কলকাতা, ২২শে আগস্ট, ২০২৫, হিরন্ময় ঘোষাল, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ কলকাতায় এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে এসে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এর পাশাপাশি, তিনি ডুমডুমের জনসভায় যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে কেন্দ্র সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। এই সফর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কলকাতা মেট্রোর নতুন তিনটি অংশের উদ্বোধন। নোয়াপাড়া থেকে জয় হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা, শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড এবং বেলেঘাটা থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি ক্রসিং) পর্যন্ত রুটের উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে। বিশেষভাবে, বিমানবন্দর এবং শহরের আইটি হাবের সঙ্গে সরাসরি মেট্রো সংযোগ চালু হওয়ায় প্রযুক্তি পেশাজীবী এবং যাত্রীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।


জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, কেন্দ্র সরকার গরিব মানুষের উন্নয়নের জন্য যে অর্থ পাঠাচ্ছে, তা সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছানোর পর লুট হয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই টাকা তৃণমূলের ক্যাডারদের পকেটে যাচ্ছে, যার ফলে রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতিকে অসম এবং ত্রিপুরার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ওই দুই রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নের গতি বেড়েছে। একই ধরনের ‘আসল পরিবর্তন’ পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।
মোদি বলেন, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার একটি নতুন দুর্নীতি বিরোধী আইন এনেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে যে কোনো সরকারি কর্মকর্তার দুর্নীতির জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস এই আইনের বিরোধিতা করছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিজেপির ভিশন তুলে ধরে তিনি কর্মসংস্থান, উন্নয়ন এবং সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু করা হবে এবং ব্যারাকপুর ও দমদম অঞ্চলকে শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী যে মেট্রো প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করছেন, সেগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন অনুমোদন পেয়েছিল এবং এখন বিজেপি শুধু এর কৃতিত্ব নিচ্ছে। এই ধরনের পাল্টা অভিযোগ-পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফর বিজেপির জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে, যেখানে তারা রাজ্যের উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাইছে।
![]()






