আসানসোল, ৪ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: পশ্চিবঙ্গের ৬টি জেলার পিছিয়ে পড়া এসসি-এসটি এবং মহিলা উদ্যোগপতিদের সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির সাথে যুক্ত করে এক নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত খুলে দিল ‘ন্যাশনাল এসসি অ্যান্ড এসটি হাব’ (NSSH)। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আয়োজিত ‘স্পেশাল ভেন্ডার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে এই উদ্যোগপতিরা এবার দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP), ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL) এবং পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশনের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে (PSU) সরাসরি নিজেদের পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
কেন এই উদ্যোগ এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি ক্রয় নীতি (Public Procurement Policy) অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলিকে তাদের বার্ষিক ক্রয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ (কমপক্ষে ৪%) তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগগুলির (SC/ST MSEs) থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু তথ্য ও নেটওয়ার্কিং-এর অভাবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছিল না। সেই ঘাটতি পূরণের জন্যই ২০১৬ সালে মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস মন্ত্রকের (MSME) অধীনে ন্যাশনাল এসসি-এসটি হাব (NSSH) তৈরি করা হয়।
আসানসোলের এই বিশেষ কর্মসূচিতে ন্যাশনাল চেম্বার অফ কটেজ অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ-এর সহযোগিতায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, নদিয়া সহ মোট ৬টি জেলা থেকে ১৭২ জনেরও বেশি উদ্যোগপতি, যার মধ্যে ১৩০ জন ছিলেন SC/ST মহিলা, অংশ নেন।
কর্মসংস্থান বিপ্লবের আসল চিত্র
ন্যাশনাল এসসি-এসটি হাবের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (৩১ মার্চ, ২০২৩ পর্যন্ত) এই কর্মসূচির বিশাল প্রভাব তুলে ধরে:
স্বনির্ভরতার পথে শালপাতা ও সরাই আর্ট
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন একাধিক সফল উদ্যোগপতি, যাঁদের গল্প অনুপ্রেরণা যোগায়।
১. শালপাতা দিয়ে থালা-বাটি: বাঁকুড়ার খাতাড়া ব্লক থেকে আসা রেণুকা মাহাত এবং সুলেখা সরেন জানান যে তাঁরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে লোন নিয়ে শালপাতা সেলাইয়ের কাজ করতেন। কিন্তু সঠিক বাজারের অভাবে লাভের মুখ দেখছিলেন না। এই প্রোগ্রামে এসে তাঁরা জানতে পারেন যে NSSH-এর মাধ্যমে জিইএম (GeM) পোর্টালে যুক্ত হয়ে সরাসরি সরকারি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব। তাঁদের কথায়, এই সহযোগিতা পেলে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে।
২. সরাই আর্ট (Sohrai Art): দুর্গাপুর থেকে আসা এক উদ্যোগপতি তাঁদের স্টলে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সরাই আর্ট ফুটিয়ে তোলেন ব্যাগ ও অন্যান্য পণ্যে। ঝাড়খণ্ডে জিআই (Geographical Indication) তকমা পাওয়া এই শিল্পকলাটিকে কমার্শিয়াল রূপ দিয়ে বাজারের মূল স্রোতে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা বহু আদিবাসী শিল্পীর জীবনে আর্থিক সমৃদ্ধি এনে দেবে।
মূল বার্তা – নেটওয়ার্কিং ও জাগ্রত হওয়ার আহ্বান
এনএসআইসি-এর (NSIC) জেনারেল ম্যানেজার ড. অনুপম গায়েন জোর দিয়ে বলেন, “আপনার অধিকার সম্বন্ধে জাগ্রত হন। গভমেন্ট অনেক কিছু নিয়ে আসছে, কিন্তু আমরা জানি না। নিজেকে জাগ্রত করা খুব কঠিন কিছু নয়।” তিনি উদ্যোগপতিদের সরকারি পোর্টালগুলি ব্যবহার করা, সঠিক নথিপত্র প্রস্তুত রাখা এবং চাকরির সন্ধানে না ঘুরে চাকরি তৈরি করার দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
কলকাতা ন্যাশনাল চেম্বার অফ কটেজ অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ-এর কর্ণধাররা এই ধরনের প্রোগ্রাম রাজ্যজুড়ে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাতে রাজ্যের প্রতিটি কোণে থাকা যোগ্য উদ্যোগপতিরা এই সুযোগ নিতে পারেন।
#ন্যাশনালএসসিএসটিহাব #NSSHবাংলা #কর্মসংস্থানবিপ্লব #স্বনির্ভরভারত #আত্মনির্ভরভারত #এসসিএসটিউদ্যোক্তা #মহিলাউদ্যোগ #সরকারিপ্রকিউরমেন্ট #MSME_বাংলা #আসানসোল_সংবাদ
#NationalSCSTHub #NSSH #MSMEIndia #AatmanirbharBharat #SelfReliantIndia #SCSTEntrepreneurs #VendorDevelopmentProgram #PublicProcurement #EmpoweringIndia #SmallBusiness
![]()






