সাগরদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: “সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার”—এই টানেই ২০২৬ সালের মকর সংক্রান্তিতে সাগরসঙ্গমে আছড়ে পড়েছে জনসমুদ্র। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এ বছর পুণ্যার্থীর সংখ্যা ৬০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই বিপুল জনজোয়ার সামাল দিতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে পরিবহণ ব্যবস্থা। বিশেষ করে পুণ্যস্নান সেরে বাড়ি ফেরার পথে চরম অব্যবস্থা ও পরিবহণ সংকটের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা।
সরকারি সূত্র এবং স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, মেলা প্রাঙ্গণ ও সাগরদ্বীপ অঞ্চলে পুণ্যার্থীদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে:
-
বাস: প্রায় ২৫০টি
-
ম্যাজিক গাড়ি (ছোট যাত্রীবাহী যান): প্রায় ৫০০টি
-
প্রাইভেট গাড়ি: প্রায় ৩০০টি
যদিও এই পরিসংখ্যান শুনতে বিশাল মনে হলেও, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ের তুলনায় এটি সমুদ্রের এক ফোঁটা জলের মতো বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে কচুবেড়িয়া থেকে সাগর মেলা প্রাঙ্গণের মধ্যে যাতায়াতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুদের।
বাড়ি ফেরার পথে চরম ভোগান্তি
মকর সংক্রান্তির মাহেন্দ্রক্ষণে পুণ্যস্নান সারার পর আসল যুদ্ধ শুরু হচ্ছে ফেরার পথে। লট নম্বর ৮ এবং কচুবেড়িয়া ঘাটে মানুষের মাথা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত বাস ও ছোট গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে পরিষেবা মিলছে না।
বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রচুর পুণ্যার্থীরা এসেছেন গঙ্গাসাগর মেলায়। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এক পুণ্যার্থী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “স্নান করতে আসার সময় যতটা উৎসাহ ছিল, ফেরার পথে সব জল হয়ে যাচ্ছে। বাস পাওয়া যাচ্ছে না, আর যে গাড়িগুলো আছে সেগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই যাতায়াতে।”
ক্ষোভের কারণ কী?
১. অপেক্ষা: স্নান সেরে ফেরার সময় বাসের জন্য ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ২. অতিরিক্ত ভাড়া: অভিযোগ উঠছে, অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি ছোট গাড়ি বা ম্যাজিক গাড়িগুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করছে। ৩. ভেসেল পরিষেবা: মুড়িগঙ্গার নাব্যতা এবং কুয়াশার কারণে ভেসেল পরিষেবা সাময়িক বিঘ্নিত হওয়ায় ঘাটে ভিড় আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি ও প্রযুক্তি
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার ISRO-র NavIC প্রযুক্তি এবং ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ কর্মী। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বলছে, ডিজিটাল নজরদারি থাকলেও মাঠ পর্যায়ের পরিবহণ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন ছিল।
বর্তমানে সাগরদ্বীপের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ভিড় সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। মেলা শেষ হতে আরও দুইদিন বাকি থাকলেও, ফেরার পথের এই বিড়ম্বনা মেলা ফেরত পুণ্যার্থীদের মনে তিক্ত অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে যাচ্ছে।
#গঙ্গাসাগরমেলা২০২৬ #গঙ্গাসাগর #পরিবহণবিপর্যয় #মকরসংক্রান্তি #পশ্চিমবঙ্গসংবাদ #পুণ্যার্থীভোগান্তি #সাগরদ্বীপ #বাংলাখবর #গঙ্গাসাগরস্নান২০২৬ #জনসনুদ্র
#GangasagarMela2026 #GangasagarTransport #WestBengalNews #MakarSankranti #SagarIsland #KolkataNews #GangasagarDiaries #TransportShortage #TrendingNewsIndia
![]()






