বারাসাত/বসিরহাট/ব্যারাকপুর, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, হিরন ঘোষাল, উত্তর ২৪ পরগনা: মঙ্গলবার, ২৬শে আগস্ট এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমানের একটি প্রশাসনিক সভা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের ১৪টি জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার দুঃস্থ পরিবারের জমির মালিকানার স্বপ্ন পূরণ হলো।
দুপুর ২টোয় শুরু হওয়া এই পাট্টা বিলি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে বারাসাত রবীন্দ্র ভবন, বসিরহাট রবীন্দ্র ভবন ও ব্যারাকপুরের পানিহাটি লোকসংস্কৃতি মঞ্চে উপস্থিত উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি বলেন, “মাটি আর মানুষের সম্পর্ক অটুট। আমরা চাই রাজ্যের প্রত্যেক ভূমিহীন মানুষ যেন মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই পায়। এই পাট্টা শুধু এক টুকরো জমি নয়, এটা তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা এবং অধিকারের নিশ্চয়তা।”
উক্ত অনুষ্ঠানে আজ বারাসাত রবীন্দ্রভবনে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শরৎ কুমার দিবেদী, বারাসাতের মহকুমা শাসক সোমা দাস, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী, জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি ও দপ্তরের আধিকারিক পল্লব পাল, জেলার কর্মাধ্যক্ষ, বিধানসভার বিধায়ক এবং জেলার বিএলএলআরও আধিকারিক।
সরকার সূত্রে খবর, এই পাট্টা কর্মসূচিতে গৃহ, কৃষি এবং বনভূমি— এই তিন ধরনের পাট্টা বিলি করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই পাট্টার মধ্যে বাস্তুহীন এবং উচ্ছেদ হওয়া বহু পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন, যা তাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তার সরকার ২০১১ সাল থেকে ২.২৬ লক্ষ গৃহ পাট্টা, ১.৮০ লক্ষ কৃষি পাট্টা এবং ৪৭,০০০-এর বেশি বনভূমি পাট্টা বিতরণ করেছে। শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই ২৮,৮৪০টি গৃহ পাট্টা, ৮৩২টি উদ্বাস্তু পাট্টা এবং ১,৪৪৩টি বন পাট্টা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও প্রায় ২৪,০০০ পাট্টা বিলি করা হবে।
একই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। তিনি জানান, কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নিজেদের তহবিল থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। বারাসাত রবীন্দ্র ভবনে পাট্টা হাতে পাওয়া এক উপভোক্তা বলেন, “বহু বছর ধরে অন্যের জমিতে বসবাস করছি। এখন নিজের হাতে পাট্টা পেলাম। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
এই পাট্টা বিলি শুধুমাত্র জমির মালিকানা নিশ্চিত করছে না, বরং এর মাধ্যমে ভূমিহীন পরিবারগুলি সরকারি অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা যেমন, ঋণ এবং আবাসন প্রকল্পের সহায়তাও পেতে পারবে। রাজ্য সরকারের এই মানবিক পদক্ষেপ ভূমিহীনদের জীবনে স্বনির্ভরতার নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা যায়।
#WestBengal #MamataBanerjee #PattaDistribution #LandRights #GovernmentSchemes #Development #LandReform #Bengal #ChiefMinister #OnlineProgram #LandOwnership #WelfareScheme #WestBengalGovernment
![]()






