বারাসাত, ১১ সেপ্টেম্বর, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, হিরন ঘোষাল: তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং স্থানীয় তাঁতিদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গতকাল উত্তর ২৪ পরগনায় আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য তাঁত মেলা। এই মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট। তার উপস্থিতিতে তাঁতি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ দেখা যায়। মেলার মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ধরনের হাতে বোনা শাড়ি, পাঞ্জাবি, বেডশিট ও অন্যান্য হস্তশিল্প সামগ্রী।
- এই বছর মেলায় প্রায় ১৫০টিরও বেশি স্টল ছিল, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তাঁতিরা তাদের পণ্য প্রদর্শন করেন।
- এক দিনের এই মেলায় আনুমানিক ৫০০০-এরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছিলেন।
- শুধুমাত্র হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রি হয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকারও বেশি, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে হস্তশিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
জেলাশাসক তার বক্তব্যে তাঁতিদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “তাঁত শিল্প আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। আমরা তাঁতিদের পাশে আছি এবং এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে সবরকম সহায়তা করব।” তিনি আরও জানান, সরকার তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এই মেলায় বিশেষ করে হাতে বোনা জামদানি, বালুচরি, শান্তিপুরি ও টাঙ্গাইলের শাড়ির চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া। এছাড়াও পাট ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা তাদের আধুনিক ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এসেছিলেন, যা বয়স্ক ও তরুণ প্রজন্ম উভয়কেই আকর্ষণ করেছে।
এই মেলা শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম ছিল না, এটি ছিল তাঁতি এবং ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে তাঁতিরা তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য পান এবং ক্রেতারাও ন্যায্য দামে খাঁটি জিনিস কেনার সুযোগ পান। তাঁত মেলাটি ভবিষ্যতে উত্তর ২৪ পরগনার তাঁত শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
#উত্তর২৪পরগনা #তাঁতমেলা #হস্তশিল্প #বাংলারতাঁত #জামদানি #বালুচরি #শান্তিপুরি #তাঁতশিল্প #বাংলারঐতিহ্য #ভারত #জেলাশাসক
#Uttar24Parganas #TantMela #Handloom #Handicrafts #BengaliHandloom #Jamdani #Baluchari #Shantipuri #TantArt #BengalHeritage #DistrictMagistrate #India
![]()






