মায়ের কৃপা
সুপর্ণা দত্ত
আশ্বিনের শারদ প্রাতে জেগে উঠে দেখি
আকাশে-বাতাসে ভেসে আসছে আনন্দ বার্তা,
গজপৃষ্ঠে অবতারণ করছেন ক্রোধান্বিত দেবী দুর্গা
থেকে থেকে ছাড়ছেন দেবী তার গুরুগম্ভীর নিনাদ।
স্বর্গ থেকে লক্ষ্য করেছেন মর্তের মৎসান্যায় অবস্থা
সর্বক্ষেত্রে জোচ্চুরী আর নিপীড়নে ভরেছে বিশ্বটা,
সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে করছে দ্বন্দ্ব
বানরের পিঠে ভাগের মত ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়ছে নিত্য।
নারী মর্যাদা হচ্ছে লঙ্ঘিত দুষ্কৃতীদের হাতে প্রতিনিয়ত
রক্ষকই হয়ে উঠেছে এখন ভক্ষক তাই সন্ত্রস্ত আজ মর্ত্য,
শিল্প-চাকরী রসাতলে গেছে বেকারত্বে জ্বলছে মানুষ
অনাহারে ধুকছে গরীব আর ধনীরা অর্থের দম্ভে বেহুঁশ।
মর্তে গিয়ে লক্ষ্মী হবে কুক্ষিগত মুষ্ঠিমেয়র হাতে
সরস্বতী লুটাবে ধূলায় আন্দোলনে-মিছিলে জাগবে রাতে,
খারাপ সঙ্গে মত্ত হয়ে মদ্যপ হবে বুঝি কার্তিক-গণেশ
সেই ভয়ে মাতা একাই আসছেন অসুরকে করতে নিঃশেষ।
এমতাবস্থায় চিন্তিত লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্তিক-গণেশ
বুঝেছে তারাও মা’কে নিয়েও নেই কোনো বিপদের শেষ,
মর্ত্যলোকে দেখে আজকাল পুজোর নামে হয়ে চলেছে প্রহসন
তাইতো তারাও ধরেছে অস্ত্র করতে নর রূপী অসুরকে দমন।
ময়ূর,পেঁচক,ইঁদুর ও হংস এগিয়ে এল সঙ্গ নেবে বলে
সিংহ মশাই হুংকার ছেড়ে মায়ের সামনে এলো চলে,
মহিষাসুর এসে বলে,”ত্রিভুবনে আমি একাই শ্রেষ্ঠ অসুর
মনুষ্য জাতির কিবা দুঃসাহস ছাড়ে না ঘটাতে কোনো কসুর।
বছর পরে আসছে উমা সপরিবারে চতুর্দিকে খুশির আভাস
কাশের বনে মাতাল বাতাস ছড়িয়ে দিল ফুলের সুবাস,
চারিদিকে পুজোর আমেজ আকাশ দিল আগমনী বার্তা
ঝগড়া-বিবাদ দূর হয়ে যাক খুশিতে ভরুক ধরিত্রী মাতা।
মর্তবাসীর এই মিনতি রাখিগো মা তোমার চরণে
সারা বছর যেমন-তেমন,খুশি থাকুক সবার মনে,
দুমুঠো ভাত পায় যেন সব,কৃপাদৃষ্টি থাকুক সর্বজনে
পুজোর ক’দিন থাকো মা গো বাপের বাড়ি হর্ষ বদনে।
—oooXXooo—
![]()






