কবিতার অন্তর ভূমি
শ্রী নীলকান্ত মণি
কবি ও কবিতা৷ দুইজন৷
কবিতার গালে
কবি সতৃষ্ণ চুমু এঁকে দিলো৷
পরে, প্রশ্ন করেছিলো—
কবিতা, তুমি কার!?
সে ছল প্রশ্নে তার
কবিতার আঁখি ছলোছল৷
রয় নিরুত্তর৷ কিন্তু, কেন!?
ভাবনা টা
নিরন্তর কবিকে তাড়া করে৷
কবিতাকে বারবার জিজ্ঞাসা করে৷
কবিতা অনড়৷
এক আশ্চর্য ভাবনা হঠাৎ আভাসে
কবির চিত্ত বোধে ঢেউ তুলে দিলো৷
শয়তান এবং ঈশ্বর আলাদা কিছু নয়৷
রাত আর দিনের মতন৷
একটা আছে তাই অন্যটাকে
সহজেই চিনে নেওয়া যায়৷
চিনে নেওয়া হয়৷
তারপর৷
কবিতা যে বাগে আসবে না
সেই কথা বুঝে
ছিলো না ভাবনাতে, তবুও সহসা
ভাবনারা অন্য পথে
বাঁক নিল৷
বললো সে
ভাবনা কবির হলেও, কবিতার ভাষা
এবং চলন কবিতার নিজেরই রচণা৷
কোন কবিতাই যায় নাকো লেখা৷
কবিতা, কবিতারা নিজেরা নিজেই
লেখে নিজেকেই৷
কবি মাত্র নিমিত্তের ভাগী৷
কবি স্বগতোক্তির মতো উচ্চারণ করে—
কবিতা, শেষ পর্যন্ত তুমি
ব্যাখ্যার অতীতই রয়ে গেলে৷
কবিতা
এইমাত্র যে কবি
খাতার পাতায় আঁকলো তোমায়
তোমার সকল সংকেত, সমস্ত ইংগিত
সকল প্রসার, গহনতা
কবির ভাবনা ভূবনের মধ্যে কি ছিলো!?
সত্যি বলতে কি, ছিলো না৷
সত্য মিথ্যা বিচারের উপাও তেমন
কিছু নেই৷
কবির যে ভাবনার পথ ধরে
কবিতা এগিয়ে চলেছিলো
যেই না সে
পাঠকের চোখের সামনে এলো
অমনি সে অন্য রূপ নিলো৷
বিস্মিত কবি
যেই কবিতার প্রতি তার
সপ্রশ্ন দৃষ্টি ফেরালো
কবিতা, বললো না কিচ্ছু টি৷
শুধু, একটুখানি মুচকি হাসি দিয়ে
আড়ালে সরে গেলো৷
কবির আফশোস৷
কবিতা
কেন বা কি জানি
কেবলই পালিয়ে বেড়ায়৷
তাকে যে ভাবে পেতে চায়
কবিতা, কেন জানি বারবার
পথে যেতে
কতকটা যেন অকারণই
চলন পালটায়৷
কবি-হৃদয়ের অনুভব
তার অন্তর্গত সুর
তার সোহাগ বাঁধন
কবিতার নিজস্ব অনুভবে
সে সব মূল্যহীন৷ করে অস্বীকার৷
চেতনার কূলে
কেবলই সে জাগায় বেদনা৷
ধৈর্য, না মানলেও বাঁধ
কবির করার মতন তেমন আর
কিছুই থাকে না৷
অসহায় আর্তনাদ ছাড়া৷
কিছুতেই
কবি তার অন্তরের
সত্যকার নাগাল পেলো না৷
কেন জানি তবুও সে
কবিতাকে ভুলতে পারে না৷
—oooXXooo—
![]()







