সংবাদ প্রতিবেদন, কলকাতা, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো:
রবিবার সকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড এক অভূতপূর্ব ইতিহাসের সাক্ষী থাকল। সনাতন সংস্কৃতি সংসদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র বাংলা নয়, বরং সমগ্র দেশের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করল। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৫ লক্ষাধিক ভক্ত সমবেতভাবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৮৫টি শ্লোক পাঠ করে এক বিশ্বরেকর্ডের পথে এগিয়েছে।

ভোর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল ও বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার সনাতনী ভক্তদের ঢল নামতে শুরু করে ব্রিগেড ময়দানে। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ঢাক-খোল-করতালের সঙ্গতে ব্রিগেড পরিণত হয় ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার এক বিশাল সমুদ্রে।
এক নজরে ব্রিগেডের মহাযজ্ঞ
এই অনুষ্ঠানটি সফল করতে আয়োজকরা দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নিচে এই মহাযজ্ঞের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু আলোচিত ও জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বরা। মুখ্য অতিথি হিসেবে জ্ঞানানন্দ মহারাজ-জি সভা পরিচালনা করেন। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী এবং পদ্মভূষণ সাধ্বী ঋতম্ভরাজি। তাঁদের বক্তব্য সনাতন ধর্ম ও মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেয় আপামর জনতার মধ্যে।
তবে এই ধর্মীয় সমাবেশের রাজনৈতিক প্রভাবও ছিল স্পষ্ট। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিশাল সমাবেশকে ‘গেরুয়া শিবিরের’ শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য বিজেপির একাধিক হেভিওয়েট নেতা— যেমন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, ও শমীক ভট্টাচার্যকে মঞ্চে দেখা যায়। এছাড়াও, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং গীতা থেকে মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা দেন।
বিতর্ক ও শাসকদলের অবস্থান
রাজ্যের শাসকদলের প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত থাকলেও, আয়োজক সনাতন সংস্কৃতি সংসদ বারবার দাবি করেছে— এই সমাবেশের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের মতে, এটি কেবল আধ্যাত্মিকতার প্রচার। যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বহু মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তাঁদের কেউই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে, আয়োজকদের তরফে কার্তিক মহারাজ বলেছেন, রাজ্য সরকার এই আয়োজনে কোনও বিরোধিতা করেনি, যা একটি ইতিবাচক দিক।
সবমিলিয়ে, কলকাতার ব্রিগেড ময়দান এই শীতে কেবল গীতার শ্লোকে মুখরিত হয়নি, এটি প্রমাণ করে দিল যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বাংলার মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর স্থান দখল করে আছে। এই মহাসমাবেশ রাজ্য রাজনীতিতে ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
#পাঁচলক্ষকণ্ঠেগীতাপাঠ #ব্রিগেডগীতাপাঠ #ধীরেন্দ্রশাস্ত্রী #রামদেব #সনাতনীগর্জন #কলকাতা #গীতাপাঠ #পশ্চিমবঙ্গরাজনীতি #সনাতনসংস্কৃতিসংসদ #BrigadeGitaPath
#GitaPath #BrigadeParadeGround #KolkataGitaRecitation #DhirendraShastri #BabaRamdev #SanatanDharma #HinduNews #WestBengal #ViralNews #GoogleDiscovery
![]()






