বাংলার পাখি
স্বপ্না নাথ
ঊষা কালে দোয়েল ডাকে,
কাক ভোরের ই আগে,
কাকের চোখের ঘুম ভাঙ্গে যে,
রক্ত রবির রাগে।
চড়াই পাখি কিচিরমিচির,
যখন শুকায় প্রভাত শিশির,
শালিক গুলো জোড়ায় জোড়ায়,
ইতি উতি খাবার ফিকির।
লেবু গাছের ডালে ডালে,
বদ্রিগুলো লাফিয়ে চলে,
টুনটুনিরা বাসা বোনে,
বেগুনপাতার তলে তলে।
বড় সড় কুবো পাখি,
ঝোপে ঝাড়ে দেয় যে উকি,
যায়না দেখা বউ কথা কও,
বেনে বউ ও তারে ডাকি।
দ্বিপ্রহরে ঘুঘুর ডাকে,
ঘুমের আবেশ জড়িয়ে আসে,
বুলবুলি আর ফিঙের লেজ ঐ,
বৃক্ষ শাখায় ঝুলিয়ে বসে।
জলপিপি তার মাথা ডোবায়,
পানকৌড়ি ও জলের তলায়,
মাছরাঙ্গা তার সন্ধানী চোখ,
স্বজাগ রাখে মাছের বেলায়।
নীলকন্ঠ, সোনাক পালি, কাজল পাখি, হলদে পাখি,
নদীর চরে গাঙ শালিক আর,
ঝাঁকে ঝাঁকে চখা চখি।
মানব স্বর নকল করে,
বুলি শেখে ময়না, টিয়া,
দক্ষতায় আরেক কাঠি,
মাথায় ঝুটি কাকাতুয়া।
তুরমুতি বাজ, মোহনচূড়া,
জল কাঁদাতে কাঁদা খোচা,
রাঙা মুড়ি, মুনিয়া, কুজল,
লম্বা চঞ্চু হাঁ ড়ি চাঁচা।
ছাতারি পাখি ঝগড়া করে,
বনের আলো বনসুন্দরি,
অনর্গল ডাক দিয়ে যায়,
রঙে রঙে বসন্ত বৌরি।
বনমালী, মানিকজোড়,
আলবিল আর ফটিক জল,
তিতির, দাসা, প্যাঙ্গা আছে,
কমলা করে জল মরাল।
মদনডাক, ভিমরাজ,
কন্ঠ মধুর পাপিয়া,
দুধরাজ,হাড়গিলা,
সবুজ ঠোঁটের মালপোয়া।
উচ্চ নাচায় ডাহুক পাখি,
সাদা কালোয় খঞ্জনা,
বিশাল ঠোঁটের ধনেশ পাখি,
ডালে ঝিমায় লালখেনা।
হাঁস, মুরগির ডিমে তা’দেয় ,
একইভাবে মিষ্টি কোয়েল,
পায়রা, ময়ূর, মৌটুসী ও,
সব পাখি আর শঙ্খচিল।
চোখ গেল, হরবোলা,
কাপসি পাখি, চুটকি,
কাঠ ঠকানো কাঠ ঠোকরা,
লাল ঠোঁটের হট্টিটি।
মধু মাসে কোকিল ডাকে,
চাতকাকাশে তাকিয়ে থাকে,
বাদুড়, পেঁচা, চামচিকেরা,
নিশুতিতে খাবার চাখে।
চিল গুলো সব চক্রাকারে,
সন্ধ্যা কাশে দলে দলে,
তপন যখন অস্তাচলে,
বকের সারি কুলায় চলে।
শিল্পী পাখি ছোট্ট বাবুই,
বদরী দেখি রংবাহারি,
দুনিয়া জুড়ে হর কিসিমের,
বিহগ নাম কিতাবে পড়ি।
নিসর্গের এই চরাচরে,
পক্ষি কুল স্বর্গ গড়ে,
মানব মনের নয়ন তারায়,
তার সুষমা ঝরে পড়ে।
—oooXXooo—
(এখানে ৭১টা পাখি আছে)
![]()







