বিক্রম-৩২: এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ইসরোর সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি (SCL), চণ্ডীগড়ে তৈরি এই ‘বিক্রম-৩২’ চিপটি বিশেষভাবে মহাকাশ মিশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। মহাকাশের চরম তাপমাত্রা এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে এই ৩২-বিট মাইক্রোপ্রসেসরের। এটি ইসরোর মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ এবং পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। এই চিপের নামকরণ করা হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাইয়ের নামে।
স্বদেশী প্রযুক্তির সুফল: আগে ভারত বছরে প্রায় ২৫-৩০ বিলিয়ন ডলারের চিপ আমদানি করত। ‘বিক্রম-৩২’-এর মতো দেশীয় চিপের উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে এই আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা, প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর অগ্রযাত্রা: ২০২১ সালে ভারত সরকার ৭৬ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগে ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’ (ISM) শুরু করে। এই মিশনের লক্ষ্য ছিল দেশে চিপ উৎপাদন, ডিজাইন এবং গবেষণা ও উন্নয়নের একটি শক্তিশালী বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা। এই মিশনের অধীনে, পাঁচটি নতুন সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরির কাজ চলছে এবং ছয়টি রাজ্যে ১০টি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মোট বিনিয়োগ প্রায় ১.৬ লক্ষ কোটি টাকা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ: বর্তমানে ‘বিক্রম-৩২’ একটি ১৮০-ন্যানোমিটার চিপ হলেও, ইসরোর পরবর্তী লক্ষ্য হলো ৬৫-ন্যানোমিটার চিপ তৈরি করা এবং আরও শক্তিশালী ৬৪-বিট সংস্করণ তৈরি করা। যদিও চীন ইতোমধ্যে ৭-ন্যানোমিটার চিপ তৈরি করেছে, ভারত এই খাতে দ্রুত উন্নতি করছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০% চিপ ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার ভারতেই কাজ করেন। এছাড়াও, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার ১০০-১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।
#বিক্রম৩২ #ইসরো #ডিজিটালইন্ডিয়া #সেমিকন্ডাক্টর #আত্মনির্ভরভারত #টেকনোলজি
#Vikram32 #ISRO #Semiconductor #MadeInIndia #DigitalIndia #AtmanirbharBharat
![]()






