সংবাদ প্রতিবেদন, কলকাতা: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হতেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র বাদানুবাদের মুখে পড়তে হয়। শাসক থেকে বিরোধী, একাধিক রাজনৈতিক দল ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশেষ প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লাখ বৈধ ভোটার রয়েছেন। এদের নাম যাতে কোনোভাবেই বাদ না যায়, সেই বিষয়ে কমিশন বদ্ধপরিকর।
কমিশনের পক্ষ থেকে যা জানানো হয়েছে:
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক SIR-এর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। মূলত নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে:
- BLA এবং নতুন BLO অ্যাপ: সংশোধন প্রক্রিয়ার জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং একটি নতুন ‘BLO অ্যাপ’ তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমেই ভোটার তালিকা তৈরির কাজ হবে। প্রতিটি ভোটারের তথ্য কিউআর কোড (QR Code) সহ ফর্ম হিসেবে প্রিন্ট হবে।
- বাড়ি-বাড়ি ফর্ম বিতরণ: ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এনুমেরেশন ফর্ম তুলে দেওয়া হবে। এই ফর্মগুলি পূরণ করে ভোটারদেরই সই করতে হবে।
- টেবিল টপ এক্সারসাইজ: কমিশন ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার একটি বিশেষ ‘টেবিল টপ এক্সারসাইজ’ করছে। এর উদ্দেশ্য হলো পুরনো ভোটারের সঙ্গে বর্তমান ভোটারের (যেমন: ছেলে-মেয়ে) লিঙ্ক খুঁজে বের করা এবং তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল করা। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভুল ব্যাখ্যার সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে শুধুমাত্র মৃত বা অপ্রাসঙ্গিক ভোটারের নাম বাদ যাবে, কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে না।
- গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:
- খসড়া তালিকা প্রকাশ: ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
- দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা: ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
- চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বদলীয় বৈঠকে বিতর্ক ও প্রশ্ন:
সর্বদলীয় বৈঠকে কমিশনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তোলে যে, ‘বাংলাদেশি জানছেন কীভাবে?’, ‘কোন অধিকারে বলছেন?’ বা ‘কোন ধারায় বলছেন ভারতের নাগরিক নয়?’ – এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্যে কমিশনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার লিঙ্ক খোঁজা এবং তা বাতিল করার প্রক্রিয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
কমিশন সব রাজনৈতিক দল এবং জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছে যে, দেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৩২৬ অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো যোগ্য নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না। ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রতিটি জেলায় হেল্প ডেস্ক চালু করা হবে এবং মাইগ্রেশন পকেটগুলোতে আলাদাভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। ফর্ম পূরণে সমস্যা হলে BLO-দের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ অ্যাপ ও ফোন নম্বরের ব্যবস্থা থাকবে।
এই SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলার ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত হবে বলেই মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
![]()






