বারাসাত (উত্তর ২৪ পরগনা), ৩০ শে সেপ্টেম্বর, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: শারদ উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমীর পুণ্য তিথিতে বারাসাতের রামকৃষ্ণ মঠ (নিবেদিতা স্মৃতি ভবন)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী কন্যা পূজা বা কুমারী পূজা। এদিন দেবী দুর্গার এক শুদ্ধ রূপ হিসেবে কুমারী মেয়েদের পূজা দেখতে ও তাঁদের চরণ বন্দনা করতে মঠ প্রাঙ্গণে উপচে পড়ল ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ভিড়। দেবীর মন্ত্রোচ্চারণ ও শঙ্খধ্বনির মাঝে এক অসাধারণ ভক্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা সহস্র মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।



হিন্দু শাস্ত্র মতে, কুমারী কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র শক্তি, মাতৃত্ব ও সৃষ্টির মূল শক্তি রূপে বিরাজ করে। এই পূজার মূল দর্শন হলো—নারীই শক্তির উৎস, এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভক্তি জ্ঞাপন করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। দুর্গা মায়ের মূর্তির সামনে ২ থেকে ১০ বছর বয়সী কন্যাদের দেবী রূপে পূজা করা হয়। কুমারী পূজার সময় পুরোহিতরা বৈদিক মন্ত্র পাঠ করে প্রথমে কুমারী কন্যাদের পা ধুয়ে দেন, নতুন বস্ত্র ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন এবং এরপর আরতি করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, কুমারীর চরণে প্রণাম করলে জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি আসে। কুমারী পূজা দেখতে সকাল থেকেই দূর-দূরান্তের ভক্তরা মঠের দিকে রওনা হন।
এরপর আয়োজিত মহাপ্রসাদ বা ভোগ গ্রহণে আজ মঠে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। বিশেষত ভোগের সময় মঠ প্রাঙ্গণ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
বারাসাত রামকৃষ্ণ মঠের এই আয়োজন প্রতি বছরই বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে। মঠ কর্তৃপক্ষ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা সুশৃঙ্খলভাবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি সামাল দেন। পূজার এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান বিভিন্ন ধর্মের মানুষও। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি নারী শক্তিকে সম্মান জানানোর বার্তা সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
![]()






