স্নো লিলি কটেজের রহস্য
—সুবর্ণ রুদ্র
গাড়ির এসি চালানো আর জানলার বাইরে মাইনাস টু ডিগ্রি, এই দুইয়ের মাঝখানে অরুণাভর মধ্যবিত্ত অস্তিত্বটা স্যান্ডউইচের পুরের মতো চেপ্টে যাচ্ছিল। পাশে বসা বউ নন্দিনী কাঁচের ওপারে জমে থাকা বরফের দিকে তাকিয়ে এমন তন্ময় হয়ে আছে, যেন পূর্বজন্মের কোনও প্রেমিককে দেখতে পেয়েছে। পেছনের সিটে পার্থ আর শ্রেয়া নিজেদের মধ্যে নিচু গলায় এমনভাবে হাসাহাসি করছে, যা শুনলে মনে হয় পৃথিবীর যাবতীয় সুখ ওদের প্যাকেজ ট্যুরে বাঁধা।
অরুণাভ স্টিয়ারিং-এ একটা হালকা চাপ দিয়ে ভাবল, ছুটি মানেই কি নিজেকে প্রকৃতির হাতে সঁপে দেওয়া? নাকি শহুরে যন্ত্রণা থেকে পালিয়ে এসে নতুন এক যন্ত্রণার কারখানায় ঢুকে পড়া? হিমডুংরি জায়গাটার নাম সে আগে শোনেনি। পার্থই খুঁজেপেতে বের করেছে। ‘দ্য স্নো-লিলি কটেজ’— ইন্টারনেটে ছবি দেখে মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড়। একেবারে সাহেবদের দেশের মতো ব্যাপার। কিন্তু এখানে পৌঁছানোর রাস্তাটা যে যমের অরুচি, তা সে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
অবশেষে যখন লজটার সামনে গাড়ি থামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। পাইন গাছের মাথায় জমে থাকা বরফের ওপর দিনের শেষ আলো পড়ে হিরের কুচির মতো চিকচিক করছে। চারপাশে এমন পিনপতন নীরবতা যে নিজের হৃৎপিণ্ডের শব্দও কানে বাজছে। লজটা যেন এক দৈত্যাকার কাঠের বাক্স, যার ভেতরে হাজারটা রহস্য ঘুমিয়ে আছে।
ভেতরে ঢুকতেই উষ্ণ অভ্যর্থনা। ঝলমলে আলো, পুরু কার্পেট, আর দেওয়ালে ঝোলানো শিকার করা পশুর মাথা। এক কথায় যাকে বলে—রাজকিয় ব্যাপার। কেয়ারটেকার চমনলাল নামের এক বেঁটেখাটো, কুচকুচে কালো পাহাড়ি লোক। হাসলে মুখের চামড়া কুঁচকে গিয়ে মনে হয় যেন একটা শুকনো আপেল। লোকটার চোখে একটা অদ্ভুত দ্যুতি আছে, যা ঠিক আরামদায়ক নয়।
প্রথম দুটো দিন স্বপ্নের মতো কাটল। সকালে বরফ নিয়ে ছোড়াছুড়ি, দুপুরে ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে গরম কফিতে চুমুক, আর রাতে হালকা নেশার ঘোরে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ। অরুণাভর মনে হচ্ছিল, পয়সা উসুল হয়ে গেল। নন্দিনীর মুখেও অনেকদিন পর সেই কলেজ জীবনের উচ্ছল হাসিটা ফিরে এসেছে। পার্থ তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে চারপাশের সৌন্দর্য নিয়ে অনর্গল কবিতা বলে চলেছে আর শ্রেয়া মুগ্ধ শ্রোতার মতো শুনে যাচ্ছে। সব ঠিকঠাকই ছিল।
গণ্ডগোলটা শুরু হল তৃতীয় দিন থেকে।
নন্দিনীই প্রথম ব্যাপারটা লক্ষ্য করল। সে অরুণাভকে বলল, “আচ্ছা, এই লজটায় আমরা ছাড়া আর কেউ নেই কেন? ক্রিসমাসের সময় তো সব জায়গায় ভিড় থাকে!”
