সংবাদ প্রতিবেদন, কলকাতা, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: গত কয়েকদিন ধরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে তিলোত্তমা। ১০ বছরের রেকর্ড ভেঙে কলকাতার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০-১১ ডিগ্রির ঘরে। কিন্তু এটাই কি শেষ? পরিবেশবিদদের দাবি, আমরা কেবল উষ্ণায়ন নয়, বরং এক ভয়াবহ ‘বিশ্ব হিমায়ন’ (Global Cooling)-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে আগামী ১০ বছরে কলকাতার তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রিতে নেমে যাওয়া এমনকি ভবিষ্যতে বরফ পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না!
৮৮ বছরের রেকর্ড ভাঙার পথে আবহাওয়া
চলতি বছরে শীতের স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা আবহাওয়াবিদদের অবাক করে দিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ সুজীব করের মতে, এবার শীত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা গত ৮৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিতে চলেছে। সাধারণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই বসন্তের আগমন ঘটে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) ফলে এবার হিসেব উল্টে যেতে বসেছে।
কেন এই অস্বাভাবিক ঠান্ডা?
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী এর পেছনে তিনটি মূল কারণ কাজ করছে: ১. জেট বায়ুর সক্রিয়তা: হিমালয় থেকে নেমে আসা অতি শীতল ‘জেট স্ট্রিম’ এবার দক্ষিণবঙ্গের ওপর অনেক বেশি সক্রিয়। ২. বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ: দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী নিম্নচাপ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল হাওয়াক তীব্রভাবে টেনে আনছে। ৩. রেডিয়েশন ও দূষণ: শহরের মাত্রাতিরিক্ত দূষণ দিনের বেলা শোষিত তাপকে রাতে দ্রুত বিকিরণ (Heat Radiation) করে দিচ্ছে, যার ফলে রাতারাতি পারদ নামছে অস্বাভাবিক হারে।
৫৩৬ খ্রিস্টাব্দের সেই ‘ভয়ঙ্কর অন্ধকার’
ইতিহাস বলছে, কলকাতায় বরফ পড়া একেবারেই অসম্ভব নয়। ৫৩৬ খ্রিস্টাব্দে আইসল্যান্ডের একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে ছাইয়ের আস্তরণ পড়ে গিয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, তখন টানা ১৮ মাস সূর্যের আলো দেখা যায়নি। পৃথিবী জুড়ে নেমে এসেছিল এক দীর্ঘস্থায়ী শীত। সেই সময় কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তুষারপাতের মতো ঘটনা ঘটেছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, বর্তমান জলবায়ু চক্র আবারও সেই ভয়াবহতার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শীতের সাথে ভূমিকম্পের যোগসূত্র – এক নতুন বিপদ!
গবেষণায় দেখা গেছে, চরম আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে ভূমিকম্পের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
-
পরিসংখ্যান: হিমালয় অঞ্চলে শীতকালে ভূমিকম্পের হার গ্রীষ্মের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়।
-
কারণ: বর্ষাকালে বৃষ্টির জলের চাপে ভূ-স্তর স্থিতিশীল থাকে, কিন্তু শীতকালে সেই জল শুকিয়ে গেলে ভূ-স্তরের ওপর চাপ কমে যায় (Rebound Effect), যা ফল্ট লাইনগুলোকে অস্থির করে তোলে। পরিবেশবিদ সুজীব কর সতর্ক করেছেন যে, এই চরম শীতলতা মাটির নিচের তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
২০২৬ চরম গ্রীষ্মের পূর্বাভাস
তবে শীতের এই আমেজ দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি দেবে না। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গসহ দক্ষিণ ভারত এক ভয়াবহ দাবদাহের (Heatwave) সম্মুখীন হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চক্র অনুযায়ী, অতিরিক্ত শীতের পর আসছে রেকর্ড ভাঙা গরম এবং অস্বাভাবিক বর্ষা।
প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণ আসলে আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা। একদিকে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর অন্যদিকে ভবিষ্যতে বরফ পড়ার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে বাংলা তথা বিশ্ব এক বড়সড় ভৌগোলিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
#কলকাতাআবহাওয়া #শীতেরআপডেট #পশ্চিমবঙ্গ #জলবায়ুপরিবর্তন #কলকাতাশীত #ব্রেকিংনিউজ #পরিবেশবিজ্ঞান #ভূমিকম্পেরসতর্কতা #তুষারপাত #২০২৬আবহাওয়া
#KolkataWeather #WinterUpdate #WestBengalNews #GlobalCooling #ClimateChange #KolkataWinter #ViralNews #WeatherForecast2026 #EarthquakeAlert #SnowfallInKolkata #IMDUpdate #SujibKar
![]()






