নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট, ২০২৫, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: ভারত ও ফিজির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে আজ নতুন দিল্লিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। ফিজির প্রধানমন্ত্রী সিতিভেনি লিগামামাদা রাবুকার ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সহ মোট সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
যৌথ প্রেস বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন যে, ভারত ফিজির রাজধানী সুভাতে একটি ১০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণ করবে। এই হাসপাতালটি ফিজির চিকিৎসা পরিষেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং সেদেশের জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে। এটি ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভারত তার মিত্র দেশগুলিকে সাহায্য করতে সর্বদা প্রস্তুত।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও মজবুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত এবং ফিজির মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। এছাড়া, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলিতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। এই চুক্তিগুলি ফিজির মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তিগুলিকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, এই পদক্ষেপগুলি ভারত ও ফিজির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। তিনি ফিজির জনগণের প্রতি ভারতের অটল সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, ফিজির প্রধানমন্ত্রী সিতিভেনি লিগামামাদা রাবুকা ভারতের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে এই চুক্তিগুলি ফিজির জনগণের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও বহু ক্ষেত্রে প্রসারিত হবে।
এই চুক্তি স্বাক্ষর দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি শুধু ভারত বা ফিজির জন্য নয়, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
![]()






