বাড়ির খোঁজে
সুপর্ণা দত্ত
শুনেছি মেয়েদের নাকি দু-দুটো বাড়ি হয়
একটা বাড়ি যেখানে সে লক্ষ্মী রূপে জন্ম লয়,
হামা টানা থেকে বাবা-মায়ের আঙ্গুল ধরে হাঁটা,
দাদুর কাছে শোনা দেশ-বিদেশের মনীষীদের বীরগাঁথা,
ঠাকুরমার কাছে রূপকথার গল্প শুনে ঘুমিয়ে পড়া,
স্কুল-কলেজের গন্ডী পেরিয়ে চাকরি করা।
জন্ম থেকে শৈশব-কৈশোর কাটিয়ে যখন সে যুবতী হয়
শুনল সেটা তার বাপের বাড়ি, নিজের বাড়ি নয়,
বিয়ের পর যাবে সে স্বামীর হাতটি ধরে নিজের বাড়ি
জাঁক-জমক করে শুভ মহরতে সজ্জিত হয় বিয়ের পিঁড়ি,
যায় সে মেয়ে জন্মের ঋণ কনকাঞ্জলিতে দিয়ে
সবাই তখন বললো,”থাকিস সুখে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে”।
চোখের জলে নব জীবনের হাজারও স্বপ্ন এঁকে
নববধূ বেশে শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশিল বহু স্মৃতি চেপে রেখে,
মহা সমাগম,হৈচৈ,স্বামীর সোহাগ আর নিত্য নতুন সাজ
শখ আহ্লাদ রক্ষা পেলনা করে শ্বশুর বাড়ির কাজ,
একদিন শোনে শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর মতামত খাটে না
স্বামী-সন্তান, সুখী গৃহকোণে স্ত্রীর অধিকার থাকে না।
বহুকষ্টে ইএমআই টেনে স্বামী-স্ত্রীতে নিজ গৃহকোণ খুঁজে নিল
পাড়ার লোকেরা পাড়া কমিটির সম্পাদিকা করে দিল,
স্বামীও সেদিন বুঝিয়ে দিল সেটা স্ত্রীর বাড়ি নয়
অপমানের আঘাতে সেদিন মেয়ে মর্মাহত হয়,
বছর কুড়ি পরে ছেলে ফ্ল্যাট পেল ভাল চাকরির দৌলতে
বলে,”বিক্রি করে চলো এবার তুমি আমার বাড়িতে”।
স্তম্ভিত হয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর ভাবে মনে
নিজস্ব বলে ঠাঁই নেই মেয়ের কোনোদিন কোনো গৃহকোণে,
চাই একান্ত আপনার একখানা ঠাঁই তাই বেড়িয়ে পড়ল পথে
নিরুদ্দেশ বলে খবর ছড়াল টিভি,ফেসবুক,পেপারেতে,
বুঝল না কেউ নিরুদ্দেশ নয় উদ্দেশ্য তার একটাই
শান্তির নীড় পেতে সেই মেয়ের একটা নিজস্ব বাড়ি চাই।
—oooXXooo—
![]()







