কলকাতা, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, নিজস্ব প্রতিবেদন: দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতা মেট্রোর মানচিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।
শুক্রবার বিকেল ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ যশোহর রোড মেট্রো স্টেশন থেকেই ইয়েলো লাইনের (নোয়াপাড়া-বারাসত) নোয়াপাড়া থেকে জয়হিন্দ বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত অংশে মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর। ওই স্টেশন থেকেই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর) হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেশন (রুবি) থেকে বেলেঘাটা স্টেশন এবং গ্রিন লাইনের (সেক্টর ফাইভ-হাওড়া ময়দান) এসপ্ল্যানেড স্টেশন থেকে শিয়ালদহ স্টেশন অংশে মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার কথা প্রধানমন্ত্রীর।
শহরের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান – জয় হিন্দ মেট্রো স্টেশন (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর), খুব শীঘ্রই দুটি ভিন্ন মেট্রো পথের মিলনস্থলে পরিণত হতে যাচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদের জন্য শুধু যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং মেট্রো পরিষেবা আরও বেশি কার্যকর এবং সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।।।
বর্তমানে, কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন (নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর) এবং এয়ারপোর্ট মেট্রো (নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর) এই দুটি পৃথক প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে। এই দুই লাইনেরই শেষ স্টেশন হবে বিমানবন্দর। রেলওয়ে বোর্ড সূত্রে খবর, এই দুটি মেট্রো লাইনকে এমনভাবে সংযুক্ত করা হচ্ছে যাতে যাত্রীরা এক লাইন থেকে অন্য লাইনে সহজেই পরিবর্তন করতে পারেন।
এয়ারপোর্ট মেট্রোর নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর রুটে কাজ শেষ। অন্যদিকে, নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। রেলওয়ে বোর্ড এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, এই দুটি লাইন চালু হয়ে গেলে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সরাসরি মেট্রোর মাধ্যমে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন। এর ফলে সময় এবং খরচ দুটোই বাঁচবে। শুধু তাই নয়, শহরের যানজট কমাতেও এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।
যাত্রীদের জন্য সুবিধা: বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশনটি আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। এখানে এস্কেলেটর, লিফট এবং অন্যান্য যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থা থাকবে। এই স্টেশন দুটি লাইনের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করবে, যেখানে একটি প্ল্যাটফর্মেই এক ট্রেন থেকে নেমে অন্য ট্রেনে ওঠার সুযোগ পাওয়া যাবে। এতে করে যাত্রীদের এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করতে হবে না।
এই সংযোগস্থলটি কার্যকর হলে, হাওড়া এবং শিয়ালদহের মতো প্রধান রেল স্টেশনগুলো থেকেও যাত্রীরা মেট্রোর মাধ্যমে সহজে বিমানবন্দরে আসতে পারবেন। এটি কলকাতার গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও গতিশীল করে তুলবে।
![]()






