সম্পর্কের পূর্ণচ্ছেদ
সুপর্ণা দত্ত
নববধূ রূপে প্রবেশ করেছি যবে
হাজারো স্বপ্ন ঘিরে ছিল চোখে,
সাতপাকে বাঁধা পড়ে এঁকেছিলাম মনে
অগ্নি সাক্ষী করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম,
তোমার আঙ্গিনায় এসে দাঁড়ালাম
ছিন্ন করে জন্মসূত্রে পাওয়া পদবীর ডোর
বাবার স্নেহের আঙ্গিনা ছেড়ে তোমার হাতটি ধরে,
নবজীবনের আস্বাদনে ভরপুর নবযৌবন
সম্পর্কের নব নব রূপ ঘিরেই নব জীবন লাভ।
শুরুটা বেশ ভালোই ছিল
স্বপ্নের মত কেটেছিল বেশ কয়েক বছর
যেমনটি সকল মেয়ের কাছে কাম্য
ঠিক যেমনটি বাবা-মা ভাবে সন্তানকে ঘিরে,
দিন,মাস,বছর কেটে যায় মহাসুখে
মধ্যবিত্ত পরিবারে অল্পতেই খুশি ছিলাম,
উচ্চাশা করিনি কোনোদিন কোন কিছুতে
সবকিছু মানিয়ে নিয়েছি যেমনটি পেয়েছি।
বাপের বাড়ির আদর-যত্ন ছেড়ে আসার কষ্ট
ভুলেই গিয়েছিলাম প্রায় নবজীবনের সমাদরে,
আমার শিক্ষা জীবনের সমস্ত ডিগ্রিকে
মনে হয়েছিল খুবই তুচ্ছ তোমার ব্যক্তিত্বের কাছে,
বুঝিনি তখন আমার জীবনের কালবৈশাখী ঝড়
কড়া নাড়বে আমার সুখের দরজায় এসে,
ভাবিনি কখনও তছনছ হয়ে যাবে কোনোদিন
তোমার-আমার সম্পর্ক তাসের ঘরের মত।
দুবছর পরে নিভৃতে কাটাতে দুজন
গিয়েছিলাম দীঘার সমুদ্র তটে,
সমুদ্রের ঢেউ করেছিল মনকে উথাল-পাথাল
ঝাউ বনের মনোরম দৃশ্যে উদাস ছিল মন,
এমন সময় তিনজন দুর্বিত্ত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল
মুহূর্তের মধ্যেই তারা তোমার সামনে থেকেই
যেন ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গেল আমাকে
তুমি তাকিয়ে দেখলে আমার অসহায়তা কাপুরুষের মত।
ভেবেছিলাম তখন তুমি দুর্বিত্তের কাছে অসহায়
ক্ষমতার কাছে তুমি করেছো মাথানত,
নিজের থেকে তোমার জীবন বাঁচানোকে দিয়েছি অগ্রাধিকার
সেটাই কি ছিল আমার মূল অপরাধ?
নিজেকে বাঁচাতে আহুতি দিলে আমার সতীত্ব
সারা দিলে না আমার কোনো আকুতিতে
মুখে ছিল না তোমার বিন্দুমাত্র ক্লেশ
কিছুই কি করার ছিল না তোমার?
অবজ্ঞার হাসি হেসেছিলে তুমি
ভূপতিত লাশসম অসহায় আমাকে দেখে,
চলে গিয়েছিলে ঝাউবনে আমাকে শায়িত রেখে
বুঝিনি তখনও শিকার হয়েছি তোমার জঘন্য প্ল্যানের;
পুলিশের সাহায্যে ফিরে এলাম যখন ঘরে
কুলটা বলে আখ্যান দিলে ঘরে তো নিলে তখন,
পরবর্তিতে অন্য নারীতে আসক্ত হলে তুমি
ধীরে ধীরে তোমার জীবনে মূল্যহীন হলাম আমি।
বুঝলাম শেষে নিত্য নতুন সঙ্গীনীতেই সুখী
দুবছরের এই সুখী গৃহকোণ হয়ে ওঠে নরক সম,
তোমার-আমার সম্পর্কে নেমে এল ঘনঘটা
পূর্ণচ্ছেদ ঘটল একদিন আমাদের সম্পর্কের
কি বা দোষ ছিল বলতে পারো নারী হয়ে জন্মিয়ে
পুরুষ হয়ে নারীর সম্মানে এইভাবে আঘাত হানে!
স্বামী হয়ে স্ত্রীকে ঠেলে দেয় এমন নরকে
শত ধিক্কার জানাই আমি এমন অশালীন সম্পর্কে।
পূর্ণচ্ছেদ হয়েছে বিবাহের জীবনটা টিকে আছে
বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে সে বাড়িতেও ঠাঁই নাহি থাকে,
অগত্যা নারী জীবন সংগ্রামে একাকী লড়াই করি
বাবা-মায়ের শিক্ষাদীক্ষার আজ গুরুত্ব বুঝি,
সমাজের চোখে ধর্ষিতা,কুলটা,ডিভোর্স মেয়ে বটে
চাকরি ক্ষেত্রে ও চলাচলের পথে নানা কুপ্রস্তাব জোটে,
তবুও আজকে মুক্ত আমি স্বাধীনচেতা মন
সম্পর্কের পূর্ণচ্ছেদে কেটে গেছে সুখী গৃহকোণের ঘোর।
* ঘটনা সত্য হলেও চরিত্র কাল্পনিক *
—oooXXooo—
![]()







