রাস-পূর্ণিমা-র এই যে শুভ নিশি
শ্রী নীলকান্ত মণি
এই যে শুভ নিশি
রাস-পূর্ণিমা-র
রাতের আকাশ ঘিরে রয় জেগে
সমূহের যে বিপুল আঁধার
তারই মাঝে তোমার আমার
এমন অবস্থান
কে বা বলো তারে
এমন সাজিয়ে দিলো৷
তুমি আর আমি মিলে
জ্বালিয়ে ছিলাম যে টুকু যা আলো
সেখানে কিন্তু কোন ছিলো নাকো
ছিলো নাকো কোন অন্ধকার৷
আমাদের
এ দুটি হৃদয় বলয় ঘিরে
এতো যে আলোর বাহার
কে তবে এনে দিলো৷
এই যে অনুভূতি
তার বিস্তির্ণ পরিসর, সে সৃজন
অনেক আঁধার পেরিয়ে যে এলো,
তবে তা কার পথ চেয়ে৷ আহা—
কিভাবে যে
তা সম্ভব হলো
ভাবলে অবাক লাগে৷
আচ্ছা বলো, রাতের আকাশে
তারা গুলো তো ছিলো৷
ছিলো কি না৷
ছিলো৷
দিনের বেলায় তারা সবে
তবে কোথা গেলো৷
আসলে কথাটা কি জানো
দিনের বেলায়
সূর্যের আলো এসে
সেই তারা দের দেখার নয়ন
অন্ধ করে দিলো৷
তাবলে ভেবো না তারা-রা তখন
আকাশে ছিলো না৷ নিশ্চয় ছিলো৷
তারা সব আলোর গভীরে ডুবে ছিলো৷
পশ্চিম উপকূলে
দিন ঢলে পড়লো যবে
দিনমণি কি না কি ভেবে
যেই নিজেকে আড়ালে নিয়ে গেলো
ঘোমটাতে মুখ ঢেকে
সন্ধ্যাতারা
মুখটি বাড়িয়ে
তার চকিত চাহুনি মেলে দিলো৷
যেন বললো সে
সন্ধ্যা আকাশ গাঙে উঠেছে যে দুলে
সে আমি দীপ্তিময়ী
কণক গাঁদার মতো দৃষ্টি মেলে
দেখছি তোমায়৷ তুমি মুখ তুলে
তাকাবে কি একবার এ আমার দিকে৷
একটু পরেই
রাত্রী এসে আমাকে দেবে ঢেকে
নয়তো চাঁদ এসে
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে—
তার আলোর বিভায়৷
রাখবে কি আমার এ মিনতি টুকু!—
সময় হারিয়ে গেলে
খুঁজে আর পাবে না আমায়৷
—oooXXooo—
![]()






