নয়াদিল্লি, সংবাদ প্রতিবেদন: ভারত আর কেবল আক্রমণের অপেক্ষা করবে না, বরং বিপদ আসার আগেই শত্রুকে গুঁড়িয়ে দেবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করল দেশের প্রথম ‘ইন্টিগ্রেটেড অফিশিয়াল অ্যান্টি-টেরর স্ট্র্যাটেজি এন্ড পলিসি’, যার পোশাকি নাম ‘প্রহার’ (PRAHAAR)।
জম্মু-কাশ্মীরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক নাশকতামূলক চেষ্টা এবং বিদেশের মাটি থেকে পরিচালিত সাইবার থ্রেটের প্রেক্ষাপটে এই নয়া নীতিকে ভারতের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে আমরা ডিকোড করব কী এই ‘প্রহার’ এবং কীভাবে এটি বদলে দেবে ভারতের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা।
‘প্রহার’ (PRAHAAR) কী?
এতদিন ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপগুলো ছিল মূলত ‘রিঅ্যাক্টিভ’ বা প্রতিক্রিয়াশীল। অর্থাৎ ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হতো। কিন্তু ‘প্রহার’ পলিসির মূল মন্ত্র হলো— “Strike Early, Strike Decisively, Strike Lawfully” (আগে আঘাত করো, চূড়ান্ত আঘাত করো এবং আইন মেনে আঘাত করো)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে তৈরি এই পলিসিটি মূলত ৭টি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে (P-R-A-H-A-A-R):
১. Prevention (প্রতিরোধ): ড্রোন মনিটরিং এবং এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে বর্ডারে নজরদারি বাড়ানো হবে। শুধু অস্ত্র নয়, আর্থিক লেনদেন (Terror Funding) এবং ডার্ক ওয়েব-এর ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে হামলার আগেই ছক বানচাল করা হবে। ২. Response (প্রতিক্রিয়া): এনআইএ (NIA), এনএসজি (NSG), এটিএস (ATS) এবং স্থানীয় পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি একক ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে। ৩. Aggregating Internal Capability: জওয়ানদের মডার্ন ওয়ারফেয়ার, সাইবার হ্যাকিং এবং এআই ট্রেনিং দিয়ে আরও শক্তিশালী করা। ৪. Human Rights (মানবাধিকার): সন্ত্রাসীদের দমনে যাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে বিপাকে পড়তে না হয়, তার জন্য আইনি প্রক্রিয়ার কঠোর নথিভুক্তি নিশ্চিত করা। ৫. Attenuating Enabling Conditions: যুবকদের ব্রেনওয়াশ বা র্যাডিকালাইজেশন রুখতে ‘রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্প’ বা সংশোধন কেন্দ্র তৈরি করা। ৬. Aligning International Efforts: রাষ্ট্রসংঘের (UN) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং বিদেশি সংস্থাগুলোর থেকে ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং। ৭. Recovery and Resilience: হামলার পর মানুষের মনে ভয় কাটাতে দ্রুত মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিং এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অর্থনীতি (যেমন কাশ্মীরি পর্যটন) পুনরুদ্ধার করা।
কেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
-
বিশাল বাজেট: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পুলিশ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার প্রায় ২১,৭১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
-
জিরো টলারেন্স ফ্রেমওয়ার্ক: এই পলিসিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ভারত কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করে না, তবে নাশকতার বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান হবে ‘শূন্য সহনশীলতা’।
-
প্রযুক্তির লড়াই: গত দু-তিন বছরে সীমান্তে ড্রোন হামলা ও ডার্ক ওয়েবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ফান্ডিং বেড়েছে। ‘প্রহার’ পলিসি সরাসরি এই ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদের কোমর ভাঙতে বিশেষ স্কোয়াড গঠন করেছে।
পাহলগাম ও অপারেশন সিঁদুর
২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহলগাম হামলার পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনুধাবন করে যে বিচ্ছিন্ন সংস্থাগুলো আলাদা আলাদাভাবে কাজ করায় অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতছাড়া হয়ে যায়। ‘প্রহার’ পলিসি সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে। এছাড়াও, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো সফল অভিযানগুলো প্রমাণ করেছে যে স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে শত্রুর ডেরায় নিখুঁত আঘাত হানা সম্ভব। এখন থেকে এই পদ্ধতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলো।
যুবকদের জন্য ‘চায়না মেথড’ রিহ্যাবিলিটেশন?
এই পলিসির একটি চমকপ্রদ দিক হলো—বিপথগামী কিশোর বা তরুণদের (বিশেষ করে যারা পাথর ছোঁড়া বা র্যাডিকালাইজেশনের শিকার) সরাসরি জেলে না পাঠিয়ে বিশেষ ট্রেনিং ও রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। সেখানে তাদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটিয়ে মূল ধারায় ফেরানো হবে, যাতে তারা পরবর্তীকালে সন্ত্রাসীদের সফট টার্গেটে পরিণত না হয়।
পরিশেষে
ভারতের এই নয়া প্রতিরক্ষা কৌশল বা ‘New Defence Strategy’ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ভারত আর ‘সফট স্টেট’ নয়। ড্রোন, এআই এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির এই যুগে ভারত তার সুরক্ষার বর্ম এমনভাবে সাজাল যে শত্রুপক্ষের একটি মাছিও গলতে পারবে না।
#প্রহার_পলিসি #ভারতীয়_প্রতিরক্ষা #সন্ত্রাসবাদ_মুক্ত_ভারত #অমিত_শাহ #নিরাপত্তা #কাশ্মীর #ভারতীয়_সেনা #প্রতিরক্ষা_কৌশল #মোদী_সরকার #দেশপ্রেম
#PrahaarPolicy #AntiTerrorStrategy #IndianDefence #MHA #NationalSecurity #ZeroTolerance #DigitalWarfare #NIA #NSG #ModernIndia #InternalSecurity #CounterTerrorism #IndiaFirst
![]()







