ঘাসফড়িং
সুপর্ণা দত্ত
ক্যালিফেরা অধস্তন অর্থ্রোপোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত পতঙ্গ
মাথা,বুক,পেট-এই তিনটি ভাগে বিভক্ত এর অঙ্গ,
তিনজোড়া পায়ের সামনের দুটি জোড়া ছোট
খাদ্য সংগ্রহের জন্য এই পাগুলি খুবই উপযুক্ত,
পিছনের পাজোড়া বড়ো এবং বেশ শক্তিশালী
তারই জোরে মাটির উপরে লাফিয়ে বেড়ায় খালি।
ট্রায়াসিক যুগের জীবন্ত তৃণভোজি পতঙ্গের মধ্যে একটি
পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই ঘটে এই পতঙ্গের বিচরণটি,
পাঁচটি মোল্লার মধ্য দিয়ে চলে এদের জীবনচক্র
প্রতিটি পর্যায়ে বিকাশ এদের প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গের মত,
ডিম থেকে যখন নিম্ফ বের হয় তাকে ফড়িং বলে জানি
ডানাবিহীন এরা মাটির উপরে লাফিয়ে বেড়ায় খালি।
পর্যায়ক্রমে ঘাসফড়িং হয়ে ওঠে পঙ্গপালের দল
রঙ ও আচরণ পরিবর্তন করে ধ্বংস করে বিস্তৃত ফসল,
খোলস পাল্টে রূপ-মাধুর্য্য পরিবর্তন করে সহজেই
ছদ্মবেশ ধরে শিকারীদের থেকে নিজেকে রক্ষা করে নিজেই,
ডানা মেলে দলবেঁধে আকাশে যখন উড়ে যায়
মনে হয় ওরা উজ্জ্বল ডানার ঝলকানিতে শিকারীকে ভয় দেখায়।
বুকের সাথে যুক্ত পেটের প্রথম অংশে থাকে টাইমপ্যানাল
যার মাধ্যমেই এরা শুনতে পায় আগত বিপদের সিগনাল,
যৌগিক চোখের দৃষ্টিশক্তিতে নজর রাখে চারিদিকে
সরল চোখে আলোর তীব্রতা পরিবর্তন অনুভব করে,
ঘাসফড়িং এর মাথায় দুটি লম্বা অ্যান্টেনা দেখা যায়
এটি সাহায্য করে স্পর্শ, ঘ্রাণ ও কিছু শ্রবণের সহায়তায়।
ঘাসফড়িং-এর নিম্নমুখী মুখের অংশগুলো চিবাতে সাহায্য করে
চোয়ালের সামনে দুটি সংবেদনশীল পাল্পও খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে,
পঙ্গপালের ঝাঁক চাষিদের জন্য ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে
মারাত্মক আকার ধারন করে এরা দুর্ভিক্ষের কারণ হতে পারে,
মেক্সিকো,ইন্দোনেশিয়ার মত দেশে এরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়
ঘাসফড়িং প্রজাতিকে নিয়ে গবেষণাকে অ্যাক্রিডোলজি বলা হয়।
মিশ্রিত বক্ষাংশের দুইজোড়া ডানা টেগমিনা নামে পরিচিত
এগুলি আকারে সরু ও পাতলা চামড়াযুক্ত,
পিছনের ডানাগুলি বড়,ঝিল্লিযুক্ত ও শক্তিশালী শিরা বিশিষ্ট
পাগুলি আঁকড়ে ধরার জন্য নখরযুক্ত ও কাঁটা বিশিষ্ট,
পিছনের পাগুলি সামনের পায়ের থেকে বড় ও শক্তিশালী হয়
দীর্ঘ দূরত্ব লাফ দিয়ে এরা বিপদ থেকে পালায়।
এরা স্ট্রিডুলেশনের মাধ্যমে এক প্রকার শব্দ করে থাকে মূলত স্ত্রী পাখিদের আকৃষ্ট করে থাকে,
এরা সাধারণত উষ্ণ রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশে বাড়ে
চারণভূমি,তৃণভূমি,শস্যক্ষেত্র,শাকসব্জি আক্রান্ত হতে পারে,
ঘাসফড়িং পরিবেশের শুধুই ক্ষতিকারক তাই নয়
কিছু প্রজাতির গাসফড়িং পরাগায়নে সাহায্য করে যায়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঘাসফড়িং বিশেষ ভুমিকা নেয়
প্রোটিন,ভিটামিন,খনিজ পদার্থ পরভোজীদের উপাদেয়,
ঘাস,গাছের পাতা খেয়ে এরা জমিতে পরগাছা কমাতে সাহায্য করে
তেমনিভাবেই শিকারী প্রাণীরা ঘাসফড়িং-এর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে,
এদের মল মাটিতে মিশে মাটির উর্বর বাড়াতে সাহায্য করে
সর্বসাকুল্যে ভাল-মন্দে ঘাসফড়িং বিশেষভাবে অংশগ্রহণ করে।
—oooXXooo—
![]()







