শ্রমের জয়গাথা (মে দিবসের অর্ঘ্য)
ড. মদনচন্দ্র করণ
পৃথিবী কৃপণ নয়—
সে এক বিশ্বমাতা,
যার বুকে ফল-ফুল-শস্যের ঢল,
আলোর মতন ঝরে করুণা,
দেয় অন্ন, দেয় আশ্রয়, দেয় বল।
ঈশ্বর কিছু রাখেননি রিক্ত,
এই ভূখণ্ডে নেই দুঃখের অধিকার —
তবু কেন শিশুর চোখে অভুক্ত জ্বালা,
কেন শ্রমিকের গায়ে ছিন্ন আব্রু ভার?
কেন ধনীর প্রাসাদে মোহনার মতো দীপ্তি,
আর গরিবের ঘরে অন্ধকার নেমে আসে?
কে ছিনিয়ে নেয় ভাগ্য,
কারা বাঁধে ইতিহাসে শ্রেণির ফাঁসে?
লোভের বীজ বপে যে রাজা,
তার সিংহাসন গড়া আমাদের কঙ্কালে —
আমরা যন্ত্রণার গীত গাই
যখন তারা উৎসব করে সুরমহলে।
কোথা থেকে শুরু হয় এই হিংস্রতা?
চলার পথে রক্ত কেন এত নিঃসঙ্গ?
১৮৮৬—শিকাগোর বুকে
উঠেছিল এক বজ্রনিনাদ, এক উজ্জ্বল সংজ্ঞা।
“আমরা যন্ত্র নই! আমরা মানুষ!”
শ্রমিকের মুখে প্রথম ধ্বনি —
অধিকার চাই, জীবনের মান চাই,
ঘামের দামে নয় শৃঙ্খল বরণ!
হে মার্কেটের সেই মিছিল,
রক্তে লিখেছে মে দিবসের মহাকাব্য —
যেখানে প্রতিটি প্রাণ বলেছিল:
“বাঁচো মর্যাদায়, মৃত্যুকেও করো অলঙ্কার।”
তাদের রক্তে ভিজেছে লাল নিশান,
তাদের বুকে জেগেছে আগুনের গান,
তাদের হাতেই প্রথম ইতিহাস
মানবতাকে দেয় নতুন মান।
আজও মে এলে, গর্জে ওঠে হৃদয় —
গান গায় মাটির, লাঙলের, হাতুড়ির,
শ্রমিকের ডাকে ধ্বনিত হয় বেদনার জল,
স্বপ্ন দেখে রাত্রির ফাটলভেদী প্রহরীর।
যারা গড়ে দেয় অট্টালিকা,
যারা তোলে সেতু, যারা ফলায় ধান —
তাদেরই মুখে নেই অন্নের হাসি,
তাদেরই ছায়া অদৃশ্য সনমান।
শোষকরা আজও বয়,
চাতুর্যের চাদরে নয়া শৃঙ্খল —
তবু তমসা ভেদ করে আবারো
শুরু হয় প্রতিরোধ, কলরোল!
ওঠো, মেহনতি জনতা,
তোমারই হাতে আগামী পৃথিবীর মানচিত্র —
শ্রমের ধর্মে গড়ো নতুন সভ্যতা,
ভাঙো দাসত্বের ঘুণপোকা নিঃশব্দ চিত্র।
মে দিবস হোক দীপ্ত শপথ,
সমতার, মুক্তির, মর্যাদার বার্তা —
গর্জে উঠুক কবিতা, মিছিলে, সংগীতে,
শোষিতের হৃদয়ে হোক সঙ্ঘবদ্ধ রথযাত্রা।
—oooXXooo—
![]()







