কলকাতা: ২৫ আগস্ট, ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নারীদের ভূমিকা আজ আর কেবল অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তাঁরা এখন এই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নারী শক্তি থেকে বিকশিত ভারত’ স্লোগানকে সামনে রেখে, দেশ জুড়ে এক বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই রূপান্তরকারী পরিবর্তনের ফলে নারীরা আর চিরাচরিত ভূমিকার বেড়াজালে আবদ্ধ নন, বরং তাঁরা অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করছেন। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণে দেশের ৭০ শতাংশ মহিলার কর্মে যোগদান নিশ্চিত করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক পিএলএফএস (Periodic Labour Force Survey) তথ্য থেকে জানা যায়, দেশের কর্মসংস্থানে মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে যেখানে এই হার ছিল ২২ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০.৩ শতাংশে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৫.৬ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৩.২ শতাংশ। গ্রামীণ ভারতে এই পরিবর্তন আরও বেশি লক্ষণীয়, যেখানে মহিলাদের কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এই বৃদ্ধির হার ৪৩ শতাংশ।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও নারীরা এগিয়ে চলেছেন। ২০১৩ সালে মহিলা স্নাতকদের কর্মসংস্থান লাভের সুযোগ ছিল ৪২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৪৭.৫৩ শতাংশ। স্নাতকোত্তর এবং উচ্চতর শিক্ষা প্রাপ্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ২০১৭-১৮ সালের ৩৪.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে হয়েছে ৪০ শতাংশ।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সংগঠিত ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। গত সাত বছরে ১.৫৬ কোটিরও বেশি মহিলা সংগঠিত ক্ষেত্রে যোগদান করেছেন। ই-শ্রম পোর্টালে ১৬.৬৯ কোটিরও বেশি অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলা শ্রমিক নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন, যার ফলে তাঁরা বিভিন্ন সরকারি সমাজকল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’-র মতো প্রকল্প নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করছে। ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড (DPIIT) দ্বারা নথিভুক্ত স্টার্টআপগুলির প্রায় ৫০ শতাংশেরই একজন মহিলা ডিরেক্টর রয়েছেন। পিএম মুদ্রা যোজনার মোট ঋণের ৬৮ শতাংশই পেয়েছেন মহিলা উদ্যোক্তারা, যা তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলছে। একইভাবে, পিএম স্বনিধি প্রকল্পের প্রায় ৪৪ শতাংশ সুবিধাভোগীই মহিলা বিক্রেতা।
‘লাখপতি দিদি’ এবং ‘নমো ড্রোন দিদি’র মতো ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচিগুলো নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হয়েছেন, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র পরিবর্তন করছে। এছাড়াও, মহিলা পরিচালিত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ভারতের অর্থনৈতিক প্রসারের এক নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ২০১০-১১ সালে যেখানে মহিলা মালিকানাধীন সংস্থার হার ছিল ১৭.৪ শতাংশ, ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে ২৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। মহিলা পরিচালিত এমএসএমই-র সংখ্যাও একই সময়ে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি থেকে ১.৯২ কোটি হয়েছে। এর ফলে ২১-২৩ অর্থবর্ষে ৮৯ লক্ষেরও বেশি অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
গত এক দশকে দেশের ‘জেন্ডার বাজেট’ প্রায় ৪২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ‘নারী উন্নয়ন’ থেকে ‘নারীর নেতৃত্বে উন্নয়ন’-এর এক সুস্পষ্ট প্রমাণ। মোদী সরকার নারী শক্তিকে সবরকমভাবে সহায়তা করতে দায়বদ্ধ। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোগপতি হিসেবে গড়ে তোলা এবং কাজের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। নারীরা এখন কেবল অর্থনীতির অংশ নয়, তাঁরাই ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মেরুদণ্ড।
আপনাদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে কীভাবে আরও গতি আনতে পারে? আমাদের Comment করে জানান।
![]()






