হৃদয়ের ছায়াতে-আলোতে
অরবিন্দ নাহা
কবে কোন চোতনার প্রত্যুষে
প্রথম দেখেছিলাম,
তারপর থেকেই আমি তোমাতে বিভোর
স্কুলের গন্ডি পেরোবার পঞ্চান্ন বছর পরও
তোমার উজ্বল উপস্থিতি
আমার অনুভবে-আমার অস্তিত্বে।
সে সময় প্রিয় শিক্ষকরা
সন্তান সম আদরে-শাসনে
ভরিয়ে রাখতো আমাদের
সারাদিনের চালচিত্র।
এখনকার মত অর্থ সর্বস্ব নয়
শ্রদ্ধার বিনিময়ে দান করতো জ্ঞান।
তারই মধ্যে একজন তুমি
ঋজু ,কাঁচা-হলুদ শরীরে
যেন গ্ৰীক দেবতা এ্যাপোলো,
ঘড়ির কাঁটা ধরে স্কুলে আসতে
দুধ-সাদা ধুতি,, সমুদ্র-ফেন ফুল সার্টে
নিজস্ব স্বতন্ত্র ভঙ্গিতে।
মনের একান্ত ভালোবাসা দিয়ে
শ্রদ্ধা আর বিনম্রতায়
হাজার ছাত্রের উপস্থিতি
নিস্তব্ধতা দিয়ে
বরণ করে নিত
তোমাকে।
তোমার অনুপস্থিতি আমাদের দিত এক
অনাবিল স্বাধীনতা
হৈ-হুল্লোরে পালিত হ’ত বাঁধনহারা উৎসব ।
মনের কোণে একান্ত বাসনা
তোমার অসুস্থতা এবং
দীর্ঘ অনুপস্থিতি।
তোমার ক্লাসে পড়া শুরুর আগে…..
আলাপচারিতায় বিশ্ব দর্শন
মজায় মোড়া গল্পের ফুলঝুরি
কিন্তু………….
পড়ার মাঝে ক্ষমা ছিলনা
অমনোযোগী ছাত্রের দুষ্টুমি।
এমনই এক শাসনের
শিকার হয়েছিল “অমল”
এবং আরো কয়েকজন।
তোমার শাসনে তটস্থ সারা স্কুল….
শাসনের দ্রুত অবসানের
প্রার্থনায় ব্যাকুল সবাই।
এভাবেই চলছিল………
হঠাৎই একদিন খবর এলো
তুমি চলে যাচ্ছ অন্য স্কুলে,
আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া নয়
দলা পাকানো এক কান্না
উঠে এলো বুকের মধ্যে থেকে।
বিদায় অনুষ্ঠানে
প্রিয়জন বিচ্ছেদ বেদনায়
তোমার চোখের কোল ভিজতেই
বাঁধনহারা কান্না সংক্রামিত হ’ল
সারা প্রাঙ্গণ জুড়ে,
আমি নির্বাক-নিথর।
হাতের মালা হাতে নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়,
ঠিক তখনই “অমল”এবং আরো কয়েকজন
আছড়ে তোমার পায়ে ,
চোখে কাতর প্রার্থনা
থেকে যাবার অনুরোধ
ব্যাকুলতায় ভরা ।
তুমি দু’হাতে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিলে
প্রিয় ছাত্রের গর্বিত মুখ,
তোমার সারা শরীর জুড়ে
অপূর্ব এক স্নিগ্ধতার দ্যুতি,
যেন কোন মহান শিল্পীর আঁকা
সার্থক ছবি।
**সুভাষ নগর হাইস্কুলের প্রাক্তন বাংলা-শিক্ষক
” মনীষ রঞ্জন ঘোষ”কে মনে রেখেবিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
—oooXXooo—
![]()







