বেদনার ধ্বনি প্রতিধ্বনি
শ্রী নীলকান্ত মণি
জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো৷
বাঁশ আর বাঁশী দু’ জনে তারা
কবে আর এক হলো৷
বাঁশী-র জন্মের কূল হলেও বাংশ-মূল
যবে থেকে উঠেছে সে বংশী হয়ে
উপযুক্ত সঙ্গী পেলে
উঠেছে সে বেজে
সুরে৷
তাই নিয়ে বাঁশী কে
দোষ দেওয়া যায় নাকি!
দোষ দেওয়া যায় নাকো
বাঁশ কেও৷
হলেও আছোলা
যেচে নিজে থেকে সাধন করেছে
কারো ক্ষতি, এমন ধারণা
তার কাপালে সেঁটে দেওয়া
বাড়াবাড়ি হবে না কি!
পায়ের নূপুর৷
মঞ্জীর-নিক্বন উঠে ছিলো বাজি
চরণের স্ব-জন সে
ছিলো যতক্ষণ৷
তারেই বা কী করে
দোষী বলে সাব্যস্ত করি!
গাগরী শূন্য ছিলো৷ যমুনা বারি
তাই তাকে
পূর্ণতা দিয়ে ছিলো৷
যমুনা কে তবে
কেন অকারণ দোষী করা!
যমুনা বুকে
আকাশ হুমড়ি খেয়ে পড়ে ছিলো৷
যমুনা বুকের
গভীর স্পর্শ পেয়ে
যদি সে কখনো হয়ে ওঠে
নীলাম্বরী শাড়ি পরিহিতা সুবেশা
নারী রাধারাণী
তাতে ও
তাতে তো দেখি না এমন কোন ত্রুটি
যাতে তাকে দোষী বলে
ধরে নিতে পারি৷
আজ
যদি সে বাশীতে সুর না ওঠে
যদি চরণে নূপুর সুরে
না নেচে ওঠে
গাগরী বারি চলনের তালে
যদি তাল
না মিলিয়ে চলে
অযথা চলকে ওঠে
যদি শূন্য বারি শুষ্ক যমুনা-বুকে
নভ নীল সুগভীর ছায়া
তারে বিড়ম্বিত করে
শাড়ী হয়ে জড়িয়ে না ধরে
তবুও যে সময়ে তারা
সঙ্গী ছিলো, রাধারাণী অঙ্গ ছুঁয়ে
আনন্দিত ছিলো, সেই অনুভূতি
তারে কী বলে ছোটো করি৷
উপলব্ধি যদি এবে
দু’ জনের গণ্ডী মুক্ত হয়ে
সে রাধারাণী-র হৃদয় অনুভূতি,
অসীম ভালোবাসা
ছুঁয়ে ছে অম্বর তল
সে সব তখন ভ্রান্তি ছিলো —
এই অবেলায়
কী বলে তাদের দূরে ঠেলে ফেলি
বোঝা দায়৷
তাদের উপস্থিতি, কোন কালে
রাধারাণী হৃদি কূলে
আনন্দের যে ঢেউ তুলে ছিলো
ছিলো তা কি তবে
নিতান্তই
মিথ্যা অনুভূতি!
তা কি হতে পারে৷
সে চলে গেছে বলে কি গো
স্মৃতিও হায় যায় ভোলা, ওগো মনে হলে
তারি কথা মর্মে সে মোর দেয় দোলা৷
—oooXXooo—
![]()







