নিউজ আমার আলো: বর্তমানে প্রযুক্তি যখন মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব আনছে, তখন স্বাস্থ্য পরিষেবাও এর থেকে পিছিয়ে নেই। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ভারতেও এই প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে, এবং অ্যাপোলো হসপিটালস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (GI) বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে, পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগ নির্ণয়ের জন্য এন্ডোস্কপি বা কলোনোস্কপির মতো কষ্টদায়ক এবং সময়সাপেক্ষ পরীক্ষার প্রয়োজন হতো। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তি এবং এআই-এর যুগলবন্দী সেই পদ্ধতির এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। অ্যাপোলোর চিকিৎসকরা AI-চালিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন সব রোগ দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছেন, যা আগে প্রায়শই ধরা পড়ত না।
AI ব্যবহার করে এন্ডোস্কপিক পদ্ধতিতে কোলন পলিপ (Colonic Polyp) সনাক্তকরণের হার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং রোগ নির্ণয়ে ভুলের হার প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এটি কেবল রোগ শনাক্তকরণের গতিই বাড়ায় না, বরং এর নির্ভুলতাও নিশ্চিত করে, যা রোগীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি।
কিছু অত্যাধুনিক পদ্ধতি:
- ব্রেথ ক্যাল (Breath Cal): এটি একটি নন-ইনভেসিভ অর্থাৎ শরীর কাটার প্রয়োজন হয় না এমন পদ্ধতি, যার সাহায্যে রোগীর নিঃশ্বাসের নমুনা পরীক্ষা করে
হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি(Helicobacter pylori) ব্যাকটেরিয়া সনাক্ত করা যায়। এই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত পাকস্থলীর আলসার এবং ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই যন্ত্র নিঃশ্বাসে হাইড্রোজেন ও মিথেন গ্যাসের মাত্রা পরিমাপ করে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া এবং গ্যাসের মতো সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করে। - ট্রানজিমার (Tranzimar) ক্যাপসুল: এই ছোট ক্যাপসুলটি একজন রোগীকে খেতে দেওয়া হয়। এটি পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় পেশী বা পেরিস্টালসিসের (Peristalsis) গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। এর মাধ্যমে অন্ত্রের কোন অংশে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ, তা সহজেই জানা যায়। এরপর একটি সিটি স্ক্যান (CT Scan) করে ওষুধের অবস্থান নিশ্চিত করা হয় এবং সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট চিকিৎসা দেওয়া হয়।
- স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিং সিস্টেম: AI-চালিত এই সফটওয়্যারটি ট্রানজিট টাইম টেস্টের (Transit Time Test) রিপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করে। এর ফলে পরিপাকতন্ত্রের গতি স্বাভাবিক, ধীর নাকি দ্রুত, তা সহজে বোঝা যায়। এই পরীক্ষাটি ২৪ ঘন্টা ধরে ডেটা রেকর্ড করতে সক্ষম।
এই ধরনের প্রযুক্তি কেবল চিকিৎসকদের কাজ সহজ করে না, বরং রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং আরামদায়ক করে তোলে। এটি স্বাস্থ্য পরিষেবাতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যা মানুষকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
#AIচিকিৎসা #কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা #অ্যাপোলোহাসপাতাল #গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি #স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি #চিকিৎসা #AI #স্বাস্থ্য
#AICare #ArtificialIntelligence #ApolloHospitals #Gastroenterology #HealthTech #MedicalAI #Healthcare #Innovation
![]()






