বারাসাত, ১৪ই আগস্ট: বৃহস্পতিবার বারাসাত রবীন্দ্রভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হলো কন্যাশ্রী দিবস। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান এক উৎসবের রূপ নেয়।
রাজ্য সরকারের অন্যতম সফল প্রকল্প কন্যাশ্রী, যা মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে এবং বাল্যবিবাহ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তারই সাফল্যকে উদযাপন করতে এই বিশেষ দিনের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মেধাবী ছাত্রীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। যারা পড়াশোনায় অসাধারণ ফল করেছে এবং সমাজে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে, তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি তাঁর বক্তব্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বপ্ন প্রকল্প আজ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মেয়েকে নতুন জীবনের দিশা দেখাচ্ছে। কন্যাশ্রী শুধুমাত্র একটি আর্থিক সহায়তা নয়, এটি নারীশক্তির জাগরণের প্রতীক।”
এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। জেলাশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের জেলায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় আসা ছাত্রীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয়। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছি।”
অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্থানীয় স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা গান, নাচ এবং আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে। কন্যাশ্রী প্রকল্পের উপর ভিত্তি করে একটি নাটিকাও মঞ্চস্থ করা হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এই বিশেষ দিনে, ছাত্রীরাও তাদের নিজেদের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে। অনেকে জানায়, কন্যাশ্রীর আর্থিক সাহায্য তাদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কতটা সহায়ক হয়েছে এবং কীভাবে এই প্রকল্প তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করছে।
অনুষ্ঠান শেষে মিষ্টিমুখ এবং মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা ছিল। সব মিলিয়ে, বারাসাতের রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত এই কন্যাশ্রী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানটি এক নতুন উদ্দীপনা এবং আশার বার্তা দিয়ে শেষ হয়।
![]()






