NRC-র ছায়া? আপনার নাম কি বাদ যাবে? ‘২০০২ ভোটার তালিকা’ মিলিয়ে দেখুন! দেশজুড়ে ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’, আতঙ্কে কোটি কোটি ভোটার!
কলকাতা, ২৭ অক্টোবর ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, হিরণ ঘোষাল:
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) সম্প্রতি দেশজুড়ে ভোটার তালিকার এক বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া, যার নাম ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (SIR), শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় বর্তমান ভোটারদের নাম মিলিয়ে দেখা হচ্ছে ২০০২-২০০৪ সালের পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে। কমিশন এই উদ্যোগকে ‘ত্রুটিমুক্ত’ ভোটার তালিকা তৈরির প্রচেষ্টা বললেও, পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে লাখ লাখ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও নাগরিকত্ব হারানোর শঙ্কা।
SIR প্রক্রিয়া কী এবং কেন বিতর্ক?
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, একজন বর্তমান ভোটারের নাম যদি রাজ্যের শেষ ‘ইনটেনসিভ রিভিশন রোলস’ (যা অনেক রাজ্যে ২০০২-২০০৪ সালে হয়েছিল) অথবা তার পূর্বের তালিকায় খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে সেই ভোটারকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ এই প্রক্রিয়াকে ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি’ (NRC)-এর ‘নেপথ্য প্রয়োগ’ বা ‘ব্যাকডোর ইমপ্লিমেন্টেশন’ হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, এটি মূলত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক শ্রেণির ভোটারদের লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, যাতে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। বিহারে এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে বহু সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠার পর বিতর্ক আরও বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে জোরদার রাজনৈতিক তরজা
যেহেতু পশ্চিমবঙ্গসহ মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR-এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে চলেছে, তাই এই রাজ্যের রাজনীতিতে চলছে তীব্র উত্তেজনা।
- শাসক দলের অবস্থান: রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) প্রথম থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীরা কর্মীদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সঙ্গে থেকে প্রত্যেক ভোটারের নাম যেন নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো বৈধ নাম বাদ না পড়ে। তাদের মতে, এটি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের একটি চক্রান্ত।
- বিরোধী দলের অবস্থান: অন্যদিকে, বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে রাজ্যে থাকা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হবে এবং একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি হবে।
আপনার করণীয় কী?
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তবে এটি পরিচয়ের নথি হিসেবে জমা দেওয়া যেতে পারে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি আপনি বা আপনার বাবা-মায়ের নাম ২০০২-২০০৪ সালের পুরোনো ভোটার তালিকায় থাকে, তবে অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হবে না।
ভোটারদের উচিত:
- নাম যাচাই: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে (
ceowestbengal.nic.in) অথবা ECI-এর পোর্টালে (voters.eci.gov.in) গিয়ে পুরোনো (২০০২-২০০৪ সালের) ভোটার তালিকায় নিজের বা পরিবারের নাম মিলিয়ে দেখা। - নথি প্রস্তুত রাখা: যদি পুরোনো তালিকায় নাম না মেলে, তবে জন্ম সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত শংসাপত্র বা অন্যান্য সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা ডিসেম্বরের ৯ তারিখে প্রকাশিত হবে এবং চূড়ান্ত তালিকা ২০২৬ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে সমস্ত ভোটারকে নিজের নাম নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
| #ভারত | #india |
| #NRC | #NRCInIndia |
| #CAA | #CAAProtest |
| #SIR | #VoterListRevision |
| #ভোটার_তালিকা | #IndianCitizenship |
| #নাগরিকত্ব | #2002VoterList |
| #পশ্চিমবঙ্গ | #WestBengalPolitics |
| #২০০২_ভোটার_লিস্ট | #ElectionCommission |
| #নির্বাচন_কমিশন | #VoterCardUpdate |
| #মুসলিম_নাগরিক | #MinorityRights |
| #বাংলা | #wb |
![]()






