সংবাদ প্রতিবেদন, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: বিশ্ব অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হলো। গত ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ ব্রিকস (BRICS) জোট তাদের বহুল প্রতীক্ষিত স্বতন্ত্র পেমেন্ট সিস্টেম এবং নতুন মুদ্রা ‘দ্য ইউনিট’ (The Unit)-এর পাইলট প্রজেক্ট লঞ্চ করার ঘোষণা দিয়েছে। আমেরিকার ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য বা ‘ফিনান্সিয়াল দাদাগিরি’র অবসান ঘটাতে এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ব্রহ্মাস্ত্র’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো, এই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ভারতের রুপি (INR) এক বিশাল এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছে।
‘দ্য ইউনিট’ (The Unit) -এর গঠনতন্ত্র
ব্রিকসের এই নতুন মুদ্রা কোনো সাধারণ কাগুজে নোট বা অনিয়ন্ত্রিত ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়। এর গঠনতন্ত্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং স্বর্ণ-সমর্থিত (Gold-Backed)। নিচে এর মূল পরিসংখ্যানগুলি দেওয়া হলো:
-
৪০% স্বর্ণের সমর্থন (Gold Backing): ‘দ্য ইউনিট’-এর মোট মূল্যের ৪০ শতাংশ সরাসরি খাঁটি সোনা বা গোল্ড রিজার্ভের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে ডলারের মতো এটি হুট করে নিজের মূল্য হারাবে না বা ইনফ্লেশনের শিকার হবে না।
-
৬০% ফিয়াট কারেন্সি বাস্কেট: বাকি ৬০ শতাংশ মূল্য নির্ধারিত হবে ব্রিকসের ৫টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশের মুদ্রার ওজনের ওপর ভিত্তি করে।
-
ভারতের রুপি (INR): ১২%
-
চীনের ইউয়ান (CNY): ১২%
-
রাশিয়ার রুবেল (RUB): ১২%
-
ব্রাজিলের রিয়াল (BRL): ১২%
-
দক্ষিণ আফ্রিকার র্যান্ড (ZAR): ১২%
-
-
AI CEO বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ব্যবস্থাপনা: কোনো নির্দিষ্ট দেশের আধিপত্য বা রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে এই পুরো সিস্টেমটি পরিচালনার দায়িত্বে রাখা হয়েছে এক ‘AI CEO’-কে। এই অ্যালগরিদম সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রতিদিনের গোল্ড রেট এবং কারেন্সি রেট অনুযায়ী ‘দ্য ইউনিট’-এর মান নির্ধারণ করবে।
১: ডলারের পতন ও রবার্ট কিয়োসাকির ভবিষ্যদ্বাণী
জনপ্রিয় বই ‘Rich Dad Poor Dad’-এর লেখক এবং অর্থনীতিবিদ রবার্ট কিয়োসাকি (Robert Kiyosaki) সাম্প্রতিক এক টুইটে বলেছেন, “Bye-bye US Dollar!”। তাঁর মতে, আমেরিকা তাদের ঋণের বোঝা ঢাকতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ছাপিয়ে ডলারের মান কমিয়ে দিয়েছে (Dollar Debasement)। ২০২৫ সালের শেষে গুগল ট্রেন্ডে (Google Trends) ‘Dollar Debasement’ শব্দটির সার্চ ভলিউম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিয়োসাকি সতর্ক করেছেন যে, যারা এখনো ডলারে সঞ্চয় করছেন, তারা সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। বিপরীতে, ‘দ্য ইউনিট’-এর মতো গোল্ড-ব্যাকড কারেন্সি নিরাপদ আশ্রয় হতে চলেছে।
২: রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এবং সুইফট (SWIFT) এর বিকল্প
ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আমেরিকা ‘সুইফট’ পেমেন্ট সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে বের করে দিয়ে তাদের কয়েকশো বিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছিল। এই ঘটনাটি গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক বড় শিক্ষা ছিল। ‘দ্য ইউনিট’ চালু হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে (যেমন ভারত-রাশিয়া তেল বাণিজ্যে) আর ডলারের প্রয়োজন হবে না। এটি আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার (Sanctions) ধার পুরোপুরি ভোঁতা করে দেবে।
ভারতের জন্য কেন এটি ঐতিহাসিক জয়?
এতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার মান ডলারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করত। কিন্তু এই নতুন সিস্টেমে: ১. ১২% ভোটিং পাওয়ার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নীতি নির্ধারণে ভারতের ১২% সরাসরি ক্ষমতা বা ‘ওয়েটেজ’ থাকছে। ২. রুপির আন্তর্জাতিকীকরণ: ভারত তার নিজস্ব মুদ্রায় বা ‘দ্য ইউনিট’-এর মাধ্যমে তেল ও গ্যাস কিনতে পারবে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে ডলার জমানোর চাপ কমবে। ৩. স্বর্ণের সঠিক ব্যবহার: ভারতীয়দের ঘরে থাকা বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সোনা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করবে।
২০২৫ সালের এই শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে আমরা এক নতুন অর্থনৈতিক সূর্যোদয় দেখছি। ‘দ্য ইউনিট’ যদি সফল হয়, তবে আগামী দিনে বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ওয়াশিংটন বা লন্ডন থেকে সরে এসে দিল্লি, বেজিং এবং মস্কোতে স্থানান্তরিত হবে। এটি শুধু একটি মুদ্রা নয়, এটি আত্মসম্মানের লড়াই এবং বহুমুখী (Multipolar) বিশ্ব গড়ার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
#BRICS #TheUnit #DeDollarization #GoldBackedCurrency #IndianEconomy #CryptoNews #Geopolitics2025 #US_DollarCollapse #ModiNomics #WorldEconomy #AI_CEO #StockMarketIndia
#ব্রিকস #দ্যইউনিট #ভারতীয়অর্থনীতি #ডলার #সোনা #শেয়ারবাজার #নরেন্দ্রমোদী #জিওপলিটিক্স #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #বাণিজ্য #নতুনমুদ্রা
![]()






