তাল হারা সেই গতির সওয়ার
শ্রী নীলকান্ত মনি
গতির তালে ছুটতে গিয়ে, বেদম হয়ে
হাঁপিয়ে পড়ে, খাপছাড়া এক জগৎ হয়ে
পাড়া-গাঁয়ের পথ উপর দিয়ে,
বোধ হয়, তারা
আজও বা পথ হাঁটে! তাদের
চিনতে পারলে না কি!?
হতে ও পারে!
পেরিয়ে গেছে অনেক টা কাল,
তাল হারা
সেই গতির সওয়ার,
লুকিয়ে তাই লজ্জ্বিত মুখ ঢাকে!
কি করে বা
দেখতে পাবে তাকে!
তারা কারা!? বলে দিতে হবে!
নাকি! একটু না হয় ভাবো,
সময় নিয়ে,
খুঁজলে দেখা পাবে!
মনের দুয়ার খোলা রাখো!
হয়তো তারা স্মৃতির দুয়ার নাড়ি
দিচ্ছে উঁকি-ঝুঁকি,
একটু খানি
ভালোবাসা খুঁজি!
একটু একটু করে
চোখের ’পরে ছবি তাদের
ভেসে উঠছে না কি!
কুমোর পাড়া! গোরুর গাড়ি!
বোঝাই করা কলসী হাড়ি!
বলদ জোড়া!
নাইকো তাড়া তাদের তেমন!
শ্লথ গতি, গাড়ির তলায়,
ঝুলিয়ে কুপি রাতের বেলায়
দূর পথে সে দিতো পাড়ি
কালের ভেলায় চড়ি!
ঐ যে
যারা নিশ্চিন্তে পথ হাঁটে!
সেসব শুক্রবার, পদ্মা পারে
বক্সীগঞ্জের হাট,
জিনিস-পত্র জুটিয়ে আনা
গাঁয়ের যতো চাষী,
দামাদামি হাঁকাহাঁকি
মনে পড়ছে না! বলো কি!
যাদের কথা
ছবির মতো থাকতো আঁকা
যেন সেসব
চোখের ’পরে সাজিয়ে রাখা!
তাদের কথা ভুলেই গেলে!
নাকি!
তাদের কথা,
মনে
পড়ছে নাকো মোটে!?
নাহ্! তোমায় বলিহারি!
তোমার দুটি পায়ের ’পরে
শত কোটি গড় করি!
আহা, কথার কি ছিরি!
মনের কি দোষ! কোন সে
ছোটো বেলায় দুলে দুলে পড়া!
তারপর,
হয়েছি যে-ই গতির সওয়ার
তালগোল সব পাকিয়ে গেলো!
উঁহু, দেখতে তাদের
পাচ্ছি না তো ভালো!
ব্যস্ত মনের সকল দুয়ার আঁটা!
কি সব যেন চোখের সামনে নাচে!
অনুভূতির সূক্ষ্ম সে তার বুঝি
গতির মোহে
ভোঁতা হয়ে গেছে!
কি আর করি!
কুশ-লব
শান্ত সুখের ঘরকন্নার
আকর সেসব
জাফরি কাটা আলোর ছবি
সকাল বিকাল
দুয়ার আগলে থাকতো পড়ে
আলতো করে আঁকা! ভাই!
গতির স্রোতে হারিয়ে যাওয়া তাদের,
ফিরিয়ে আনি, এমন শক্তি নাই৷
—oooXXooo—
![]()







