নিজস্ব সংবাদদাতা, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, ২রা নভেম্বর ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: राष्ट्र की सेवा और व्यक्ति निर्माण (জাতির সেবা ও ব্যক্তি নির্মাণ)-এর মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯২৫ সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) আজ ১০০ বছর অতিক্রম করল। এই শতবর্ষ পূর্তি (১৯২৫-২০২৫) উপলক্ষে সম্প্রতি বারাসাত জেলায় দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের উদ্যোগে আয়োজিত হলো এক বিশিষ্ট নাগরিক সম্মেলন। এই অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের গৌরবময় ইতিহাস, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের ওপর আলোকপাত করা হয়, যেখানে সংগঠনটিকে বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সঙ্ঘ-গাথা
সম্মেলনে একটি বিশেষ প্রজেক্টরের মাধ্যমে তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে সঙ্ঘের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
- প্রতিষ্ঠা ও সূচনা: ১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীর পুণ্য তিথিতে ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার (Dr. K. B. Hedgewar) কর্তৃক নাগপুরে সঙ্ঘের সূচনা হয়। সেই সময় মাত্র ৫ জন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই সংগঠনটি আজ লক্ষ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে পরিচালিত।
- বিস্তৃতি ও শক্তি: বর্তমানে সারা ভারতে আরএসএস-এর দৈনিক শাখার সংখ্যা ৫৬,০০০-এরও বেশি। এছাড়াও লক্ষাধিক সাপ্তাহিক ও মাসিক জমায়েত হয়ে থাকে। বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে এর সহযোগী সংগঠনগুলি সক্রিয় রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সঙ্ঘকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা (NGO)’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- দর্শন ও লক্ষ্য: সঙ্ঘের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘ব্যক্তি নির্মাণ’ ও ‘রাষ্ট্র নির্মাণ’। সঙ্ঘ পাঠশালার মাধ্যমে আদর্শবাদী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের মূল ভাবনা হল, ভারতকে পুনরায় ‘বিশ্বগুরু’ রূপে প্রতিষ্ঠা করা।
মঞ্চে বিশিষ্টদের বক্তব্য
সম্মেলনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সঙ্ঘের একনিষ্ঠ সদস্যরা। তাঁরা সঙ্ঘের আদর্শ ও সমাজের প্রতি তার অবদানের দিকগুলি তুলে ধরেন:
ডাঃ প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “আরএসএস কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি একটি জীবনধারা। শতবর্ষের এই মাইলফলক আমাদের আগামী দিনের কাজকে আরও দৃঢ় করতে প্রেরণা দেবে।”
সেবায় সঙ্ঘের ভূমিকা
বিভিন্ন জাতীয় সঙ্কটে আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কেরালায় বন্যাত্রাণ, গুজরাটে ভূমিকম্প বা কোভিড-১৯ মহামারীর সময়েও লক্ষ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক নিরলস সেবা প্রদান করেছেন।
বিশেষ তথ্য: কোভিড-১৯ চলাকালীন, আরএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবকরা দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষেরও বেশি খাদ্য প্যাকেট ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন এবং রক্তদান শিবির আয়োজন করেছেন।
সংকল্প – এক নতুন ভারতের দিকে
এই শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বারাসাতের এই সম্মেলন সঙ্ঘের নতুন সংকল্পের বার্তা দিল। ভারতের সংস্কৃতিকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে প্রত্যেক নাগরিকের হৃদয়ে জনসেবার শিখা প্রজ্জ্বলিত করাই হলো তাদের মূল লক্ষ্য, যার মাধ্যমে ভারত সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরদার করতে পারবে।
![]()






