পুনর্জন্ম
স্বপ্না নাথ
কংক্রিটের এই পিঞ্জরে, দমবন্ধ দিনে যাপনে,
সময়ের বয়স ন্যুজ হয়ে আসে,
ঝাপসা চোখে স্বপ্নরা দূরে সরে যায়,
বিদায়ের ঘন্টা বুঝি, ওই আশেপাশে।
যদি থাকে পরজন্ম,
বিশ্বাসে যদি না থাকে অন্তরায়,
আসবো তো আবার ফিরে,
চিরহরিৎ এর এ বসুন্ধরায়।
নদীর পাশে থাকবে চারণভূমি,
প্রান্তে ছোট্ট গ্রাম,
আকাশের সাথে দিগন্তের চির দেখা,
থাকবে তো পাখি , প্রজাপতি,
পুকুরের বুকে মরালের জল রেখা।
প্রথম ঊষায়,নীল,হলুদে,লালে,
ছোট ছোট হাতে থাকবে ফুলের সাজি,
স্বর্ণচাঁপার গন্ধ কুসুম চয়নে,
প্রাণে প্রানে কত উঠবে তো সুর বাজি।
পারানীর ঘাটে, মাঝে মাঝে হাটে,
নর নারী, কচিকাঁচা,
এপার, ওপারে, ডানে আর বায়ে,
জীবনের কেনা বেচা।
কুমোর পাড়ায় কাঠামোয় বাঁধা পল,
মাটির প্রলেপে জাগবে মায়ের আদল,
শিউলি তলায় কমলা সাদার মেলা,
ছেঁড়া মেঘে ভেসে আসবে কাসের শরৎ,
বিদায় নেবে বর্ষা শেষের বাদল।
বাঁশের সাঁকোর ওপারে শীতের সকাল,
কুয়াশায় ঢাকা আবছা খেজুর সারি,
বাঁকে ভাঁড় নিয়ে শিউলি চলবে ওই,
শিশির সিক্ত ঘাসের উপরে মাড়ি।
নতুন গুড়ের গন্ধে মাতাবে বাতাস,
পিঠে, পায়েসের নির্মল ভালোবাসা,
স্বপ্ন তো নয়, স্বজীব ছিল তো তারা,
স্মৃতির কোঠাতে ছিল সময়ের বাসা।
কুলায় ফেরা বিহগের ডানায় সন্ধ্যা নামবে ধীরে,
মাঝি হেরিকেন, পঠন-পাঠনে গোল হয়ে সবে ঘিরে।
কচি কাঁচা চোখে আলো ছায়া আঁকে, জীবন খাতার পাতা,
কিছু না থাকুক, পূর্ণ তো ছিল পরিজনের একাত্মতা।
ফিরে যদি আসি চিনে নেব সেই,
ছেড়ে যাওয়া মেয়ে বেলা।
চলমান ছবি ধরা দেবে এসে,
ছেড়ে যাওয়া পথ চলা।
—oooXXooo—
![]()







