কেরালা, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: এক বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী আতঙ্কের শিকার বহু মানুষ। গরম জলের পুকুর, হ্রদ বা নদীর মতো স্থির জলাশয়ে লুকিয়ে থাকা এক ভয়ংকর জীবাণু—যা সাধারণত ‘ব্রেন খেকো অ্যামিবা’ (Brain-Eating Amoeba) নামে পরিচিত—তাতে ভারতে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। এই বিরল কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম হলো ‘নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি’ (Naegleria fowleri)। এই অ্যামিবার আক্রমণে সৃষ্ট রোগকে বলা হয় প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (Primary Amoebic Meningoencephalitis – PAM)।
সদ্য পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালা এই অ্যামিবার সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছর (২০২৫) এই রাজ্যেই বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রেন খেকো অ্যামিবার সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল হলেও এর প্রাণঘাতী ক্ষমতা প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি। বিশ্বব্যাপী এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৯৭ শতাংশ। তবে কেরালা সরকার সময়মতো শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার কারণে এই হার কিছুটা কমাতে সক্ষম হলেও, সামগ্রিক চিত্রটি উদ্বেগজনক।
| তথ্য | ২০২৪ সাল (কেরালা) | ২০২৫ সাল (কেরালা) (চলতি) |
| মোট আক্রান্তের সংখ্যা | প্রায় ৩৬ জন | প্রায় ৬৯ – ৮০ জন |
| মোট মৃতের সংখ্যা | ৯ জন | ১৯ – ২১ জন |
| মৃত্যুর হার (গ্লোবাল) | ৯৭% এর বেশি |
কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিণা জর্জ সম্প্রতি জানান, রোগের কারণ দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার কারণেই আক্রান্তদের মধ্যে ২৪% পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী এই রোগের নিরিখে একটি বিরল সাফল্য। যদিও সামগ্রিকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর পরিমাণ বাড়তে থাকায় রাজ্য জুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি – যেভাবে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে
‘নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি’ নামক এই একককোষী অ্যামিবা উষ্ণ এবং পরিষ্কার জলের জলাশয়, যেমন—নদী, পুকুর, হ্রদ বা অপরিশোধিত সুইমিং পুলে বসবাস করে। এটি কোনও ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায় না, বরং জলীয় মাধ্যমেই এর সংক্রমণ ঘটে।
- সংক্রমণের পথ: সাধারণত যখন কোনও ব্যক্তি অ্যামিবা-আক্রান্ত জলে স্নান বা সাঁতার কাটেন, তখন সেই জল নাকের মাধ্যমে প্রবেশ করে।
- মস্তিষ্কে আক্রমণ: নাক দিয়ে প্রবেশ করার পর অ্যামিবাটি অলফ্যাক্টরি নার্ভ (olfactory nerve) বা ঘ্রাণ স্নায়ু পথ ধরে সরাসরি মস্তিষ্কে চলে যায়।
- রোগের প্রভাব: মস্তিষ্কে পৌঁছে এটি মস্তিষ্কের টিস্যু বা কোষগুলিকে ধ্বংস করতে শুরু করে, যার ফলে মারাত্মক সংক্রমণ ও প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
রোগের লক্ষণগুলি প্রাথমিকভাবে ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিসের মতো হওয়ায় এটিকে প্রায়শই ভুলভাবে নির্ণয় করা হয়। অ্যামিবার সংস্পর্শে আসার ১ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে এবং একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে রোগীর দ্রুত অবনতি ঘটে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক লক্ষণসমূহ:
- প্রচণ্ড মাথাব্যথা
- উচ্চ জ্বর
- বমি বমি ভাব ও বমি
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
- ক্ষুধামান্দ্য
পরবর্তী গুরুতর লক্ষণসমূহ:
- বিভ্রান্তি ও হ্যালুসিনেশন
- খিঁচুনি
- ভারসাম্যহীনতা
- কোমা
প্রতিরোধের উপায়:
১. জলাশয় এড়িয়ে চলুন: বিশেষত গ্রীষ্মকালে বা গরম আবহাওয়ায় স্থির, উষ্ণ এবং অপরিষ্কার জলে স্নান বা সাঁতার কাটা এড়িয়ে চলুন।
২. নাকের সুরক্ষায় নজর দিন: দূষিত জল নাক দিয়ে প্রবেশ করা আটকাতে সাঁতার কাটার সময় নোজ ক্লিপ ব্যবহার করুন।
৩. পরিষ্কার জল ব্যবহার: নাকে জল দেওয়ার বা নেতি পট (Neti Pot) ব্যবহার করার জন্য সর্বদা ফোঁটানো বা জীবাণুমুক্ত (Sterile) জল ব্যবহার করুন। কলের জল ব্যবহার করার আগে অবশ্যই তা অন্তত ১ মিনিটের জন্য ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
৪. ক্লোরিন ব্যবহার: সুইমিং পুলের জল যাতে যথাযথভাবে ক্লোরিনযুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করুন।
#ব্রেনখেকোঅ্যামিবা #নেগ্লেরিয়াফাউলেরি #কেরালাস্বাস্থ্যবিপর্যয় #পিএএম #BrainEatingAmoeba #ভারতেঅ্যামিবা #স্বাস্থ্যসতর্কতা #জলবাহিতরোগ #প্রাণঘাতীসংক্রমণ #নেগ্লেরিয়াহেলা
#BrainEatingAmoeba #NaegleriaFowleri #KeralaSCARE #PAM #IndiaHealthCrisis #PublicHealthAlert #WaterborneDisease #FatalInfection #KeralaOutbreak #HealthNewsIndia
Gemini
![]()






