০৭ নভেম্বর, ২০২৫ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত! ভারতের জাতীয় চেতনার প্রতীক, কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবের ঢেউ। ঔপনিবেশিক শাসনের শিকল ভাঙার মন্ত্র, সাহিত্য থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথ হয়ে ওঠার এই অবিস্মরণীয় যাত্রাপথ, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হল।
সংবাদ প্রতিবেদন, কলকাতা, ৭ই নভেম্বর ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: আজ, ০৭ নভেম্বর, ২০২৫। ঠিক ১৫০ বছর আগে এই দিনেই সাহিত্য পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’-এর পাতায় প্রথমবার প্রকাশিত হয়েছিল একটি গান— ‘বন্দে মাতরম্’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chatterjee) লেখা সেই অমর সঙ্গীতটি ছিল নিছক একটি রচনা নয়, তা ছিল পরাধীন ভারতের ঘুমিয়ে থাকা জাতীয়তাবাদের প্রথম বজ্রধ্বনি। আজ তার সার্ধশতবর্ষ পূর্তি, আর এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে এক বিশাল কর্মসূচি, যা ভারতের এই জাতীয় স্তোত্রকে এক নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।
১. ইতিহাসের পথে ‘বন্দে মাতরম্’
‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক যাত্রা এক বিস্ময়কর।
- সাহিত্যে জন্ম (১৮৭৫): গানটি ১৮৭৫ সালের ০৭ নভেম্বর প্রথম প্রকাশিত হলেও, ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করেন। উপন্যাসটির মূল চরিত্র সন্ন্যাসীরা মাতৃভূমিকে দেবী রূপে কল্পনা করে এই মন্ত্রে দীক্ষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথের সুর (১৮৯৬): কলকাতা অধিবেশন, ১৮৯৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) প্রথম এই গানটি গেয়ে জাতীয় স্তরে এর পরিচিতি নিশ্চিত করেন।
- প্রতিবাদের স্লোগান (১৯০৫): ১৯০৫ সালের ০৭ আগস্ট বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম্’ কেবল গান থাকেনি, তা পরিণত হয়েছিল একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক স্লোগানে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মন্ত্রে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
- বিশ্ব মঞ্চে প্রতিষ্ঠা (১৯০৭): ১৯০৭ সালে বার্লিনের স্টুটগার্টে মাদাম ভিকাজি কামা (Madam Bhikaji Cama) ভারতের বাইরে প্রথম যে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, তাতেও লেখা ছিল ‘বন্দে মাতরম্’।
২. তাৎপর্য: ঐক্য ও ত্যাগের মূর্ত প্রতীক
১৯৫০ সালে ভারতের গণপরিষদ ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় স্তোত্র (National Song) হিসেবে গ্রহণ করে। এই গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ভারতের সম্মিলিত চেতনা, ঐক্য ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
শ্রী অরবিন্দ (Sri Aurobindo) তাঁর লেখায় বঙ্কিমচন্দ্রের দর্শন তুলে ধরে বলেছিলেন, এই গানে ‘মা’ কোনো সাধারণ নারী নন, তিনি রাজকীয় বিভায় উজ্জ্বল দেবী। আনন্দমঠের সন্তানেরা মাতৃভূমির তিনটি মূর্তি দেখেছিলেন— অতীতের ‘রাজকীয়’, বর্তমানের ‘ধূলিধূসর’ এবং ভবিষ্যতের ‘হৃতগৌরব ফিরে পাওয়া’। এই দর্শনই ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূল প্রেরণা।
৩. সার্ধশতবর্ষে সরকারের বিশেষ কর্মসূচি
জাতীয় স্তোত্রের এই ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য সরকার বহুবিধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির পরিসংখ্যানের বিশালতা প্রমাণ করে এই গানকে জনগণের মধ্যে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার প্রচেষ্টা:
‘বন্দে মাতরম্’ প্রচারাভিযানকে এই বছর ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ প্রচারাভিযানের (Har Ghar Tiranga) সঙ্গে একযোগে উদযাপন করা হবে, যার লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও জাগিয়ে তোলা।
‘বন্দে মাতরম্’ শুধু একটি গান নয়; এটি ভারতের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৫০ বছর পরেও এই গান ভারতীয়দের মধ্যে যে ঐক্যের বার্তা ও আত্মমর্যাদার চেতনা জাগিয়ে তোলে, এই উদযাপন সেই কালজয়ী আবেগকে নতুন করে সমসাময়িক ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার এক সুযোগ। দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সেতু হলো এই ধ্বনি – বন্দে মাতরম্।
#বন্দে মাতরম্ ১৫০ #বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় #জাতীয় স্তোত্র #আনন্দমঠ #স্বাধীনতা সংগ্রাম #বঙ্গদর্শন #GoogleDiscovery #হর ঘর তিরঙ্গা #ভারতীয় সংস্কৃতি
#VandeMataram150 #NationalSongOfIndia #BankimChandraChatterjee #Anandamath #IndianFreedomStruggle #GoogleDiscovery #AzadiKaAmritMahotsav #VandeMataramAnniversary #IndiaHistory
![]()






