নবীন লেখকদের সমর্থনে আমার ভাবনা
রতন চক্রবর্ত্তী
সমস্ত সাধনার ক্ষেত্রেই সাতটি ধাপ বা চক্র থাকে | যেমন:-মূলাধার চক্র ( যা মেরুদণ্ডের গোড়ায় অবস্থিত , যা মৌলিক চাহিদা বা বেঁচে থাকার প্রতীক ) স্বাধিষ্ঠাণ চক্র ( নাভি বা যোনি অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত , যা সৃজন শীলতা বা আবেগের সংগে সম্পর্কিত ) মনিপুর চক্র (নাভির উপরে সূর্য্য প্লেক্সাস অঞ্চলে অবস্থিত , যা ব্যক্তিগত শক্তি ও আত্মবিকাশ প্রকাশ করে ) অনাহত চক্র ( হৃদয় স্থলে অবস্থিত , যা প্রেম করুণা ও সংযোগের প্রতীক ) বিশুদ্ধ চক্র (গলা বা কণ্ঠে অবস্থিত , যা যোগাযোগ ও আত্ম প্রকাশের সংগে যুক্ত ) আজ্ঞাচক্র (কপালের কেন্দ্রে অবস্থিত , যা অন্তর দৃষ্টি ও প্রজ্ঞার প্রতীক ) সহস্রা চক্র (মাথার শীর্ষে অবস্থিত , যা উচ্চতর চেতনা , আধ্যাত্বিকতা এবং মহা জাগতিকতার সংগে যুক্ত ) | সাহিত্য সাধনার ক্ষেত্রও উক্ত চক্রগুলি প্রযোজ্য | যদি কোন কবি সাহিত্যিক সাহিত্য সধনার আসনে বসে শুধু মাত্র মনিপুরে অবস্থান করতে পারেন তাতেই কেল্লা ফতে | তিনি বিরাট কবি সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যাবেন | আর সহস্রায় পৌঁছতে পারলেতো কথাই নাই | কবি বাল্মীকি , সাহিত্যিক কালিদাস পন্ডিত হওয়া যাবে | যদিও বা এ যুগে তাদের মতো হওয়া সম্ভব নয় | কারণ এ কালের মানুষেরা কেও তাদের মতো মাত্রা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেননি | ভবিষ্যতে করবেন কিনা সন্দেহ |
সম্প্রতি কালে কিছু কাব্য সাধকদের দেখি যারা সপ্ত চক্রের দ্বিতীয় ধাপ বা চক্র পর্যন্ত উঠে ছিটে ফোটা কিছু সুনাম অর্জন করেই নবীন কবিদের সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও ঘুরিয়ে তারা , যেহেতু নবীন কবি সাহিত্যিকরা অর্থের বিনিময়ে নিজের ভাবনার কথা লেখার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য বা নিজের লেখাটা ছাপার অক্ষরে দেখে একটু তৃপ্তির আশায় বিভিন্ন সাহিত্য প্রতিষ্ঠানে লেখা দেন তাদেরকে সাধুবাদ না জানিয়ে , উৎসাহ দান না করে নিজে কত বড়ো কবি সাহিত্যিক পরোক্ষে তা বোঝাবার স্বার্থে নবীনদের অবহেলা করবার জন্য ফেস বুকে লিখে থাকেন , যা কিছু লিখে টাকা দিয়ে ছাপলেই কবি , সাহিত্যিক হওয়া যায় না | এমন কথা বড়োই দুঃখজনক | আমার মনে হয় এমন বাক্য প্রয়োগকারী কবি , সাহিত্যিকরা যদি বেশি দূর নয় একবার মনিপুরে উঠতে পারতেন তবে তাদের মাটিতে পা পড়তো না |
আমি তাই তাদের উদ্দেশ্যে বলি , কাব্যিক বা সাহিত্য রচনার প্রতিভা নিয়ে সকলে জন্মান না | কিন্তু ঘষতে ঘষতে যেমন পাথর ক্ষয় হয় তদ্রুপ খাতার পাতায় কলম ঘষতে ঘষতে একদিন নবীন লেখকদেরও কবি বা সাহিত্যিক হবার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে পারে | কারণ , কমবেশি সৃজনশীলতার ক্ষমতা সকলেরই আছে | হয়তো তারা বিশ্ব বিখ্যাত, দেশ বিখ্যাত, রাজ্য বিখ্যাত নাও হতে পারেন কিন্তু সাধারণ কবি , সাহিত্যিক হতে নিশ্চই পারবেন |
তাই নবীন লেখক , কবি , সাহিত্যিকদের অবহেলা না করে তাদেরকে কাছে ডেকে অহংকারি শিক্ষকের ভূমিকা না নিয়ে প্রকৃত শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে ভুলগুলি সংশোধন করে নবীনদের লেখক, কবি , সাহিত্যিক হতে সাহায্য করা উচিত |
বর্তমান কালের সমাজে অধিকাংশ যুবক-যুবতী যখন অধপতনের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে তখন কিছু চিন্তাশীল শুভাকাঙ্খী সমাজ সচেতন যুবক-যুবতীরা যখন বিপথ গামিতার পথে না গিয়ে কলম ধরেছেন তখন তাদের সাধুবাদ দিয়ে , উৎসাহ দিয়ে কাছে টেনে নিয়ে মহত্বের পরিচয় দেওয়া উচিত |
—oooXXooo—
![]()







