নয়া দিল্লি, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, হিরণ ঘোষাল: ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদ যোজনার (PMKSY) অধীনে ‘ইন্টিগ্রেটেড কোল্ড চেইন অ্যান্ড ভ্যালু অ্যাডিশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (ICCVAI) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন আনতে চলেছে। বিশেষত ফল, সবজি, দুগ্ধ, মাংস এবং মাছের মতো দ্রুত পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে ফসল-পরবর্তী বিপুল ক্ষতি (Post-Harvest Loss) কমানো এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদ যোজনা-র জন্য অতিরিক্ত ₹১,৯২০ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে, যার ফলে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন চক্রে (২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬) মোট বরাদ্দ ₹৬,৫২০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, ₹১,০০০ কোটি, ৫০টি মাল্টি-প্রোডাক্ট ফুড ইরেডিয়েশন ইউনিট স্থাপনে ব্যবহৃত হবে, যা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের শেলফ লাইফ বাড়াতে সাহায্য করবে।
প্রকল্পের প্রধান পরিসংখ্যান (জুন ২০২৫ পর্যন্ত):
কোল্ড চেইন: খামার থেকে গ্রাহক পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ
এই প্রকল্পের মাধ্যমে খামার স্তর থেকে খুচরো দোকান পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ কোল্ড চেইন পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর প্রধান উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে:
- খামার স্তরের পরিকাঠামো: প্রাক-শীতলীকরণ সুবিধা (Pre-cooling), গ্রেডিং এবং সর্টিং।
- বণ্টন কেন্দ্র (Distribution Hub): মাল্টি-প্রোডাক্ট/মাল্টি-টেম্পারেচার কোল্ড স্টোরেজ, সিএ স্টোরেজ।
- পরিবহন ব্যবস্থা: শীতলীকৃত বা তাপ নিরোধক পরিবহন যান (Reefer Vans/Insulated Tankers)।
- আধুনিক সংরক্ষণ: ফুড ইরেডিয়েশন ইউনিট এবং প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র।
মুখ্য উদ্দেশ্য ও নতুন সংযোজন:
- পোস্ট-হার্ভেস্ট ক্ষতি হ্রাস: ফল ও সবজি, দুগ্ধ, মাংস এবং মৎস্য ক্ষেত্রে অপচয় কমানো। নাবার্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (NABCONS)-এর ২০২০ সালের মূল্যায়ন সমীক্ষাতেও অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমার বিষয়টি উঠে এসেছে।
- কৃষকদের জন্য লাভজনক মূল্য: কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।
- বাজারে পণ্যের সহজলভ্যতা: সারা বছর ধরে গ্রাহকদের কাছে গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া।
- নতুন প্রযুক্তি: আগস্ট ২০২৪-এর নির্দেশিকা অনুসারে মাল্টি-প্রোডাক্ট ফুড ইরেডিয়েশন ইউনিট এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং শেলফ লাইফ বাড়ায়।
নীতিগত পরিবর্তন ও সমন্বয়:
- জুন ২০২২-এর সংশোধন: এই প্রকল্পের আওতা থেকে ফল ও সবজি ক্ষেত্রকে বাদ দিয়ে এটিকে ‘অপারেশন গ্রীনস’ প্রকল্পের অধীনে আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং কৌশলগত বিশেষীকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- সহায়তার ধরন: সাধারণ এলাকায় মোট যোগ্য প্রকল্পের ব্যয়ের ৩৫% এবং কঠিন অঞ্চলে (উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পাহাড়ি রাজ্য ইত্যাদি), SC/ST, FPO এবং SHG-এর প্রস্তাবগুলির ক্ষেত্রে ৫০% পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয় (সর্বোচ্চ ₹১০ কোটি)।
সহযোগী সরকারি উদ্যোগ:
এই প্রকল্পের প্রভাব বহুগুণ বাড়াতে অন্য কয়েকটি উদ্যোগও এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে:
- অপারেশন গ্রীনস (Operation Greens): টমেটো, পেঁয়াজ, আলু এবং আরও অন্যান্য ফল ও সবজির মূল্য শৃঙ্খল স্থিতিশীল করার উপর জোর দেওয়া।
- মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ হর্টিকালচার (MIDH) ও ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড (NHB): হিমঘর (Cold Storage) নির্মাণ ও আধুনিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান।
- কৃষি পরিকাঠামো তহবিল (AIF): ১ লক্ষ কোটি টাকার এই তহবিল ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো তৈরির জন্য ₹২ কোটি পর্যন্ত জামানত-মুক্ত ঋণ এবং বার্ষিক ৩% সুদের ভর্তুকি প্রদান করে।
এই বিপুল বিনিয়োগ এবং সমন্বিত নীতির ফলে আশা করা যায়, ভারতের কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে, খাদ্য অপচয় কমবে এবং দেশের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবেন।
- #কোল্ডচেইন
- #প্রধানমন্ত্রীকিষাণসম্পদযোজনা
- #কৃষকআয়বৃদ্ধি
- #খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ
- #ভারতসরকার
- #ইরেডিয়েশনইউনিট
- #কৃষিবিপ্লব
- #ColdChain
- #PMKSY
- #FarmersIncome
- #FoodProcessing
- #ICCVAI
- #FoodIrradiation
- #MakeInIndia
![]()






