শ্রদ্ধা নিবেদন
সুপর্ণা দত্ত
শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই শ্রদ্ধা করি যাকে
আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি তাই আমার দিদিমাকে।
কর্মসূত্রে বাবা থাকতেন দেশের বাইরে
মা আমাদের ব্যস্ত থাকতেন কর্মে ঘরে-বাইরে।
দুরন্ত দুই মেয়ে সামলাতে একা কি আর পারেন!
সঙ্গী হয়ে দিদিমা আমাদের ঘরেই থেকে গেলেন,
অপূর্ব তার হাতের রান্না স্বাদে ও সুবাসে
মনটা মুগ্ধ হত পিঠে-পুলি-পায়েসে।
স্কুল পথে যাতায়াতে ভারি মজা করতেন
প্রকৃতির দৃশ্য নানা সবার পরিচয় ঘটাতেন।
হাঁটাপথে কোনমতে বোর হতাম না কখনোই
ফুল,ফল,পাখিদের কথা শোনাতেন সদাই।
কেউ যদি কখনও বেয়াদপি করত
চোখ পাকিয়ে তাকে বেদমে মারত,
শ্যেনদৃষ্টি ছিল সদা যেন সতর্ক প্রহরী
আঁচর লাগত না গায়ে আমাদের কোনদিনই।
সন্ধ্যাবেলায় পড়তে বসে চোখ জুড়ত যেই
গল্পের ছলে পড়াগুলো মুখস্থ করাবেই,
রাতে ঘুম যখনই চোখ ছুঁয়ে পালাত
ঘুম পাড়ানি ছড়া-গানে ঘুম পাড়িয়ে দিত।
আজকে বড়োই মন খারাপ দিদিমার কথা ভেবে
ভাবছি মনে আমাদেরকে কে আর সামলাবে,
আকাশ পানে তারার মাঝে আজও খুঁজে বেড়াই
চোখের জলে হৃদয় তলে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
—oooXXooo—
![]()







