পরস্মৈপদী
শ্যামাপ্রসাদ সরকার
তুমি তো প্রবল শব্দে দেখিয়েছ জলঙ্গী নদী,
যা আদিম, ঢেকে দেয় তা অগভীর দেহপট
ধামসা আর মাদল কাল সারারাত ধরে বেজেছে!
তাই তো নেচে গেল ছিপাদহরের সাঁওতাল যুবতীর দল!
হে পথিক ! তুমি চাঁইবাসা এলে বহড়ুর পাটালি সাথে আনো,
এসব স্মৃতি যেন আজও দোলা দেয় জনান্তিকে এসে,
কবি, তোমার সন্ধানে বারবার কেন ধেয়েছে মন অগুন্তিবার
টলমল পায়ে মধ্যরাতের সেই দামাল কবি কি
এখনো স্বেচ্ছাচারী হতে চাইবে?
কবিতার আখর জেনেছিল মানুষ বড় একা,
কান্না এসে তাই আজও মানুষকে থামতে বলে যায়।
হে কবি, মোরগের লাল ঝুঁটি দেখে,
তুমি লিখে ফেলেছ নির্বেদ অক্ষর সব, মোহিনীমায়ায়
চাঁদ এসে তোমায় একবার ডেকেছিল জনান্তিকে,
আজ তার সবটাই বড় নিবান্ধাপুরী যেন।
শোক, রাগ, অনুতাপ নেই আর কোথাও!
ধলগাছে আদিম অরণ্য হেলে আছে একাকী,
পোস্টম্যান এসে চলে গেছে হৈমন্তিক একাকী আলোয়।
হে কবি! তুমিই বল!
পদ্যের ব্যাভিচার কেন টেনে নেয় গৃহকোণ?
সব ছেড়ে চলে গেলেও
কি কদাচিৎ পদ্যকে ছাড়া যায় বহুজন্মের অবয়বে!
—oooXXooo—
![]()







