দানবদের পরাহত
— মণিকা দাস
আমার চারিদিকে দানবের তাণ্ডবনৃত্য,
চারিদিকে ধ্বংসের উন্মত্ততা।
আমি সেই দানবের দমন করতে লিপ্ত হলাম,
কিন্তু পাশে কেউ নেই—
তবুও আমি যুদ্ধে অবতীর্ণ হলাম।
আমার পাশে এক ছোট্ট শিশু,
আমারই গর্ভ থেকে যার সৃষ্টি।
দানবের রক্ত তার শরীরে,
তবুও মায়ের আত্মরক্ষায়
সেই দানবের রক্তই যেন
মমতার আঁচলে মানুষ হয়ে উঠল।
সে বলে উঠল—
“তোমরা ভুল! তোমরা ভুল!
তোমরা আমার মাকে কেন ধ্বংস করতে চাইছ?
কেন?
কী অপরাধ করেছে আমার মা,
যে তোমরা তাঁকে ধ্বংস করতে উদ্যত?”
সেই নিষ্পাপ শিশুর মুখের আকুতি,
তার সরল কথাগুলো—
পাথরকেও যেন গলিয়ে দিতে পারে।
তার চোখের ভাষা,
তার কণ্ঠের আর্তি,
কোনও কঠিন হৃদয়কেও কি
এক মুহূর্তের জন্য স্পর্শ করে না?
তবুও তারা থামল না।
আমাকে পরাহত করার জন্য
তারা একের পর এক
আঘাত হানতে লাগল।
আর সেই নিষ্পাপ শিশুটি
আমার হাত শক্ত করে ধরে
আমার পাশে এসে দাঁড়াল।
আমার দিকে তাকিয়ে সে বলল—
“মা, আমি তোমার সঙ্গে আছি।
তোমার সঙ্গে আছি, মা।
তুমি ভয় পেয়ো না,
আমি তোমার পাশেই আছি।”
এই পৃথিবীতে,
এত প্রতিকূলতার মাঝে,
এত দানবের উন্মত্ততার বিরুদ্ধে
একটি ছোট্ট হাতের এই আশ্বাসের চেয়ে
বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?
যে পৃথিবী আমাকে পরাহত করতে চায়,
সেই পৃথিবীর বুকেই
আমার সন্তান আমার হাত ধরে বলে—
“মা, আমি তোমার সঙ্গে আছি।”
বলুন তো,
এই পৃথিবীতে এর চেয়ে বড় শক্তি
আর কী হতে পারে?
এর চেয়ে বড় ভালোবাসা
আর কী হতে পারে?
এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি
আর কী হতে পারে?
—oooXXooo—

![]()







