এদিকে তো লাগল লাঠি ফাটাফাটি অবস্থা। গিন্নির আস্ফালন দেখে কে। বললে “তোমার সাহস তো কম নয়। আমার স্বামীর দিকে হাত বাড়িয়েছো। আমাদের সংসারে প্রবেশ করেছো! খুব আস্পর্ধা দেখছি”। কুহকিনী একটা ঠ্যালা দিলে । বললে “তুমি কোথা থেকেই বা জুটলে। আর ওই ভ্যাবা গঙ্গারাম আবার প্রেম করতে পারে আমার বিশ্বাস হয় না। তোমার মতলব কী? আর এই বয়স পর্যন্ত ওই বুড়োটার জন্য পড়ে আছো কেন?”
ঐন্দ্রিলা বললে “আসলে টেলিপ্যাথি বোঝেন? কদিন থেকেই আমার মন বলছে আমার ননী খুব বিপদে আছে। আমার অন্তরাত্মা কাঁদছে। আমাদের ভালোবাসার মধ্যে কোনও খাদ নেই। কথনও ওর টাকার জন্য তো ভালোবাসিনি। শুধুই ভালোবাসা আমাদের। গঙ্গার উপরে পবিত্র লঞ্চ এ বসে বাদামভাজা খেতে খেতে পবিত্র ভালোবাসার বন্ধনে আমরা। আজ পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই আমাদের আলাদা করে”।
কুহকিনীর মা বললে “আচ্ছা হেজরলেগা তো তুমি। ওর ধর্ম পত্নী আছে। এখনও ছাড়াছাড়ি হয় নি। এখন তোমার কী ক্ষমতা শুনি?” ঐন্দ্রিলার চোখে জল। ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে সে। বলে ভালোবাসা ছাড়া আর আছে কী?আর ননীগোপাল এই মুহূর্তের মধ্যেই যেন বীরপুঙ্গব । সে গটগট করে বাড়ি ঢুকে বলল “কেমন আছো ঐন্দ্রী। এই কবছরে কত পরিবর্তন তোমার। চলো আমরা এখান থেকে যাই। এ সংসারের কেউ আমাকে চায় না। আমাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করে। চলো। তোমার সাথেই বাকি জীবন কাটাই”।
সবাই চুপ। গিন্নির কান্না থামে না।ডাক ছেড়ে বলতে থাকে “ওগো আমার কী হবে গো। এই কুলাঙ্গার ছেলের কথায় আমার কী ভীমরতি হয়েছিল। আর কখনও এমন হবে না গো”। কুহকিনীর মা আর কুহকিনী বললে “এখানে কাবাবের হাড়টি হয়ে থেকে লাভ নেই। চললাম বেণীমাধব। “ ঐন্দ্রিলার হাত ধরে অনেক আশা নিয়ে ননীগোপাল ঘর বাঁধতে গেল। রাস্তায় এসে ঐন্দ্রিলার চুলে হাত বুলোতে বুলোতে কখন যে নকল চুলটা হাতে এসে গেছে কিছুক্ষণ পরে খেয়াল হল। তার মানে ঐন্দ্রিলার বেশে ভবেশ এসেছে। কান্না পেল ননীগোপাল এর। বললে। আমার জীবনে কিছুই নেই। ঐন্দ্রিলার খোঁজ এনে দে আমায়।এখন আপনাদের হাতে বিচারের ভার দিলাম। ননীগোপাল এখন কী করবে?ও কী সংসারের মধ্যেই ফিরবে নাকি ঐন্দ্রিলার খোঁজ করে যাবে? বিদগ্ধ পাঠক এর জবাব এর অপেক্ষাতেই থাকলাম। নমস্কার।