দূর্গা মায়ের প্রতি
রতন চক্রবর্ত্তী
“”””””””””””””””
প্রতি বছরের মতো এই বছরেও আমরা মর্ত বাসিগণ শোকপুর্ণ মহালয়ার প্রাতে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পন বিধির মাধ্যমে জল দান করলাম | তারপরই পিতৃ পক্ষ গিয়ে শুরু হলো মাতৃ পক্ষ | অর্থাৎ তোমার পক্ষ |
এ মতো অবস্থায় বয়ে আসা উত্তরের বাতাস প্রকৃতিতে আনন্দের জোয়ার যেমন তুললো | কাশবনে কাশফুলের দোলন যেমন উঠলো | শিউলির গন্ধে ভরে উঠলো চারিদিক | স্থলপদ্ম জলপদ্ম সহ বহু রংবেরঙ্গের ফুলেদের মুখ যেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠলো তোমার চরণে স্থান পাবে বলে , তেমন তোমার আগমনের বার্তা আমাদের মনেও আনন্দের জোয়ারে ভরিয়ে তুললো |
সেই আনন্দের ধারার মাঝে অবশেষে তুমি এলে আমাদের ঘরে মাত্র পাঁচটি দিনের জন্য | তোমার শ্রীমুখ দেখতে দেখতে , সুখানন্দে মিলন উৎসবে মেতে থেকে কখন যে পাঁচটি দিন কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না | আজ নবমীর নিশি পার হলেই কাল আমরা সবাই আবার তুমি বিনে শোকরহিত হয়ে পড়বো | তোমার উপস্থিতিতে যে আলোকের ঝর্ণা ধারায় প্রতি ঘর-সংসার , গ্রাম -শহর , আলোকিত হয়ে উঠেছিল তা আবার হয়ে উঠবে আঁধারময় |
কিন্তু তোমাকে যে যেতেই হবে , কারণ বাবা ভোলা মহেশ্বর মাত্র পাঁচদিনের ছুটি দিয়েছেন তোমাকে | স্মামীর আদেশ তোমাকে তো মানতেই হবে | আমাদের কারো সাধ্য নাই তোমাকে আমাদের ঘরে , আমাদের কাছে রাখবার |
যাইহোক , পৌঁছে কিন্তু পৌঁছসংবাদটি দিতে যেন ভুল না | তুমি তোমার ডাকপিয়ন নীলকণ্ঠের দ্বারা খবরটা মনে করে পাঠিয়ো |
—oooXXooo—
![]()







