দূর্গার আরাধনা
✍️ ড. মদন চন্দ্র করণ
মানুষ প্রশংসা করে
যেন ভোরের শিশিরবিন্দু—
সূর্যের তাপে মিলিয়ে যায়
স্বার্থের আলোয়।
সমালোচনা করে
যেন ঝড়ের হাহাকার—
ক্ষোভের ঝাপটায় কাঁপে
শুকনো পাতার বন্ধন।
নিন্দা করে
যেন সাপের নিঃশ্বাস—
হিংসার বিষ ঢেলে দেয়
নিষ্পাপ ফুলের বুকে।
খাতির করে
যেন মৌমাছি মধুর টানে—
লোভের পাখা মেলে
চারদিকে ঘুরে বেড়ায়।
সম্মান করে
যেন দাঁড়িপাল্লায় সোনা—
অর্থের ভারে ঝুঁকে পড়ে
মানবিক সম্পর্ক।
দান করে
যেন প্রদীপ জ্বেলে নাম উজ্জ্বল করতে—
যশের শিখায় দপদপ করে
পুড়ে ওঠে মন।
তাহলে দূর্গা পূজা কেন?
কিসের আশায়?
হয়তো—
অশুভকে বধ করতে,
যেন কৃষক আকাশের দিকে তাকায়
বর্ষার প্রত্যাশায়।
হয়তো—
অভিমানী হৃদয়কে শুদ্ধ করতে,
যেন নদী ধুয়ে নেয় তীর
অবিরাম স্রোতে।
হয়তো—
অসুরকে জয় করার সাহস পেতে,
যেন রাত শেষে ভোরের আলো
অন্ধকার ভেঙে উঠে আসে।
দূর্গা আসেন—
না শুধু যশের জন্য,
না শুধু স্বার্থের টানে,
তিনি আসেন—
ভক্তির আলোয় অন্তর জাগাতে,
মনের অন্ধকার গলিতে দীপ জ্বালাতে।
সত্যিকারের পূজা তখনই হয়,
যখন অন্তরের প্রদীপ জ্বলে—
যেন কাদাজল থেকেও পদ্মফুল
সুগন্ধ ছড়ায় অনন্ত আকাশে।
—oooXXooo—
![]()