অরুণাভ কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল, “এক্সক্লুসিভ প্রপার্টি, বুঝলে? পয়সা ফেললে বাঘের দুধও মেলে। পার্থর চেনা লোক আছে, তাই বোধহয় বুকিং পেয়েছি।”
কিন্তু নন্দিনীর মন থেকে খচখচানিটা গেল না। সেদিন বিকেলে সে লজের লাইব্রেরি ঘরে পুরনো বই ঘাঁটতে গিয়ে একটা চামড়ার বাঁধাই করা ডায়েরি খুঁজে পেল। পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে, কালির রঙ প্রায় অদৃশ্য। কোনও এক ‘সুচরিতা’ নামের মহিলার লেখা।
ডায়েরিটা খুলতেই এক অদ্ভুত শীতল স্রোত নন্দিনীর শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে গেল।
প্রথম কয়েকটা পাতায় লেখা ভালোবাসার কথা। সুচরিতা তার স্বামী-সন্তান, সাজানো সংসার ছেড়ে চলে এসেছিল তার প্রেমিক অনিমেষের সাথে। এই হিমডুংরির লজেই তারা নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু যত দিন যেতে লাগল, লেখার সুরটাও বদলাতে শুরু করল।
*“…আজ তিন দিন হল অনিমেষকে কেমন যেন অন্যমনস্ক লাগছে। ও বলে, এই বরফ নাকি জীবন্ত। রাতের বেলায় ফিসফিস করে কথা বলে। আমারও মাঝে মাঝে মনে হয়, জানলার বাইরে কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাকিয়ে দেখি শুধু সাদা বরফ আর কালো পাইনের জঙ্গল…”*
আরেকটা পাতায় লেখা— *“…এখানকার স্থানীয় লোকেরা আমাদের দিকে কেমন অদ্ভুতভাবে তাকায়। চমনলালের বাবা তখন এখানকার কেয়ারটেকার ছিল। সে আমাদের এড়িয়ে চলে। কাল রাতে অনিমেষের সাথে আমার খুব ঝগড়া হল। ও বলল, আমি নাকি ওর জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছি। ওর চোখে আমি ঘৃণা দেখেছি। যে চোখের দিকে তাকিয়ে ঘর ছেড়েছিলাম, সেই চোখে আজ আমার জন্য একরাশ বিতৃষ্ণা… এই পাহাড় কি মানুষের ভেতরের আসল রূপটা বের করে আনে?”*
শেষ পাতাটা নন্দিনীকে কাঁপিয়ে দিল।
“…অনিমেষ কাল রাত থেকে ফেরেনি। আমি জানি ও আর ফিরবে না। এই বরফ ওকে নিয়ে নিয়েছে। অথবা ও নিজেই বরফের মধ্যে মিলিয়ে গেছে। আমার ভয় করছে। খুব ভয়। দরজায় কেউ টোকা দিচ্ছে। কিন্তু বাইরে তো কেউ নেই… শুধু বরফ পড়ছে…।”
ডায়েরিটা বন্ধ করে নন্দিনী যখন মুখ তুলল, তখন তার মুখ ফ্যাকাসে। তার মনে হল, এই লজের দেওয়ালগুলো যেন অতীতের চাপা দীর্ঘশ্বাস দিয়ে তৈরি।
সেদিন রাতেই প্রথম অঘটনটা ঘটল। ডিনারের সময় শ্রেয়া হঠাৎ করে পার্থর ওপর চেঁচিয়ে উঠল। কারণটা সামান্য। পার্থ শ্রেয়ার প্লেটে ভুল করে মাটন দিয়ে ফেলেছিল, শ্রেয়া যেটা খায় না। কিন্তু সেই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিস্ফোরণ ঘটল, তা অভাবনীয়। শ্রেয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল, “তুমি কোনোদিনই আমার পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দাওনি। তোমার জীবনে আমি ছাড়া আরও হাজারটা ‘অপশন’ আছে, তাই না?”
