কলকাতা, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে ভারতের এক উচ্চাভিলাষী সড়ক প্রকল্প, যা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গকে সংযুক্ত করবে। এই প্রকল্পটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী শ্রী নীতিন গড়করি এই এক্সপ্রেসওয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে জানা গেছে যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ডিটেইল্ড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা এই রাজ্যের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাচ্ছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি:
শ্রী নীতিন গড়করির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে এবং দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের অংশে কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। এর কারণ ছিল রুটের পরিবর্তন। প্রথমে বারাণসী-রাঁচি-কলকাতা রুটটি অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধে, অক্টোবর ২০২৪-এ একটি সংশোধিত রুট অনুমোদন পায়। এই সংশোধিত রুটের ফলে পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি জেলার মধ্যে দিয়ে এক্সপ্রেসওয়েটি যাবে। এই জেলাগুলো হলো পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা।
পশ্চিমবঙ্গে জমি অধিগ্রহণ:
এই বিশাল প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গের জমি অধিগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং হুগলি জেলায় জমি অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় সড়ক আইন, ১৯৫৬-এর ৩(এ) ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি পশ্চিমবঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার পথে একটি ইতিবাচক সংকেত।
প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি কলকাতার সাথে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোকে সরাসরি যুক্ত করবে, যার ফলে পণ্য পরিবহণের সময় এবং খরচ অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়াও, এই এক্সপ্রেসওয়েটি শিল্প, ব্যবসা এবং পর্যটনের প্রসারে সাহায্য করবে, যা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান যে, প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যান-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। ডিপিআর-এর ফলাফল, সংযোগের প্রয়োজনীয়তা এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই প্রকল্পের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই এক্সপ্রেসওয়েটি শুধুমাত্র একটি সড়কপথ নয়, বরং এটি রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে নতুনভাবে সাজাতে সাহায্য করবে। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের এই বৃহৎ প্রকল্পটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করবে। এখন দেখার বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের ডিপিআর তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয় এবং এই রাজ্যের মাটিতে বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ের স্বপ্নের বাস্তবায়ন কত তাড়াতাড়ি শুরু হয়।
![]()






