পরম পবিত্র দামোদর মাস ভক্তির মহোৎসব
সায়ন মজুমদার
দামোদর মাস, যা সনাতন ধর্মে কার্তিক মাস নামেও পরিচিত, তা হলো ভগবানের কৃপা লাভের এক শ্রেষ্ঠ সময়। এই মাসকে বলা হয় ‘ভক্তির সেল’ (Sale of Devotion), কারণ এই এক মাসে সামান্য ভক্তি নিবেদন করলেও তা অনেক গুণ বেশি ফল প্রদান করে এবং এটি বহু গুণ বড় ভক্তির সমান বলে গণ্য হয়। এটি সনাতনী হিন্দুদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস।
২০২৫ সালের সময়কাল:
-
এই মাসটি সাধারণত একমাস ধরে চলে এবং ২০২৫ সালে এটি অক্টোবর-নভেম্বর মাস জুড়ে পালিত হচ্ছে।
দামোদর মাসের মাহাত্ম্য ও বিশেষ লীলা:
-
এই মাসেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মা যশোদার হাতে বাঁধা পড়েছিলেন, আর এই লীলার কারণে তাঁর এক নাম হয়েছে ‘দামোদর’ (দামের অর্থ দড়ি, উদরের অর্থ পেট)।
-
এই মাসে ভগবানের অনেক লীলা অনুষ্ঠিত হয়। যেমন:
-
গিরি গোবর্ধন পূজা: কৃষ্ণের গোবর্ধন লীলা।
-
রাধা কুণ্ডের আবির্ভাব তিথি।
-
দামোদর ব্রত পালনের প্রধান নিয়মাবলী:
১. প্রদীপ দান (দীপদান):
-
প্রতিদিন সন্ধ্যায় মা যশোদা ও শ্রীকৃষ্ণের (দামোদর) সামনে প্রদীপ দান করা উচিত।
-
উপকরণ: মাটির প্রদীপে ঘি ব্যবহার করা শ্রেয়। তেলের ক্ষেত্রে সর্ষের তেল ব্যবহার করা উচিত নয়, বরং পঞ্চপ্রদীপ অর্থাৎ ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে।
-
বিশেষ ফল: সম্ভব হলে তুলসীর ডাল দিয়ে দীপদান করলে আরও বেশি ভালো ফল পাওয়া যায়। এর জন্য তুলসীর একটি সুন্দর কাঠি ব্যবহার করতে হবে, যার উপরে তুলো মুড়িয়ে ঘি ভিজিয়ে নিতে হবে। তুলসী হলেন ভগবানের সবচেয়ে প্রিয়।
-
দীপারতির নিয়ম: দামোদর মাসের প্রদীপ বা আরতির নিয়ম বিশেষ। ভগবানের আরতি যেভাবে করতে হয়:
-
চরণে: চারবার করে
-
নাভিতে: দুইবার করে
-
মুখমন্ডলে: তিনবার করে
-
সর্বাঙ্গে: সাতবার করে (এই একই নিয়ম যেকোনো প্রদীপ বা তুলসীর ডাল দিয়ে আরতি দেখানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
-
২. অন্যান্য আরতির নিয়ম:
দামোদর আরতিতে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে আরতি দেখানোর সময় নিম্নোক্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করা উচিত:
-
ধূপ: সর্বাঙ্গে সাতবার করে।
-
জল শঙ্খ: শিরোদেশে তিনবার করে এবং সর্বাঙ্গে সাতবার করে।
-
কাপড় বা রুমাল: সর্বাঙ্গে সাতবার করে।
-
পুষ্প: সর্বাঙ্গে সাতবার করে।
-
চামোর ও ময়ূরপঙ্খী পাখা: যতক্ষণ ইচ্ছা দেখানো যেতে পারে।
৩. নাম জপ ও হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র:
-
-
এই মাসে যত বেশি সম্ভব ভগবানের নাম জপ করা ভালো।
-
যারা প্রতিদিন ১৬ মালা জপ করেন, তাঁরা যেন এই মাসে মালার সংখ্যা বাড়ান। ধীরে ধীরে ২০ মালা, ৩২ মালা, ৪০ মালা, ৫২ মালা, ৬৪ মালা—এভাবে মালার সংখ্যা বাড়ানো উচিত।
-
জপের শুরু: নাম জপের শুরুতে অবশ্যই এই মন্ত্রটি বলতে হয়: “জয় শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ। শ্রী অদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ।।”
-
“জয় শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ। শ্রী অদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ।।”
-
-
-
মহামন্ত্র: এই মাসে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করা কর্তব্য: “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।”
-
-
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।”
৪. অন্যান্য সাধন:
-
-
-
-
প্রতিদিন দামোদর অষ্টকম পাঠ করা উচিত।
-
এই মাসের প্রতিদিন ভোরে নগর পরিক্রমা (কীর্তন সহকারে পথ হাঁটা) করলে আরও বেশি ভালো ফল পাওয়া যায়।
-
-
-
এই মাসটি হলো ভক্তিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করার এক সুবর্ণ সুযোগ। সামান্য নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে এই ব্রত পালন করলে সহজেই ভগবানের কৃপা লাভ করা যায়।
—oooXXooo—
![]()







