নয়াদিল্লি, ০৮ অক্টোবর, ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: গত এক দশকে ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী অগ্রগতি হয়েছে, সেই চিত্রই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দর যাদবের লেখা একটি নিবন্ধ শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যকে ‘আশা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক’ বলে অভিহিত করেছেন। অবক্ষয়িত বসতি পুনরুদ্ধার এবং বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষণে সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রয়াস পরিবেশগত সুস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে ভারতের সুদৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করেছে।
ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ: যেগুলি বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিবন্ধে যে চারটি প্রধান উদ্যোগকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলির অগ্রগতি ভারতের পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে:
১. ‘অমৃতকাল কা টাইগার ভিশন (Tiger@2047)’:
- লক্ষ্য: স্বাধীনতার শতবর্ষ, ২০৪৭ সালের মধ্যে বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্ব মঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
- সাফল্য: সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত বিশ্বজুড়ে বাঘের মোট সংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ বা তারও বেশি সংখ্যক বাঘের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ২০০৬ সালে দেশে বাঘের সংখ্যা যেখানে ছিল মাত্র ১,৪১১, সেখানে ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২,৯৬৭ এবং ২০২২ সালের সর্বশেষ গণনায় এই সংখ্যা ৩,৬০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। এই বৃদ্ধি অভূতপূর্ব। ৫২টিরও বেশি টাইগার রিজার্ভ বাঘেদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
২. প্রজেক্ট চিতা:
- লক্ষ্য: দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চিতা প্রজাতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা এবং তাদের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
- সাফল্য: নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতা এনে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে পুনর্বাসনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে চলেছে, যা বিশ্বের বন্যপ্রাণী স্থানান্তরের অন্যতম বৃহৎ প্রয়াস। এটি ভারতের বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার এক বিশাল উদ্যোগ।
৩. প্রজেক্ট স্নো লেপার্ড:
- লক্ষ্য: হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী তুষার চিতা বা ‘স্নো লেপার্ড’ (Snow Leopard)-এর সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
- সাফল্য: জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশে এই প্রকল্পের কাজ চলছে। এদের সংখ্যা এবং এদের বাসস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।
৪. প্রজেক্ট ডলফিন:
- লক্ষ্য: নদী ও সামুদ্রিক ডলফিন, বিশেষত বিপন্নপ্রায় গঙ্গা নদীর ডলফিন (Gangetic Dolphin)-এর সংরক্ষণ।
- সাফল্য: গঙ্গা নদীর ডলফিনকে ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিকার বন্ধ করার কঠোর পদক্ষেপের ফলে এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এটি নদী ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের এক মাইলফলক।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিবন্ধটি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী বলেছেন, “এই নিবন্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী @byadavbjp প্রজাতি সংরক্ষণ ও অবক্ষয়িত বসতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গত এক দশকে ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ক্ষেত্রের অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। ‘অমৃতকাল কা টাইগার ভিশন (Tiger@2047)’, প্রজেক্ট স্নো লেপার্ড, প্রজেক্ট চিতা এবং প্রজেক্ট ডলফিনের মতো উদ্যোগগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এগুলি আশা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি চিহ্নিত করছে।”
ভারতের এই সাফল্য শুধু দেশের জন্যই নয়, এটি বৈশ্বিক পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। অবক্ষয়িত বসতি পুনরুদ্ধার ও বিপন্ন প্রজাতিদের সুরক্ষার মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করেছে যে পরিবেশগত সুস্থিতি বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।
#বন্যপ্রাণসংরক্ষণ #প্রজেক্টটাইগার #প্রজেক্টচিতা #নরেন্দ্রমোদী #ভারতসরকার #পরিবেশ_সংরক্ষণ #বন্যপ্রাণী #অমৃতকাল #ভারত_বাঘ_সংরক্ষণ #পরিবেশদিবস
#WildlifeConservation #ProjectTiger #ProjectCheetah #NarendraModi #IndiaGovt #EnvironmentProtection #WildLife #AmritKaal #IndiaTigers #GlobalConservation
![]()