পার্থ হতভম্ব। অরুণাভ আর নন্দিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু শ্রেয়ার রাগের আসল কারণটা যেন অন্য কোথাও লুকানো। সেই রাত থেকে চারজনের সম্পর্কে একটা সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিল। যে বন্ধুত্ব আর প্রেমকে তারা শহরের কংক্রিটের জঙ্গলে সযত্নে লালন করেছিল, এই বরফঢাকা নির্জনতা যেন তার ওপর একটা বরফ-শীতল হাতুড়ির ঘা বসিয়ে দিল।
পরদিন সকালে পরিবেশটা আরও থমথমে। পার্থ আর শ্রেয়া একে অপরের সাথে কথা বলছে না। অরুণাভ ব্যাপারটা হালকা করার জন্য বলল, “চল, আজ ট্রেকিংয়ে যাই। মন ভালো হয়ে যাবে।”
কিন্তু তার প্রস্তাবে কেউ সাড়া দিল না। নন্দিনী ডায়েরিটার কথা অরুণাভকে বলেছিল। অরুণাভ যথারীতি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, “আরে ধুর! ওসব পুরনো দিনের মেলোড্রামা। নিশ্চয়ই লোকটা ভেগে গেছিল আর মহিলা মনের দুঃখে গল্প ফেঁদেছে।”
কিন্তু নন্দিনীর মনে হচ্ছিল, গল্পটা এত সহজ নয়। সে চমনলালকে একা পেয়ে ডায়েরিটার কথা জিজ্ঞেস করল। চমনলালের মুখের হাসিটা মুহূর্তে মিলিয়ে গেল। সে নিচু গলায় বলল, “ম্যাডামজি, কুছ বাতেঁ বরফ কে নিচে দবা হুয়া হি আচ্ছা হ্যায়। আপলোগ শহর কে আদমি, ইয়ে সব নেহি সমঝেঙ্গে। ইয়ে পাহাড় দিল ভি লেতা হ্যায়, অউর জান ভি।” (কিছু কথা বরফের নিচে চাপা থাকাই ভালো। আপনারা শহরের মানুষ, এসব বুঝবেন না। এই পাহাড় মনও নেয়, আবার প্রাণও নেয়।)
চমনলালের কথাগুলো নন্দিনীর ভয়টাকে আরও বাড়িয়ে দিল। সেদিন বিকেলে সে দেখল, পার্থ একা একা জঙ্গলের দিকে হেঁটে যাচ্ছে, হাতে তার স্কেচবুক। আর তার কিছুক্ষণ পর শ্রেয়াও অন্য একটা রাস্তা দিয়ে সেদিকেই গেল। ব্যাপারটা নন্দিনীর অদ্ভুত লাগল।
অরুণাভ তখন লজের ভেতরে বসে ল্যাপটপে অফিসের কাজ সারছিল। নন্দিনী তাকে কথাটা বলতে সে বিরক্ত হয়ে বলল, “ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে তুমি মাথা গলাচ্ছ কেন? ওরা কি বাচ্চা ছেলেমেয়ে? নিজেরা বোঝাপড়া করে নেবে।”
কিন্তু নন্দিনীর মন মানল না। সে একটা শাল জড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে এল। বরফের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে পার্থ আর শ্রেয়াকে খুঁজতে লাগল। বেশ কিছুটা যাওয়ার পর একটা বড় পাথরের আড়াল থেকে সে পার্থ আর শ্রেয়ার গলা শুনতে পেল।
শ্রেয়া প্রায় ফিসফিস করে বলছে, “আমরা আর কতদিন এভাবে লুকিয়ে রাখব, পার্থ? অরুণাভকে সব বলে দেওয়া উচিত।”
পার্থর গলায় অধৈর্য। “কি বলবে? বলবে যে, তোমার আর আমার সম্পর্কটা আজকের নয়, কলেজের সময় থেকেই? বলবে যে, তুমি অরুণাভকে ভালোবাসো বলে যে অভিনয়টা এতদিন করে এসেছ, সেটা আসলে একটা মিথ্যে? নন্দিনীকে কি জবাব দেবে?”
“কিন্তু আমি আর পারছি না! নন্দিনীর সরল মুখের দিকে তাকিয়ে আমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আর অরুণাভ… ও তোমাকেও অন্ধের মতো বিশ্বাস করে।”
নন্দিনী পাথরের পেছনে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল। শুধু ঠান্ডায় নয়, বিশ্বাসঘাতকতার তীব্র আঘাতে। তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু আর তার স্বামীর সবচেয়ে কাছের বন্ধু… এই বরফঢাকা পাহাড় যেন এক ঝটকায় সবার মুখের মুখোশটা খুলে দিয়েছে।
সে নিঃশব্দে লজে ফিরে এল। অরুণাভকে কিছু বলল না। বললে কি হবে? যে বিশ্বাসটা ভেঙে গেছে, তা কি আর জোড়া লাগবে? তার মনে হল, সুচরিতার ডায়েরির কথাগুলো সত্যি। এই জায়গাটা মানুষের ভেতরের লুকিয়ে থাকা ক্লেদ, দুর্বলতা আর গোপন ইচ্ছেগুলোকে বের করে আনে।
রাত নামল। সঙ্গে শুরু হল ভয়ঙ্কর তুষারঝড়। মনে হচ্ছিল, পুরো আকাশটা যেন তাদের ছোট্ট কটেজটার ওপর ভেঙে পড়বে। বিদ্যুৎ চলে গেল। জেনারেটরের ঘরঘরে আওয়াজ আর টিমটিম করে কয়েকটা আলো জ্বলছে। বাইরে একটানা শোঁ শোঁ আওয়াজ।
এর মধ্যেই আবার শুরু হল পার্থ আর শ্রেয়ার ঝগড়া। এবার আর চাপা গলায় নয়, চিৎকার করে। তাদের বহু পুরনো দিনের জমে থাকা ক্ষোভ, অভিমান, আর অপ্রাপ্তিগুলো বেরিয়ে আসতে লাগল। একসময় শ্রেয়া কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। পার্থও তার পেছন পেছন গেল।
অরুণাভ আর নন্দিনী ফায়ারপ্লেসের সামনে চুপ করে বসে রইল। অনেকক্ষণ পর অরুণাভ নন্দিনীর হাতটা ধরে বলল, “আমাদের মধ্যে এমন কিছু নেই তো, নন্দিনী?”
