্ধর পিঠ চাপড়ে বলতেন, “বৎস, আমি তো আগেই বলেছিলাম। রূপ দেখে গলেছ, এখন ইএমআই গুনতে গুনতে জ্বলো! আমার টিকিটা এমনি রাখিনি, ওটা ছিল বিপদ সংকেতের লাল পতাকা।”
তাই বলি দাদারা, প্রেম করুন, কিন্তু চাণক্যকে ভুলে যাবেন না। কারণ, সুন্দরবনে বাঘের সামনে পড়লে তাও বাঁচার চান্স আছে—হয়তো বাঘটার পেট ভরা থাকতে পারে, কিংবা সে আজকের যুগের ভেগান বাঘও হতে পারে। কিন্তু এই চার গুণের মিক্সচার যার মধ্যে আছে, তার পাল্লায় পড়লে—আপনার ‘লাইফ’ হবে ‘টাইট’, আর পকেট হবে ‘লাইট’!
অনিরুদ্ধের গিটারটা এখন আলমারির মাথায় ধুলো খাচ্ছে। তার তারগুলো ছিঁড়ে গেছে, ঠিক যেমন ছিঁড়ে গেছে অনিরুদ্ধের স্বপ্নের সুতো। সে এখন বোঝে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আসলে একটা মিথ, আসল তন্ত্র হলো ‘বউ-তন্ত্র’, ‘নারী তন্ত্র’ যেখানে পুরুষ কেবল এক শোষিত প্রজা, যার কাজ হলো জোগান দেওয়া আর মুখ বুজে সহ্য করা। তবে হ্যাঁ, একটা কথা না বললেই নয়, এই যে এত কষ্ট, এত জ্বালা, এত অপমান—তবুও অনিরুদ্ধ মলির ওই একটু হাসির জন্য, ওই একটু “খেয়েছ?” প্রশ্নের জন্য সব ভুলে যায়। একেই বোধহয় বলে মায়া। কিংবা, কে জানে, একেই হয়তো বলে—বোকামি।
গল্পের শেষ পর্বে এসে একটা গোপন কথা বলি, যেটা চাণক্যও বলে যাননি। পুরুষরা আসলে এই চারটে ‘অবগুণ’ যুক্ত নারীদের থেকেই পালাতে চায়, কিন্তু দিনশেষে তাদের কাছেই ফিরে আসে। কেন জানেন? কারণ, স্বাধীনতা নামক একাকীত্বের বিশাল আকাশের চেয়ে পরাধীনতার এই মিষ্টি জেলখানা তাদের অনেক বেশি প্রিয়। পুরুষ আসলে সেই বোকা পাখি, যে খাঁচার দরজা খোলা পেলেও উঁচুতে ওড়ে না, বরং মালিকের হাতে দু’মুঠো দানা খাওয়ার লোভে ফিরে এসে আবার স্বেচ্ছায় খাঁচায় ঢোকে; কারণ আকাশ বড় বিশাল, বড় নির্মম, আর সেখানে কেউ তাকে নাম ধরে ডাকে না।
**শেষ—**
![]()







