কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, হিরন ঘোষাল: সালের নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু সম্মেলন, COP 30। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনকে সামনে রেখে আজ কলকাতার প্রেস ক্লাবে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ‘COP 30: বিশ্ব, ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর তাৎপর্য’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজক ছিল কলকাতার ব্রাজিল দূতাবাস, এনভায়রনমেন্ট গভর্নেড ইন্টিগ্রেটেড অর্গানাইজেশন (EnGIO), প্রেস ক্লাব, ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়া (CANSA) এবং দ্য প্লুরালস।
COP 30 কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
COP, বা ‘কনফারেন্স অফ দ্য পার্টিজ’, হল রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রূপরেখা চুক্তি (UNFCCC)-এর সদস্য দেশগুলির বার্ষিক বৈঠক। ১৯৭টি সদস্য রাষ্ট্র এই সম্মেলনে অংশ নেয় এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করে। এই সম্মেলন বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ২°C-এর নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫°C-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। COP 30-তে সদস্য দেশগুলি তাদের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করবে এবং নতুন করে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা (Nationally Determined Contributions – NDCs) ঘোষণা করবে।
ভারতের ভূমিকা ও প্রত্যাশা
ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশ। জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও, ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল পরিকাঠামো নির্মাণে প্রচুর বিনিয়োগ করছে।
- পরিসংখ্যান: ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে তার মোট বিদ্যুতের ৫০% অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। দেশের সৌর এবং বায়ুশক্তির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৬৫ গিগাওয়াট, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ গিগাওয়াটে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
COP 30-তে ভারত উন্নত দেশগুলির কাছে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানাবে। উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থসাহায্যের যে প্রতিশ্রুতি উন্নত দেশগুলি দিয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য COP 30 কেন জরুরি?
পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিকভাবে এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। একদিকে, সুন্দরবনের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বারবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানছে। অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং বন্যার মতো ঘটনা বাড়ছে।
- পরিসংখ্যান: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা এবং তীব্রতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। সুন্দরবনের নদীগুলোতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বহু মানুষ জীবিকা হারাচ্ছেন এবং জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।
COP 30 সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু সহনশীল পরিকাঠামো, উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অর্থায়ন রাজ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আলোচনা থেকে উঠে আসা মূল বিষয়
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি নীতি, বেসরকারি উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। বিশেষ করে, উন্নত দেশগুলিকে তাদের ঐতিহাসিক নির্গমনের দায় স্বীকার করে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে।
এই আলোচনার মাধ্যমে COP 30-এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
#COP30 #জলবায়ু_সম্মেলন #জলবায়ু_পরিবর্তন #কলকাতা #বেলেম #ব্রাজিল #পরিবেশ #জলবায়ুসংকট #পশ্চিমবঙ্গ #ভারত #UNFCCC
#COP30 #ClimateSummit #ClimateChange #Kolkata #Belem #Brazil #Environment #ClimateAction #WestBengal #India #UNFCCC
![]()