নন্দিনী অরুণাভর চোখের দিকে তাকাল। যে চোখটা দেখে সে একদিন সব ছেড়ে চলে আসতে পারত, আজ সেই চোখে সে দেখল একরাশ নিরাপত্তাহীনতা আর ভয়। সে আস্তে করে বলল, “আমাদের মধ্যেও অনেক কথা চাপা পড়ে আছে, অরুণাভ। যা আমরা কোনোদিন একে অপরকে বলিনি।”
হঠাৎ বাইরে থেকে একটা আর্তনাদ ভেসে এল। তীক্ষ্ণ, ভয়ার্ত চিৎকার। তারপর সব চুপ। শুধু বরফ ঝড়ের একটানা গর্জন।
অরুণাভ আর নন্দিনী ছুটে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু চমনলাল দরজা আগলে দাঁড়াল। তার চোখে সেই অদ্ভুত দ্যুতি। সে শান্ত গলায় বলল, “বাহার মত্ যাইয়ে, বাবুজি। তুফান বহুত তেজ হ্যায়। যো গেয়া, উয়ো আব পাহাড় কা হো গেয়া।” (বাইরে যাবেন না, বাবুজি। ঝড় খুব জোরালো। যে গেছে, সে এখান পাহাড়ের হয়ে গেছে।)
সেই রাতটা কিভাবে কাটল, তা অরুণাভ বা নন্দিনীর মনে নেই। পরদিন সকালে ঝড় থেমে গেল। চারদিকে ধবধবে সাদা বরফের আস্তরণ। কোথাও একচুল দাগ নেই। আকাশটা নীল, যেন গতরাতে কিছুই হয়নি।
পার্থ আর শ্রেয়া ফেরেনি।
পুলিশ এল। অনেক খোঁজাখুঁজি হল। কিন্তু বরফের নিচে তাদের কোনো চিহ্ন পাওয়া গেল না। যেন তারা বাতাসে মিলিয়ে গেছে। পুলিশ রিপোর্টের ফাইলে লেখা হল— ‘Accidental death due to blizzard’। (‘তুষারঝড়ের কারণে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ )
কলকাতা ফিরে আসার পর অরুণাভ আর নন্দিনীর জীবনটা বদলে গেল। তারা আর আগের মতো হাসে না, কথা বলে না। একটা অদৃশ্য দেওয়াল তাদের মধ্যে উঠে গেছে। তারা দুজনেই জানে, পার্থ আর শ্রেয়ার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে শুধু বরফঝড় দায়ী নয়। দায়ী তাদের নিজেদের ভেতরকার ঝড়, যা হিমডুংরির বরফশীতল নির্জনতায় বেরিয়ে এসেছিল।
মাঝে মাঝে রাতে নন্দিনীর ঘুম ভেঙে যায়। তার মনে হয়, হিমডুংরির সেই লজটা তাদের ডাকছে। তার কানে ভাসে সুচরিতার ডায়েরির শেষ লাইনটা— *“দরজায় কেউ টোকা দিচ্ছে… কিন্তু বাইরে তো কেউ নেই… শুধু বরফ পড়ছে…।”*
হিমডুংরির রহস্য আজও অধরা। স্থানীয়রা বলে, ওই পাহাড় নাকি ‘অশুদ্ধ’ বা ‘ভাঙা’ ভালোবাসার বলি চায়। যে প্রেম তার সততা হারায়, যে সম্পর্ক বিশ্বাসঘাতকতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, পাহাড় তাকে নিজের গভীরে টেনে নেয়। পার্থ আর শ্রেয়া কোনো দুর্ঘটনায় মারা যায়নি, বা হারিয়েও যায়নি। তারা আসলে তাদের সম্পর্কের মিথ্যে আর অন্তঃসারশূন্যতার অতলে তলিয়ে গেছে। অরুণাভ আর নন্দিনী বেঁচে ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের সম্পর্কটাও সেই বরফের নিচেই চিরকালের জন্য কবর হয়ে গেছে। বাইরের পৃথিবীতে তারা কেবল দুটো শরীর, যারা একটা অভিশপ্ত ছুটির স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। ভালোবাসা যেখানে টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়, সেখানে বেঁচে ফেরাটাও এক ধরনের মৃত্যুর সামিল।
শেষ
![]()







